অধিনায়ক মিসবাহ উল হককে উপেক্ষা এবং অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদিকে বাদ দেয়ায় ভারত সফরে পাকিস্তানের টি-২০ ও ওয়ানডে দল গঠন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওপেনার ইমরান নাজির ও আরো কয়েকজন খেলোয়াড়কে দলভুক্ত করায় চাপের মধ্যে পড়েছেন নির্বাচকরা। তবে নির্বাচকদের যুক্তি—চলমান ঘরোয়া মৌসুমে তাদের অসাধারণ পারফরমেন্সের কারণে দলভুক্ত করা হয়েছে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মিসবাহ উমর আকমলের পরিবর্তে শহীদ আফ্রিদিকে দলে চেয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচকরা তার পরামর্শ প্রত্যাখ্যান করেছেন।’ সূত্রটি আরো জানায়, ‘মিসবাহর যুক্তি ছিল সাম্প্রতিক সময় ভাল ফর্মে না থাকলেও আফ্রিদি একজন ম্যাচ উইনার খেলোয়াড় এবং ভারত সফরে অত্যন্ত চাপের মধ্যে তার অভিজ্ঞতা দলের জন্য যথেষ্ট সহায়ক হবে। দ্বিতীয়ত অতীত পারফরমেন্সের কারণে তার উপস্থিতি ভারতীয়দের চাপে ফেলবে।’ তবে আগামী বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে দল পুনর্গঠনের বিবেচনায় নির্বাচকরা আফ্রিদিকে ওয়ানডে দলে রাখেননি।
সূত্র জানায়, ‘মিসবাহর যুক্তি ছিল যেহেতু তারা টি-টোয়েন্টি দলে আফ্রিদিকে রেখেছে তাই তাকে ওয়ানডে দলেও সুযোগ দেয়া উচিত।’ কয়েক মাস আগে শ্রীলংকায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভাল না করা সত্ত্বেও ওপেনার নাজিরকে টি-২০ দলে রাখার জন্য বাইরে থেকে প্রচণ্ড চাপ ছিল।
‘অনেকেই চেয়েছেন নাজিরকে নির্বাচকরা আর একটা সুযোগ দিক। কিন্তু নির্বাচকরা তার পরিবর্তে আহমেদ শেহজাদকে আরেকটি সুযোগ দিতে চেয়েছিলেন।’ আরেকটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে—ভবিষ্যতে পাকিস্তান দলে তার ভবিষ্যতের জন্য ভারত সফরে দুটি টি-২০ ম্যাচ তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে নির্বাচকরা আফ্রিদিকে জানিয়ে দিয়েছেন। মজার বিষয় হচ্ছে অপর সিনিয়র অলরাউন্ডার আব্দুল রাজ্জাক অথবা ফাস্ট বোলার মোহাম্মদ শামিকে বাদ দেয়ায় তেমন কোন বিতর্ক দেখা যায়নি।
সূত্রে জানা গেছে, ‘রাজ্জাকের বিষয়টি সামনে আসলে শ্রীলংকা সফরের পর দেশে ফিরে হাফিজের অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনার জন্য তাকে শাস্তি দেয়া হয়েছে।’ তবে নির্বাচকদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, ভবিষ্যতের জন্য তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ সৃষ্টি করতে রাজ্জাককে বাদ দেয়া হয়। ‘আসাদ আলীকে দলে নেয়ার কারণ হচ্ছে সে একজন ভাল মিডিয়াম পেসার এবং ভাল ব্যাটসম্যান। তাছাড়া সদ্য সমাপ্ত জাতীয় টি-২০ লীগে সে ভাল করেছে, ১৫ উইকেট নিয়েছে।’ —বাসস/পিটিআই
