ভারত থেকে বিদ্যুত্ আমদানির জন্য সঞ্চালন লাইনের ব্যয় বাড়ছে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যুত্ আদান-প্রদানে বাংলাদেশের ভেড়ামারা ও ভারতের বহরামপুরের মধ্যে বিদ্যুতের লাইন স্থাপন প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে। ট্রান্সমিশন লাইন নির্মাণে ভারতের পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি ২০০৯ সালের দরপত্র অনুযায়ী হিসাব করা হয়। কিন্তু দরপত্রে সে অনুযায়ী দরদাতা না পাওয়া যাওয়ায় প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এইচভিডিসি (হাই ভোল্টেজ ডাইরেক্ট করেন্ট) স্থাপনে আরো ৫০১ কোটি টাকা ব্যয় বাড়বে বলে বিদ্যুত্ বিভাগ সূত্র জানায়।
সূত্র জানায়, ২০১০ সালে প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। ওই সময় প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৭৮ কোটি টাকা। আরো ৫০১ কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রকল্পে মোট ব্যয় হবে এক হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে অতিরিক্ত ব্যয় মেটাতে ইতিমধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) অতিরিক্ত ২ কোটি ডলার ঋণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর ফলে এডিবির ৭শ’ কোটি টাকার ঋণ বেড়ে হচ্ছে ৯১০ কোটি টাকা। সরকারি ব্যয় ২৭৭ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হচ্ছে ৪৫১ কোটি টাকা। আর বাস্তবায়নকারি সংস্থার পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি ব্যয় ১০১ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হচ্ছে ২১৭ কোটি টাকা।
ভারত থেকে বিদু্যুত্ আমদানির জন্য বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারায় ও ভারতের বহরামপুরের মধ্যে একটি ৫শ’ কেভি ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুত্ গ্রীড লাইন স্থাপন করতে হবে। জার্মানের সিমেন্স কোম্পানি এই প্রকল্পের ট্রান্সমিশন স্থাপনের কাজ করছে। আর ৩০ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন স্থাপনে কাজ করছে স্পেনের কোবরা নামের একটি প্রতিষ্ঠান। অতিরিক্ত ব্যয় বাড়ায় প্রকল্পটি সংশোধন করা হবে। চলতি মাসেই প্রকল্পটি সংশোধনের জন্য প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) অনুষ্ঠিত হবে। এর পরই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
কর্মকর্তারা জানান, ভারতের ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ কেন্দ্র আমদানির চুক্তি হলেও বাকি ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ আমাদানির জন্য ভারতের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে বাণিজ্যিক ভাবে ২৫০ মেগাওয়াট আমদানি করা হলেও এই বিদ্যুত্ বাংলাদেশের জন্য সাশ্রয়ী হবে বলে সূত্র জানায়।
ভারত থেকে বিদ্যুত্ আনতে ১৩০ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন করা হবে। এর মধ্যে ভারত অংশে ৮৫ এবং বাংলাদেশ অংশে ৪৫ কিলোমিটার লাইন হবে। পাওয়ার গ্রীড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) জানায়, ডিসি সাবস্টেশন স্থাপনের ফলে ভারতের এসি সিস্টেম কানেকশনের বিদ্যুত্ ভেড়ামারা সাবস্টেশনে এনে ব্যাক টু ব্যাক ডিসি সিস্টেম করা হবে। পরে সেটি আবার এসি সিস্টেমে এনে বাংলাদেশে সরবরাহ করা হবে। এতে বাংলাদেশে বিদ্যুতের কোনো সমস্যা যেমন, গ্রীড বিপর্যয়ের মতো সমস্যায় ভারতের কোনো সমস্যা হবে না। আবার ভারতের কোনো সমস্যা বাংলাদেশের বিদ্যুত্ ব্যবস্থায় আঘাত করতে পারবে না। এতে করে দুই দেশের বিদ্যুত্ ব্যবস্থা স্বতন্ত্র থাকবে।
