সংখ্যায় বেশী হওয়ায় দাঁত নিয়ে অনেকেই উদাসিন ও অবহেলার কারণে অকালে হারাতে হয় অতিমূল্যবান একটি দাঁত। কেবলমাত্র সঠিক স্থানে না উঠা আক্কেল দাঁত ছাড়া মুখের সব দাঁতই গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের অন্যান্য স্থানের সমস্যায় যেমন রোগীরা দ্রুত চিকিত্সকের পরামর্শ নিয়ে থাকে দাঁতের জন্য ঠিক তেমনটি ঘটেনা। অনেকে নিজেরাই অথবা ওষুধ বিক্রেতার পরামর্শে এন্টিবায়োটিক ও ব্যথা নাশক ওষুধ সেবন করে। মূল সমস্যার চিকিত্সা ছাড়া অন্ধকারে ঢিল ছোড়ার মত এসব ওষুধ কাজে লাগলেও পরবর্তীতে দাঁতের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিত্সার অভাবে আক্রান্ত দাঁত ফেলে দেয়া হলে যে সব সমস্যার সৃষ্টি হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-
১. পর্যাপ্ত চর্বণের অভাবে খাদ্য হজম উপযোগী হয় না, ফলে অপুষ্টিতে ভূগতে হয়, এবং দূর্বল হয়ে পড়ে।
২. খাদ্য গ্রহণে প্রকৃত স্বাদ পাওয়া যায় না
৩. শক্ত খাবার, হাড়, মাছের কাটা সরাসরি মাড়িতে আঘাত করে।
৪. যে পাশে দাঁত নেই, স্বভাবজনিত কারণে তার বিপরীত পাশ দিয়ে চর্বণে অভ্যস্থ হয়ে পড়ায় চোয়ালের অস্থি সন্ধিতে বড় ধরণের জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
৫. হারানো দাঁতের উল্টো দাঁতটি বেরিয়ে আসে, অন্যান্য দাঁতের নিজ অবস্থানও পরিবর্তীত হতে পারে।
৬. ফাঁকা দাঁতের স্থান দিয়ে বাতাস নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। ফলে কথা অস্পষ্ট হতে পারে।
৭. মুখের মাংস ভিতরে যেয়ে সৌন্দর্যহানী হয়।
৮. ফোকলা দাঁত কারো কাম্য নয়। ব্যক্তিত্ব প্রকাশ বাধাগ্রস্থ হয়।
৯. সম্প্রতি গবেষকগণ তথ্য দিয়েছেন, দাঁত হারালে মানুষের স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায়। উদ্বেগ, উত্কণ্ঠা বাড়ে। কারণ হিসাবে বলছেন প্রকৃত চর্বণ মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত রক্ত সঞ্চালণ করে।
১০. শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে সুস্থ্য দাঁতের গুরুত্ব অপরিসীম।
দাঁত হারালে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। সামর্থ্য অনুযায়ী কৃত্রিম দাঁত সংযোজন করে নেয়া যায়। কৃত্রিম দাঁত সংযোজনের তিনটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি আছে। প্রথমটি হচ্ছে খোলাযোগ্য বা ডেনচার। এ পদ্ধতিতে ক্রত্রিম দাঁত বাড়তি প্লেটের সাহায্যে আটকে থাকে এবঙ তা রাতে খুলে রাখার পরামর্শ দেয়া হয়। কিছুটা অস্বস্থি ও ঝামেলাপূর্ণ এই পদ্ধতির বিকল্প হচ্ছে অনড় বা স্থায়ী পদ্ধতি। ব্রৗজ পদ্ধতিতে পাশের দুইটি সুস্থ দাঁতকে পরিবর্তন করে তাদের সাহায্যে কৃত্রিম অনড়ভাবে স্থাপন করা হয়। সম্প্রতি সর্বাধিক আরামদায়ক ও আশে পাশের কোন দাঁতের সাহায্য ছাড়া ইমপ্ল্যান্ট পদ্ধতি সমগ্র বিশ্বে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। এ পদ্ধতিতে হারানো দাঁতের স্থানে বিশেষ ধাতব দন্ড বা স্ক্রু বসিয়ে তার উপর দাঁত সংযোগ করা হয়। যা রোগীকে কৃত্রিম দাঁতের অনুভূতি বুঝতে দেয় না। তবে পদ্ধতি যাই হোক না কেন অর্থনৈতিক সার্মথ্য ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে কৃত্রিম দাঁত সংযোজন জরুরী। সবচেয়ে বড় কথা নিয়মিত ও নিয়ম অনুযায়ী মুখ পরিষ্কারের মাধ্যমে দাঁতকে সুস্থ রাখতে হবে আর সমস্যার শুরুতেই সু-চিকিত্সার মাধ্যমে আক্রান্ত দাঁতকে সংরক্ষণ করতে হবে। তা হলেই কৃত্রিম দাঁতের ঝামেলা এড়ানো সম্ভব হবে।
