একটু যত্ন নিন মধ্য আয়ের দেশের স্বপ্ন পূরণ করব

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:০১
চলমান বিদ্যুত্ ও গ্যাস সংকট সমাধান, অবকাঠামো উন্নয়ন আর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দিতে পারলে আগামী ২০২০ সালের মধ্যে তৈরি পোশাক খাতে ৫ হাজার কোটি ডলারের রফতানি আয় অর্জন করা সম্ভব বলে মনে করেন উদ্যোক্তারা। তারা বলেন, বড় রফতানিকারক দেশ চীন ধীরে ধীরে এ খাত থেকে সরে আসার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য বিশাল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এ সম্ভাবনা ধরতে আমরা কতটুকু প্রস্তুত? গতকাল বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তৈরি পোশাক উত্পাদক ও রফতানিকারকদের আন্তর্জাতিক মেলা বাটেক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ প্রশ্ন রাখেন। তৈরি পোশাক উত্পাদক ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আলোচনায় অংশ নিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি মহিউদ্দিন বিদ্যুত্ ও গ্যাস সমস্যা সমাধানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ উত্পাদনে সরকারকে দ্রুততার সাথে সিদ্ধান্ত নেয়ার আহ্বান জানান। তিনি উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের সমালোচনাকারীদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, কারো বক্তব্যে বিভ্রান্ত না হয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিন। মোহাম্মদ আহাম্মদরা বক্তব্য দিতে পারবে কিন্তু ৫ জনেরও চাকরি দেয়ার ক্ষমতা নেই। একটু যত্ন নিন ২০২১ সালের মধ্যে এই শিল্প মধ্য আয়ের দেশের স্বপ্ন পূরণ করবে। এছাড়া দ্রুততার সাথে মুন্সিগঞ্জের বাউশিয়ায় শিল্প পল্লী স্থাপনের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, অনেক শিল্প ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। এসব শিল্প রাজধানীর বাইরে স্থানান্তর করা দরকার। এছাড়া রুগ্ন শিল্পকে রক্ষায় সরকারি উদ্যোগ, শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ও বাসস্থান এবং কারখানার মধ্য ও নিম্ন পর্যায়ের ব্যবস্থাপনার মান উন্নয়নে সরকারের সহায়তা চান তিনি। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত শ্রমিকদের জন্য রেশনিং অব্যাহত রাখা হবে বলে জানান। এছাড়া বাসস্থানের জন্য সহজ শর্তে ঋণ দেয়া হবে। তিনি বলেন, গত সাড়ে তিন বছরে সরকার এ খাতের জন্য অন্তত ৬টি বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। অন্যান্য সমস্যার ক্ষেত্রে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে চাই। তিনি বলেন, আগামী ২০১৭ সালের পর দেশে জ্বালানির কোন সংকট থাকবে না। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, বাণিজ্যমন্ত্রী জি এম কাদের, নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, বিজিএমইএর সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, ফারুক হাসান ও এস এম মান্নান কচি প্রমুখ।