বার্জার তরুণশিল্পী চিত্রকর্ম প্রতিযোগিতার বাছাইকৃত চিত্রকর্ম নিয়ে মঙ্গলবার চারুকলার জয়নুল গ্যালারিতে শুরু হয়েছে প্রদর্শনী। হরতালের কারণে ছিল না প্রদর্শনী উদ্বোধনের কোনো আনুষ্ঠানিকতা। শিল্পীদের জমা পড়া কাজ থেকে প্রদর্শনীতে ঠাঁই পেয়েছে ছেচল্লিশ শিল্পীর সৃজিত ৪৬টি চিত্রকর্ম। এ সব চিত্রকলায় রং-রেখা ও বিন্যাসের সম্মিলনে উদ্ভাসিত হয়েছে নানা বিষয়। শিশুশ্রম, আদিবাসী জীবন, বহুমুখী শহুরে জীবন, শ্রমজীবী মানুষের যাপিত জীবন, ভাষা আন্দোলন, প্রকৃতি, পরিবেশসহ বৈচিত্র্যপূর্ণ হরেক রকম বিষয়কে উপজীব্য করে আঁকা হয়েছে এসব ছবি।
১৭ বছরে পদার্পণ করলো এ প্রতিযোগিতা। অংশ নিয়েছেন কয়েকশ’ তরুণ ও ক্ষুদে শিল্পী। প্রতিযোগিতার প্রথম পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবিটি এঁকেছেন রাসেল কান্তি দাস। পরম মমতায় চিত্রপটে মেলে ধরেছেন আদিবাসী জীবনের সংগ্রামের কথা। প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় পুরস্কার জয়ী শিল্পী পূর্ণিমা মিত্র। তার গল্প নামের ছবিতে চিত্রিত হয়েছে এক আদিবাসী নারীর মুখচ্ছবি। পরিবেশ, সময় কিংবা মনোজগতের জটিল মনস্তাত্ত্বিক বিষয়টিকে ক্যানভাসে তুলে ধরেছেন শিল্পী পূর্ণিমা মিত্র। সময় ও বাস্তবতার জটিলতা নিয়ে কাজ করেছেন। তৃতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী রুহুল আমিন তারেক। চতুর্থ পুরস্কার জয়ী শিল্পী ফয়সাল আহমেদ মাহফুজের চিত্রপটে উদ্ভাসিত হয়েছে আবেগ বিবর্জিত নগরায়নের যান্ত্রিকতা। জীবন সংগ্রাম চালিয়ে বৃদ্ধ এক সেলাই শ্রমিকের ছবি এঁকেছেন। পঞ্চম পুরস্কার জয়ী শিল্পী আহসান মাহতাব। শ্রম-ঘামে একাকার হওয়া নির্মাণ শ্রমিকের ছবি সৃজন করেছেন। ষষ্ঠ পুরস্কার জয়ী শিল্পী আবদুল্লাহ আল বশির। বিষয়গতভাবে বিশ্বজিত্ রায়ের মানবাধিকারের পরিবর্তন শীর্ষক চিত্রকর্মটি দারুণ তাত্পর্যপূর্ণ। আঁকার কৌশলটিও চমত্কার। পুরো ক্যানভাসটি ভাগ করা হয়েছে দু’ভাগে। প্রতিযোগিতার বিজয়ী ছয় খুদে আঁঁকিয়ের ক্যানভাস ও বিষয় বৈচিত্র্যে ভরপুর। এসব ছবি আঁকা ছয় শিশুশিল্পী হলেন— কাজী ইনতেসার ফায়েদ, টামিম ইবনে আরিস, তামজিদ হোসেন, আদিবা ইবনাত, ফারহান সায়েদ তানিশা ও আহনাফ তাহমিদ খান।
পাঁচদিনের প্রদর্শনী চলবে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
