বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্য

রুখতে মাঠে থাকবে ১৪ দল যৌথ সভায় সিদ্ধান্ত

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৩৩
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতের অপতত্পরতা রুখে দিতে ঐক্যবদ্ধভাবে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল। গতকাল বুধবার তোপখানাস্থ ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১৪ দলের যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় ঘোষিত ২২ ডিসেম্বর দেশজুড়ে গণমিছিল কর্মসূচি সফল করার করণীয় নির্ধারণের জন্য এ যৌথ সভার আয়োজন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী সংগঠনসহ সকলকে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে রাজপথে সতর্ক ও সক্রিয় থাকারও আহ্বান জানিয়েছেন ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ। বৈঠকে বক্তারা বলেন, বিএনপি-জামায়াত সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করতে চায়। এমনকি এ বিচার বন্ধ করতে তারা দেশে-বিদেশেও একের পর এক ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করেই যাচ্ছে। হরতাল-অবরোধের নামে তারা দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে। তাই এদের বিরুদ্ধে ১৪ দলসহ সকল অসাম্প্রদায়িক শক্তিকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে থেকে তাদের তাণ্ডব এখন থেকে মোকাবিলা করতে হবে। একই সঙ্গে সভায় বিএনপি-জামায়াত ডাকা অবরোধে বিশ্বজিত্ দাসের মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করা হয় এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে বিতর্কিত করার জন্য স্কাইপিতে বিচারপতির বক্তব্য হ্যাক করা হয়েছে। এর অবশ্যই বিচার করতে হবে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, অন্যায়ভাবে একজন বিচারপতির কথা হ্যাক করার ঘটনায় প্রমাণিত হয়েছে, জামায়াত যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য অর্থ ও লবিস্ট নিয়োগ করেছে। সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ও শিল্পমন্ত্রী দীলিপ বড়ুয়া বলেন, বিএনপি-জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালন করে না বলেই ধ্বংসাত্মক নৈরাজ্যকর কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুর রহমান সেলিম বলেন, যারা বিচারপতি নিজামুল হকের কথা হ্যাক করেছে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সামনে রেখে জামায়াত-শিবির ষড়যন্ত্রের নীলনকশা করেছে। তার অংশ হিসেবে হরতাল-অবরোধের নামে রাজপথে সহিংস ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক আনিসুল হক মল্লিক বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যত ত্বরান্বিত হচ্ছে ষড়যন্ত্র ততই গভীর হচ্ছে। বিএনপি এতদিন আড়ালে ছিল। এখন তাদের লেবাস খুলে গেছে। রাশেদ খান মেননের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া, গণ- আজাদী লীগের সভাপতি হাজী আব্দুস সামাদ, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সহ-সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের যুগ্ম-আহ্বায়ক অসিতবরণ রায় প্রমুখ। বৈঠকে ১৩ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর ১৪ দলের এবং পর্যায়ক্রমে আরো কয়েকটি সভা করার সিদ্ধান্ত হয়। আগামী ২২ ডিসেম্বর রাজধানীসহ সারাদেশে ১৪ দল গণমিছিল কর্মসূচি পালন করবে।