জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অটিজম সংক্রান্ত বাংলাদেশের প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। এই প্রস্তাবের (রেজ্যুলুশন) মাধ্যমে অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার ও অন্যান্য বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতায় আক্রান্ত মানুষদের আর্থসামাজিক চাহিদা পূরণে জাতিসংঘ ও এর সদস্য দেশগুলোর সমন্বিত কার্যক্রমের একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি গতকাল বৃহস্পতিবার এক জরুরি সাংবাদিক সম্মেলনে এ খবর জানিয়ে বলেন, এর মধ্যদিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের কূটনৈতিক সাফল্যের আরো একটি মাইলফলক সূচিত হলো। ১২ ডিসেম্বর নিউইয়র্ক সময় ১২টা ১২ মিনিটে সাধারণ পরিষদে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সারাবিশ্বে মোট শিশুদের শতকরা এক ভাগ অটিজম আক্রান্ত। বাংলাদেশে এ হার দশমিক ৮ শতাংশ।
প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আগ্রহে ও উদ্যোগে গত বছর জুলাই মাসে ঢাকায় অটিজম বিষয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করেন। প্রধানমন্ত্রীর কন্যা বিশিষ্ট শিশু মনস্তত্ত্ববিদ ও অটিজম বিষয়ক বাংলাদেশ জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি সায়েমা ওয়াজেদ পুতুল এ সম্মেলন আয়োজনের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন। এ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে ভারতের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক মোর্চার প্রধান সোনিয়া গান্ধী, শ্রীলঙ্কার ফার্স্টলেডি ও মালদ্বীপের সেকেন্ড লেডি অংশগ্রহণ করেন। সাধারণ পরিষদের রেজ্যুলুশনটিতে-ও ঢাকা ঘোষণার স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। সাধারণ পরিষদের ৭১টি সদস্য দেশ বাংলাদেশের প্রস্তাবিত রেজ্যুলুশনটি কো-স্পন্সর করেছে। এর মধ্য রাশিয়া, চীন, ভারত, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, সৌদি আরব ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশ রয়েছে। রেজ্যুলুশনটি সাধারণ পরিষদে গৃহীত হওয়ার প্রাক্কালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য দেশ এর প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানায়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানান, রেজ্যুলুশনটিতে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অটিস্টিক ও অন্যান্য বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মানুষদের সমান সুবিধা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সকল সদস্য দেশের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। ফলে আগামী বছর এ বিশেষ সম্মেলনটিতে বাংলাদেশের একটি নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করার সুযোগ তৈরি হয়েছে ।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ রেজ্যুলুশনটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অভিনন্দন জানান। রেজ্যুলুশটি গৃহীত হওয়ার সংবাদ প্রাপ্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়েমা ওয়াজেদ পুতুল আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের উভয়ের প্রতি এ রেজ্যুলুশনটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে উপস্থাপন ও গৃহীত হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের দিকনির্দেশনা ও সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্থায়ী মিশনের কর্মকর্তাদের প্রতি - তাদের দক্ষ কূটনৈতিক তত্পরতা ও দর কষাকষির মাধ্যমে এ রেজ্যুলুশনটিকে সম্ভব করে তোলার জন্য ধন্যবাদ জানান।
