বীর প্রতীক মোবারক হোসেন জীবিত থেকেও মৃত। জীবিত এই খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ৪ বছর ধরে মৃত বানিয়ে রেখেছে সরকার। খেতাবপ্রাপ্ত এই মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আমীরগঞ্জ ইউনিয়নের মির্জানগর গ্রামে। তিনি মরহুম হোছেন আলী কারীর ছেলে।
১৯৫৬ সালে টগবগে এই যুবক সার্ভেয়ার পদে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। পেশোয়ারে সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার পদে চাকরিকালীন সময়ে ১৯৭১ সালের ফেরুয়ারি মাসে ছুটিতে তিনি দেশে আসেন। দেশের অবস্থা ভালো না ঠেকায় ছুটি শেষ হয়ে গেলেও কর্মস্থলে ফিরে যাননি তিনি। অকৃত্রিম ভালোবাসা ও পাক হানাদারদের হাত থেকে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনার লক্ষে ঝাপিয়ে পড়েন মুক্তিযুদ্ধে। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, মরিনি এখনো, তবে ভালো নেই। এমন সময় তার স্ত্রী বেগম নুরজাহান এসে ক্ষোভের সংগে বলে উঠলেন বাবা আমার জীবিত স্বামীকে সরকার ৪ বছর ধরে মৃত বলে আসছে। এর একাধিক লিখিত প্রতিবাদ জানানোর পরও সরকার তা সংশোধন করে না।
অবসরকালীন সময়ে সেনাবাহিনীর নিয়ম অনুযায়ী সকল সুযোগ-সুবিধাও ভোগ করে আসছেন তিনি। কিন্তু বীর প্রতীক খেতাবের জন্য রাষ্ট্রের কাছ থেকে স্বাধীনতার পর অদ্যবদি কোন সম্মান পাননি ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সেনাবাহিনীর কার্যালয় থেকে একটি দাওয়াতপত্র আসে। দাওয়াতপত্রের খামের উপরে তার স্ত্রী বেগম নুরজাহান লেখা থাকলেও প্রযত্নে স্বামী মৃত মোবারক হোসেন বীর প্রতীক লেখা ছিল। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে মরহুম মোবারক হোসেনের বিধবা স্ত্রী বেগম নুরজাহানকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করা হয়। তারপর স্ত্রীকে সংঙ্গে নিয়ে মৃত মোবারক হোসেন সেনাকুঞ্জের এই অনুষ্ঠানে হাজির হন। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে বিধবা বেগম নুরজাহানকে মঞ্চে আসার জন্য ডাকা হয়। এসময় মোবারক হোসেন বীর প্রতীক মঞ্চে উপস্থিত হয়। অনুষ্ঠানের মধ্যেই পরে এই ভুল সংশোধনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে মোবারক হোসেন অনুরোধ করে আসেন। সেদিন এই অনুষ্ঠানে তাকে ১৫ হাজার টাকার একটি চেক, একটি শালসহ অনেক উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়। গত ৪ বছরে তিনি বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী ও সেনাবাহিনীর প্রধান থেকে শুরু করে বেশ কয়েকটি দপ্তরে লিখিতভাবে সংশোধনের জন্য চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেও আজ পর্যন্ত এর কোর সুরাহা মেলেনি বলেও জানান তিনি।
