অচিরেই ওয়ানডে ক্রিকেট হারিয়ে যাবে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি ক্রিকেটার অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। তার মতে, আর মাত্র তিন বছর পর ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিতে হবে ৫০ ওভারের এই ক্রিকেটকে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একটি রিপোর্টে গিলক্রিস্টের আশংকার কথা ব্যক্ত করা হয়।
অজি জাতীয় দলের সাবেক উইকেটরক্ষক গিলক্রিস্ট বলেন, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবার পর থেকেই অস্ট্রেলিয়ায় ৫০ ওভার ফর্মেটের ক্রিকেটের প্রতি আবেদন কমে গেছে। ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে যৌথভাবে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট পর্যন্ত হয়তো এই খেলাটির অস্তিত্ব থাকবে।’
ট্রিপল এম রেডিওকে দেয়া সাক্ষাত্কারে গিলক্রিস্ট বলেন, ‘আমার হিসাব অনুযায়ী আর মাত্র তিন বছর আমরা এটিকে দেখতে পাব। এরপর হয়তো এর আবেদনই চলে যাবে।’
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৯৬টি টেস্ট খেলা এই মারকুটে ব্যাটসম্যান বলেন,‘২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ ক্রিকেট। আমার মনে হয় এ কারণে এখনো পর্যন্ত টিভি সমপ্রচারের চুক্তি হচ্ছে। তারা ওই টুর্নামেন্ট সমপ্রচারের আশায় এখনো পর্যন্ত চুক্তিগুলো বাস্তবায়ন করছে। এরপর আমার মনে হয় এই ফর্মেটের ক্রিকেটকে ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘যে হারে খেলাটির জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ছে তাতে আমার আশংকা হচ্ছে এর (বিশ্বকাপের) পর সেটির প্রতি প্রচার মাধ্যমগুলোর আর কোন আগ্রহই অবশিষ্ট থাকবে না। এখন থেকেই টিভি অনুষ্ঠান এবং এর পরিচালকদের টি-টোয়েন্টি ও টেস্টের দিকে ঝোঁক দেখে আমার সেরকমই মনে হচ্ছে।’
রঙ্গিন পোশাকের বিশ্ব ক্রিকেট আয়োজনের মাধ্যমে কেরি পেকার্স বিগত ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে অস্ট্রেলিয়ায় যে ক্রিকেট উন্মাদনা সৃষ্টি করেছিলেন, সামপ্রতিক বছরগুলোতে সেটির দর্শকপ্রিয়তায় নাটকীয়ভাবে ধস নেমেছে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের চটকদারিত্বে ম্লান হতে বসেছে ওই ফর্মেটের খেলাটি।
বলা হচ্ছে ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার গ্রীস্মকালীন সময়ে মাঠে এসে ওয়ানডে উপভোগ করেছে চার লাখ ৫৬ হাজার ২৬৪ জন দর্শক। অথচ গত মৌসুমে সেটি কমে দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৫১ হাজার ৯১৬ জনে।
অবশ্য ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) মুখপাত্র পিটার ইয়ং বলেছেন যে, তাদের পরিচালনা পরিষদ গিলক্রিস্টের ওই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিশ্বকাপ ক্রিকেট হচ্ছে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম ক্রীড়া বিষয়ক ইভেন্ট। বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ খেলাটি উপভোগ করছে। আমাদের স্বতন্ত্র গবেষণায় দেখা গেছে যে, অস্ট্রেলিয়ার জনগণের মধ্যে ওয়ানডে ক্রিকেটের আবেদন আগের মতই আছে। শুধু তাই নয় এটি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।’ বাসস
