অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম টেস্ট জয়ে এবার মরিয়া লংকার ‘বুড়ো’রা

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:২১
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের লক্ষ্যে ‘সোনালী প্রজন্মের’ উপর আস্থা রেখেই তিন ম্যাচ সিরিজে আগামীকাল শুক্রবার প্রথম টেস্ট খেলতে মাঠে নামছে শ্রীলংকা ক্রিকেট দল। সফরকারীদের রয়েছে ত্রিশোর্ধ্ব মাহেলা জয়বর্ধনে, কুমার সাঙ্গাকারা, তিলকারত্ন দিলশান এবং থিলান সামারাবীরার সমন্বয়ে গঠিত ব্যাটিং লাইনআপ। লংকান দলটির সামনে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে গত ২৫ বছর ধরে জয়হীন থাকার খরা কাটানোর সুযোগ। লংকানরা এ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় ১০টি টেস্ট খেলেছে। আইসিসির বর্ষসেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হওয়া ৩৫ বছর বয়সী সাঙ্গাকারার এটাই শেষ অস্ট্রেলিয়া সফর কিনা সেটা নিশ্চিত নয়। তবে দলের একজন সিনিয়র সদস্য হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে একটা টেস্ট ম্যাচ জয় করাই তার প্রধান লক্ষ্য। হোবার্টে সাঙ্গাকারা বলেন, ‘যখন আপনার বয়স বেড়ে যাবে সে সময় আপনি যেখানে কখনো জিততে পারেননি, সেখানে জয় পেতে চাইবেন। অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে আমরা এখনো টেস্ট জিততে পারিনি। দিলশান, মাহেলা, সামারাবীরা ও আমার মতো খেলোয়াড়দের এটাই প্রধান লক্ষ্য। দলের মধ্যে আমরাই সবচেয়ে সিনিয়র খেলোয়াড়। তবে আমরা জয় পাই কিংবা না পাই, মূল বিষয় হচ্ছে দলের জন্য অবদান রাখতে পারা।’ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ১৯৮৮ সালের প্রথম দিকে প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ার পর শ্রীলংকা আরও সাতবার পাঁচদিনের খেলায় পরাজিত হয়েছে। ২০০৪ সালে লংকানরা দটো টেস্ট ড্র করতে সক্ষম হয়। ভারতের মাটিতেও এখন পর্যন্ত টেস্টে জয় পায়নি লংকানরা। এখন মাইকেল ক্লার্কের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে কোন জয় পাওয়া নির্ভর করছে শ্রীংলংকার ব্যাটসম্যানদের অনেক বেশি রান সংগ্রহের ওপর। এদিকে রিকি পন্টিং অবসরে যাওয়ার পর প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়ের আশা করছে টেস্ট র্যাংকিংয়ে তৃতীয় স্থানের দল অস্ট্রেলিয়া। টেস্ট ক্রিকেট থেকে ল্যাসিথ মালিঙ্গা, চামিন্দা ভাস এবং ৮০০ উইকেট শিকারী মুত্তিয়া মুরালিধরন অবসর নেয়ায় এবং ১৬ টেস্টে ৬২ উইকেট শিকারি আনঅর্থডক্স স্পিনার অজন্তা মেন্ডিজ এ সফরের জন্য দলে না থাকায় লংকানদের বোলিং আক্রমণ অনেকটাই দুর্বল হয়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে একটা টেস্ট জয়ের সুযোগ হয়তো বা আর নাও হতে পারে বলে স্বীকার করেন ৩৬ বছর বয়সী দিলশান। তার নিজের এবং দলের কয়েকজন সতীর্থ খেলোয়াড়ের সময় শেষ বলেও স্বীকার করেন তিনি। দিলশান বলেন, ‘অবশ্যই। টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে এটাই আমার শেষ অস্ট্রেলিয়া সফর বলে আমি মনে করি। সবার জন্য সত্যিকার অর্থেই এটা একটা চ্যালেঞ্জ। আমরা এখানে কখনও টেস্ট ম্যাচ জিততে পারিনি। আমরা এখানে যদি একটা ম্যাচ জয় করতে পারি তবে সেটা দল এবং দেশের জন্য অনেক বড় একটা ব্যাপার হবে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলবেন এটা কখনোই সহজ ব্যাপার নয়। কারণ এখানকার কন্ডিশন ভিন্ন। তবে এ সিরিজে আমরা ভাল করার জন্য মুখিয়ে আছি।’ শ্রীলংকার আশা-ভরসা অনেকটাই নির্ভর করছে তিন বর্ষীয়ান জয়বর্ধনে, সাঙ্গাকারা এবং ওপেনার দিলশানের ব্যাটিংয়ের ওপর। টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের রান করার আহ্বান জানিয়ে দিলশান বলেন, নইলে ‘হোয়াইট ওয়াশে’র ঝুঁকি রয়েছে। উদ্বোধনী এ ব্যাটসম্যান বলেন, ‘অবশ্যই টপঅর্ডারে কাউকে বড় রান সংগ্রহ করে স্কোর বোর্ডে ভাল সংগ্রহ করতে হবে। যা মিডল অর্ডার ও টেলএন্ডারদের জন্য সহায়ক হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য এটাই। এই সিরিজে টপঅর্ডারে অবশ্যই ভাল রান পেতে হবে। তবে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে, মাহেলা ও সাঙ্গাকারা ফর্মে রয়েছেন। দলের মধ্যে তারা দুজনই সবচেয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন।’ নিজেদের শেষ ২০ টেস্টে মাত্র চারটিতে জয় পাওয়া শ্রীলংকা দলের টপঅর্ডার খুব বেশি ভাল করতে পারেনি। বিদেশের মাটিতে সর্বশেষ ২০০৮ সালে বাংলাদেশে টেস্ট সিরিজ জয় করেছিল শ্রীলংকা। বর্তমানে টেস্ট র্যাংকিংয়ে লংকানদের অবস্থান ষষ্ঠ। অন্যদিকে চলতি মাসেই বিশ্বের শীর্ষ দল দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৩০৯ রানে পরাজিত হওয়ার পর হোবার্টেই প্রথম টেস্ট সিরিজ খেলতে নামছে অস্ট্রেলিয়া। টেস্ট ক্রিকেটে ১৩,৩৭৮ রানের রেকর্ড করা পন্টিং অবসর নেয়ার পর হোবার্টেই প্রথমবারের মতো নতুন ব্যাটিং লাইনআপের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছে স্বাগতিকরা। এক বছর আগে নিউজিল্যান্ডের কাছে পরাজিত হওয়ার পর দল থেকে বাদ পড়া ফিল হিউজ আবার অস্ট্রেলিয়া দলে ফিরেছেন। ওপেনিংয়ের পরিবর্তে হয়তো বা তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামতে পারেন তিনি। হিউজ বলেন, ‘এক বছর দলের বাইরে থাকার পর এখন আমি অনেক ভালো অবস্থায় আছি বলে মনে করছি।’ শ্রীলংকার বিরুদ্ধে সিরিজে পন্টিংয়ের শূন্যস্থান পূরণে তাকে প্রথম সুযোগ দেয়া হবে বলে জানান অলরাউন্ডার শেন ওয়াটসন। ওয়াটসন সাংবাদিকদের বলেন, ‘শেষ টেস্টের পর (পার্থে) কোচ মিকি আর্থার আমার সঙ্গে কথা বলছেন। আমাকে একধাপ নিচে নামিয়ে ব্যাটিং করানোর কথা তারা বিবেচনা করছেন বলে সে সময় তিনি আমাকে জানিয়েছেন।’ —বাসস/এএফপি