আবার মারমুখী ফুটবল মাঠ

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:১৩
ফুটবল মাঠে নিরাপত্তার অভাব। সেটা আবারো দেখা গেল গতকাল। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে পেশাদার ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হওয়ার পর আবাহনীর পশ্চিম গ্যালারি থেকে সমর্থকরা মাঠে ঢুকে রীতিমতো দাঙ্গা পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। আর এতে আহত হন শেখ জামালের নাইজেরিয়ান কোচ জোসেপ আপুসি। পুরো ঘটনায় পুলিশ সদস্যরা নীরবদর্শক হয়ে বসে ছিলেন চতুর্থ রেফারির পাশে। ম্যাচ শেষে শেখ জামালের নাইজেরিয়ান কোচ জোসেপ আপুসি সংবাদ সম্মেলনে যাচ্ছিলেন। তখনই তাকে উদ্দেশ্য করে আবাহনীর গ্যালারি থেকে ঢিল ছুঁড়ে মারলে মাথায় প্রচণ্ড আগাত পেয়ে মাটিতে পড়ে যান। তার মাথায় বরফ চেপে ধরে ড্রেসিং রুমের দিকে নিয়ে যান দলের সহকারীরা। শেখ জামাল সংবাদ সম্মেলনে আসেনি কোচ আহত হওয়ার কারণে। শেখ জামাল আবাহনী ম্যাচটা শেষ হওয়ার মিনিট পনের আগ থেকে উত্তেজিত সমর্থকরা ঢিল ছুঁড়তে শুরু করেন। খেলা চলাকালীন আবাহনী গ্যালারি থেকে একজন সমর্থক লম্বা একটি লাঠি হাতে ফেন্সিং টপকে মাঠে ঢুকে সহকারী রেফারি ভুবন মোহনের দিকে ছুটে গেলে তিনি নিরাপদ স্থানে চলে যান। উত্তেজিত দর্শক কর্নার ফ্ল্যাগের সামনে থাকা ফটো সাংবাদিকদের উপর চড়াও হলে তারা ভয়ে আতংকিত হয়ে পড়েন। তখনো মাঠে পুলিশ ছিল নিরব। রেফারি খেলার শেষ বাঁশি বাজালে গ্যালারি এবং ভিআইপি গ্যালারি থেকে দর্শক মাঠে ঢুকে পড়েন। মাঠে ঢুকে ভাংচুর করে দর্শকরা। শেখ জামালের বিদেশি কোচকে লাঞ্ছিত করে। আবাহনীর সমর্থকদের সাথে মোহামেডানের চিহ্নিত সমর্থকরা সাংবাদিকদের সাথে অসদাচরণ করেন। এভাবে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে খেলতে চায় না শেখ জামাল ধানমিন্ড ক্লাব। ক্লাব কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘আমরা ফুটবল মাঠে খেলতে এসেছি মারামারি করতে আসিনি।’ পেশাদার লিগ কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান আবদুর রহীম বলেন, ‘মাঠে পুলিশ কোনো ভূমিকা নেয়নি। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকলে দলগুলো খেলতে আসবে না। মাঠে শুরুতে পর্যাপ্ত পুলিশ থাকলেও শেষ দিকে ছিল না।’ গতকালের গুরুত্বপূর্ণ খেলায় মাঠের ভেতরে মাত্র ৫ জন পুলিশকে দেখা গেছে। আবাহনী-শেখ জামাল ম্যাচটি ছিল লিগের গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচ। দুই দলই টানা তিন ম্যাচ জিতে ৯ পয়েন্ট করে নিয়ে শীর্ষ স্থান দখল করে রেখেছিল। কাল ছিল এগিয়ে যাওয়ার লড়াই। সেই লড়াইয়ে দুই দল দারুণ ফুটবল খেলেছে। হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচ হয়েছে। এর মধ্যেও শেখ জামাল এবং আবাহনী গোলের সুযোগ পেয়ে কাজে লাগাতে পারেনি। দুইবার ব্যর্থ হন শেখ জামালের আলমগীর রানা। আবাহনীর সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ঘানাইয়ান ইব্রাহিম এবং স্বদেশি লাকিপল। সমর্থকরা উত্তেজনার ম্যাচ দেখেছেন। কিন্তু গোল না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন আবাহনীর সমর্থকরা। তাদের দাবি ম্যাচের রেফারি ছিলেন আব্দুল হান্নান মিরন। তাকে খেলা শুরু হওয়ার আগে সরিয়ে দিয়ে মিজানুর রহমানের হাতে বাঁশি তুলে দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়েছেন আকাশী নীল সমর্থকরা। অন্য দিকে রেফারি সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল হান্নান মিরন মাসলে টান লাগায় তাকে বিশ্রাম দেয়া হয়। আবাহনীর ইরানি কোচ আরদেশির পরণামাথ বলেন, তার দল মাঝমাঠে ভালো খেলেনি, ‘সাধারণ মানের খেলার কারণে ম্যাচ জিততে পারেননি। আর তাছাড়া দলে কিছু অনভিজ্ঞ ফুটবলার ছিলেন তারা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি।’ আগামীকালের খেলা ঃ আরামবাগ-সকার ক্লাব (বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম)। বিপিএল দ্বিতীয় আসরের আগে কঠোর অবস্থানে বিসিবি দ্বিতীয় আসর শুরু ১৭ জানুয়ারি নিলাম হবে ২০ ডিসেম্বর ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম আসরের টাকা পরিশোধ দ্বিতীয় আসরের আগেই চুক্তি নতুন যোগ হচ্ছে রংপুর বিভাগ