প্রিমিয়ার ক্রিকেট ক্লাব সমিতি

ক্লাবের কাউন্সিলরশিপ আরও বাড়ানোর দাবি

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:২০
ঢাকার প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের সুপার লিগের ছয়টি ক্লাবের কাউন্সিলর সংখ্যা এক থেকে বাড়িয়ে দুটি করা হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এই সংশোধনী নিয়ে রয়েছে ব্যাপক আপত্তিও; উচ্চ আদালত এ বিষয়ে রুলও জারি করেছেন। কিন্তু এরই মধ্যে ছয়টি নয়; ক্লাবের সংখ্যা বাড়িয়ে প্রিমিয়ার লিগের ১২টি দলকেই দুটি করে কাউন্সিলরশিপ প্রদানের দাবি জানিয়েছে প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্লাব সমিতি। গতকাল শুক্রবার স্থানীয় এক হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি করেন। তাদের এ দাবি ভবিষ্যতে পূরণ হবে কিনা; সেটা সময় বলবে। তবে এরই মধ্যে যেটুকু দাবি পূরণ হয়েছে তাতে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে সমিতি। বিসিবির গঠনতন্ত্রে সংশোধন করে সুপার লিগের ছয় ক্লাবকে দুটি করে কাউন্সিলরশিপ প্রদান করায় ক্লাব সমিতি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) ও বিসিবি সভাপতিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে। প্রিমিয়ার সুপার লিগের ছয় ক্লাবকে দুটি করে কাউন্সিলরশিপ প্রদান করায় ক্লাব সমিতির সভাপতি মনজুর কাদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘আমরা সবার আগে কর্তৃপক্ষকে অভিনন্দন জানাতে চাই। আগে আমাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। এনএসসি আমাদের সেই সম্মান দিয়েছে। আমরা এতদিন চেষ্টা করেছি ক্রিকেটকে বাঁচিয়ে রাখতে। আজ সেই প্রচেষ্টার ফসল পেয়েছি। এনএসসি এই সম্মান দেয়াতে ক্লাবগুলোকে অবশেষে স্বীকৃতি দেয়া হল’। সুপার লিগের ছয়টি ক্লাবকে দুটি করে কাউন্সিলরশিপ প্রদান করায় সেক্ষেত্রে একটি জটিলতাও সৃষ্টি হতে পারে। বিসিবির আগামী নির্বাচনে প্রিমিয়ারে বর্তমান সুপার লিগে খেলা ছয় ক্লাব পাবে এ সুবিধা। কিন্তু বিসিবির পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী চার বছর পর। এই চার বছরে সুপার লিগে ঠাঁই পাওয়া ক্লাবগুলোর অবস্থান ওলট-পালট হতে পারে। সেক্ষেত্রে কি হবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে মনজুর কাদের বলেন, ‘এই সমস্যার কারণে আমরা বিসিবি ও এনএসসির কাছে জোরালো দাবি জানাবো যেন খুব শীঘ্রই ঢাকার প্রিমিয়ারের বারোটি ক্লাবকে এই সুবিধা দেয়া হয়। আমরা আশাবাদী এই বিষয়টি বিসিবির সংশোধনী গঠনতন্ত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হবে’। ক্লাব সমিতির এমন দাবির প্রেক্ষিতে বিসিবির দৃষ্টিভঙ্গি কি হবে এমন প্রশ্নের উত্তরে বিসিবির এডহক কমিটির সদস্য ও গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন ভুঁইয়া বলেন, ‘এটি এনএসসির ব্যাপার। তবে আমরাও এই ব্যাপারে সর্বাত্মক চেষ্টা করবো যেন ক্লাবগুলোর স্বার্থ সংরক্ষণ হয়’। বিসিবির এডহক কমিটির সদস্য ডা. আই এইচ মল্লিক বলেন, ‘ক্লাবগুলোর অবদান তো অবশ্যই আছে। ক্লাবগুলো খেলোয়াড় তৈরি করে এবং ক্রিকেটকেও বাঁচিয়ে রেখেছে। আমাদের প্রথম বিভাগ ও দ্বিতীয় বিভাগের কাছেও দায়বদ্ধতা আছে। প্রতিবছর ক্লাবগুলো কষ্ট করে হলেও খেলা চালিয়ে যায়। অথচ অনেক জেলায় ঠিকমত খেলাধুলাও হয় না’। সুপার লিগের ছয়টি ক্লাবকে দুটি করে কাউন্সিলরশিপ প্রদানসহ বিসিবির সংশোধনী গঠনতন্ত্রে বেশ কিছু পরিবর্তন আনায় জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা প্রতিবাদ করছে। প্রতিবাদ স্বরূপ গত বৃহস্পতিবার বিসিবির সাবেক পরিচালক মোবাশ্বের হোসেন ও জেলা এবং বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক পরিষদের সভাপতি ইউসুফ জামিল বাবুর আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বেঞ্চে একটি রুল জারি করে। আবেদনকারীদের দাবি, বিসিবির বিশেষ সাধারণ সভায় কাউন্সিলরদের মতামত নিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছে গঠনতন্ত্র পাঠানো হয়েছিল। এনএসসি সেটা যাচাই-বাছাই করে সংশোধন করে বিসিবিতে ফেরত পাঠায়। কিন্তু বিসিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শে গঠনতন্ত্র সংশোধন করে এনএসসি। ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি শওকত আলী জাহাঙ্গীর এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আজকে খেলোয়াড়রা এই জায়গায় পৌঁছেছে এটা ক্লাবগুলোরই অবদান। কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের দাবি থাকবে বারোটি ক্লাবকে যেন কাউন্সিলরশিপ দেয়া হয়’।