গতকাল শুক্রবার শেষ হলো পোশাক উত্পাদক ও রফতানিকারকদের বড় প্রদর্শনী বাংলাদেশ অ্যাপারেল এন্ড টেক্সটাইল এক্সপোজিশন। সংক্ষেপে বাটেক্সপো নামেই পরিচিত এটি। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বুধবার শুরু হয় এ মেলা। মেলায় তৈরি পোশাক, কাপড়, পোশাক তৈরির বিভিন্ন মেশিনারিজ কোম্পানিসহ অন্যান্য ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প প্রতিষ্ঠান ও দেশি-বিদেশি ১৩৮টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানও ছিল। প্রথা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাটেক্সপোর উদ্বোধন করেন আর বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সমাপ্তি টানেন। এবছর এটি ছিল বাটেক্সপোর ২৩তম আয়োজন। ১৯৮৯ সাল থেকে নিয়মিতভাবে এই প্রদর্শনী আয়োজন করে আসছে বিজিএমইএ।
বাটেক্সপোর মূল লক্ষ্য থাকে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা। এখানে ক্রেতারা এসে বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সাথে সরাসরি যোগাযোগ, পছন্দ-অপছন্দ আদান-প্রদানের সুযোগ পান। প্রচুর স্পট অর্ডারও পাওয়া যায় এখান থেকে। গতবছরের বাটেক্সপোতে রেডিস্টক এ্যাপারেলসহ ছয় কোটি ৬৩ লাখ মার্কিন ডলারের স্পট অর্ডার পাওয়া গিয়েছিল। এবার ক্রেতার সংখ্যা ও অর্ডার বাড়বে বলে আশা করেছে তৈরি পোশাক উত্পাদক ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ। তবে বিরোধীদলের ডাকা হরতাল কর্মসূচিসহ রাজনৈতিক উত্তাপ আর সামপ্রতিক তাজরিন গার্মেন্টস কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের হতাহতের তরতাজা ক্ষত এখনো শুকায়নি। ফলে স্বাভাবিক কারণে বাটেক্সপোর ঔজ্জ্বল্য মেলে ধরা সম্ভব হয়নি বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। বাতিল করা হয় শেষদিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান- বাটেক্সপো নাইট। বিদেশি ক্রেতার আনাগোনাও তুলনামূলক কম ছিল।
অবশ্য এর প্রভাবে স্পট অর্ডার কমবে না বলে মনে করেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী। তিনি বলেন, খ্রিস্টান সমপ্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উত্সব বড়দিন উদযাপনকে সামনে রেখে তারা নিজ নিজ দেশে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। তবে এখন বেশিরভাগ বায়ারদের অফিস ঢাকায় রয়েছে। ফলে অর্ডারে কোন নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন তিনি। বাটেক্সপো শুরুর আগে বিজিএমইএ সভাপতি জানিয়েছিলেন, পণ্যের যে বৈচিত্র্যতা এসেছে, ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ-এর দেশীয় প্রাপ্যতা বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে টেক্সটাইল ও এক্সেসরিজের যে উন্নয়ন হয়েছে তা মেলায় আসা ক্রেতাদের সামনে গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হবে। প্রদর্শনী ঘুরে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। এবারের বাটেক্সপোতে বেশ কিছু নতুন পণ্যের সমাহার ঘটেছে। দেশি-বিদেশি অনেক প্রতিষ্ঠানই এবার মেলায় এনেছে নজরকাড়া কিছু ভিন্নধর্মী পোশাক। এছাড়া বিদেশি কিছু প্রতিষ্ঠান এনেছে নতুন মেশিনারিজ। বাটেক্সপোতে অংশ নেয়া দেশি প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি বায়ারদের আকৃষ্ট করতে অসংখ্য স্যাম্পল নিয়ে হাজির হয়েছে মেলায়। এবারের বাটেক্সপোতে থাইল্যান্ডেরই ৬টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে চিয়াম পাটানা টেক্সটাইলস কোম্পানি বিভিন্ন ধরনের সুতা, ওভেন ফেব্রিকস এবং ডায়েড পলিয়েস্টার চিপ এনেছে। ফিউচারটেক্স কোম্পানি এনেছে ডায়িং এবং ফিনিশিং প্রডাক্ট। কংকুয়াট টেক্সটাইল কোম্পানি এনেছে ফেন্সি এন্ড মিলেঞ্জ ইয়ার্ন, প্যাকেজ ডাইড ইয়ার্ন এবং টুইস্টেড ইয়ার্ন।
বাটেক্সপোর বিশেষত্ব হচ্ছে- এখানে এক জায়গায়ই গার্মেন্টস খাতের সকল পণ্যের সমাহার ঘটে। এখানে বিভিন্ন রকম সুতা ও কাপড়ের পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন ধরনের মেশিনারিজ, গার্মেন্টস এক্সেসরিজ, বিভিন্ন ধরনের বোতাম, বিল্ডিং মেটারিয়ালস প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের একটি স্টলে দেখা গেছে হ্যাং ট্যাগ, ব্রাকোড স্টিকার, ইনসার্ট কার্ড, প্রাইস টিকেটস, বাটন ব্যাগস, মোনো কার্টনস, ওয়ার্প ব্রান্ড, পলি ব্যাগ, ইলাস্টিক, কি-চেইনস, বেল্ট, জুয়েলারি বক্স এবং প্লাস্টিক সিলস ট্যাগ।
এছাড়া হিট ট্রান্সফার প্রিন্ট, রোটো গ্রাভেয়ার প্রিন্টিং থারমাল প্রিন্টিং, কালার স্ট্যান্ড, স্যাটিন এন্ড কটন রিবনের পাশাপাশি জিপ লক পলি ব্যাগ, স্টোন এন্ড মেটাল মোটিভ, গাম টেপ, হিট ট্রান্সফার প্রিন্টিং, পিভিসি ব্যাগ, অফসেট প্রিন্টিংসহ আরও অনেক পণ্য প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয় বাটেক্সপোতে পণ্য বিক্রি তাদের মূল উদ্দেশ্য নয়। পণ্যের পরিচিতিই আসল লক্ষ্য। দেশের মধ্যেই যে এখন বিশ্বমানের গার্মেন্টস এক্সেসরিজ উত্পাদন হচ্ছে তা দেশীয় আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও উদ্যোক্তাদের দেখানো এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
