মু খো মু খি

শরত্চন্দ্র বেঁচে থাকলে সঞ্জয়লীলার বিরুদ্ধে মামলা করতেন

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:৩৩
ঠিক কী ভেবে ‘ওরা এগারজন’ ছবিটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন? কোনো কিছু ভেবে না। স্রেফ দেশপ্রেম থেকে কাজ করেছিলাম। আমি সেই কাঁচা আবেগটাকে ধরে রাখার জন্যই ছবিটি নির্মাণ করি। এটাকে একদিকে চলচ্চিত্র বলা যায়, অন্যদিকে বলতে পারেন মুক্তিযুদ্ধের দলিল। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো এই ছবিতে সেই অর্থে প্রফেশনাল কোনো অভিনেতা অভিনয় করেননি। যারা সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তারাই এ ছবিতে নিজেদের চরিত্রটি ক্যামেরার সামনে শুধু বলেছেন। আপনার কী মনে হয়, স্বাধীনতার এত বছর পরও আপনার ছবিটির সমান্তরালে এত ব্যাপকতা নিয়ে অন্য কোনো ছবি নির্মাণ হয়েছে? আমার কথা না। এটা বিশ্লেষকেরাই বলেন যে, মুক্তিযুদ্ধকে প্রচ্ছন্নভাবে রেখে ছবি নির্মিত হয়েছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের ছবি একটাই। তবে আমার মনে হয় ‘ওরা এগারজন’ ছবিটি আর কেউ নির্মাণ করতে পারবে না। কারণ তখন যে অস্ত্রগুলো আমরা ব্যবহার করেছি, সেগুলোর সবকিছুই তো একেবারে যুদ্ধের মূল অস্ত্র আর গোলাবারুদ ছিল। আমরা যে ফায়ারিং করেছি, সেও একেবারে আসল যুদ্ধের সময় যা ব্যবহার করা হতো। হ্যাঁ আমি স্বীকার করছি, প্রযুক্তি বেড়েছে, কিন্তু এই প্রজন্ম যেমন প্রচ্ছন্নভাবে মুক্তিযুদ্ধকে ধরতে চেষ্টা করে, সেইভাবে ‘ওরা এগারজন’-এর মতো চলচ্চিত্র নির্মাণ সত্যিই এখনকার জন্য কঠিন কাজ। তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের ক্ষেত্রে আপনার আশাবাদটা কেমন—এখনকার তরুণ চলচ্চিত্রকাররাও তো দেশের ছবি বা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করছে? হ্যাঁ, করছে। কিন্তু এটা সবার মাথায় থাকা উচিত যে, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র আর মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র এক নয়। আমি মনে করি, বড় ক্যানভাসে আরও এ ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণ করা উচিত। শুধু পুরস্কারের লোভ না বা বিদেশি ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শনের জন্য না, নিজের দেশপ্রেম থেকে এ ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণ করা উচিত। বর্তমান নির্মাতাদের ডিজিটাল ছবি বানানো প্রসঙ্গে আপনার মতামত কী? আমার তো এই ডিজিটাল শব্দেই আপত্তি আছে। একজন সাধারণ দর্শক ডিজিটাল-অ্যানালগ দেখতে কিন্তু হলে যায় না। ভালো গল্প, ফাইটিং, নাচ গান পেলেই তারা খুশি। কিন্তু এখনকার নির্মাতারা এই ডিজিটাল শব্দের স্টান্ট ব্যবহার করে পুরো বিষয়টা আরও নেতিবাচক করে ফেলছে। কারণ কোন মাধ্যমে ছবির শুটিং করা হলো সেটা দর্শকের জেনে কী হবে! সে তো তা জানতেও চায় না। কিন্তু যখন ডিজিটাল বলে মাইকিং করা হচ্ছে। তখন দেখছে এ-তো সেই প্রায় একই ধারার। গল্পের দুর্বলতা তো ডিজিটাল দিয়ে কমানো যাবে না। তাই ডিজিটাল শব্দ ব্যবহার করে দর্শকদের আরও হতাশ করা হচ্ছে। এবারে আপনার মুক্তি প্রতীক্ষিত ‘দেবদাস’-এর কথা শুনতে চাই। আশা করছি, ‘দেবদাস’ ছবিটি আগামী ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে মুক্তি পাবে। আপনার আগের ‘দেবদাস’ আর এবারের ‘দেবদাস’-এর পার্থক্য কী থাকছে? না গল্পে, প্রেক্ষাপটে কোনো পার্থক্য নেই। আমি সঞ্জয়লীলা বানশালীর মতো ‘দেবদাস’-এর বিকৃতি করিনি, করতেও চাই না। আমি মনে করি, শরত্চন্দ্র বেঁচে থাকলে সঞ্জয়লীলার বিরুদ্ধে মামলা করতেন। আমি কোনো রকম বিকৃতি ছাড়াই পরিচ্ছন্ন ‘দেবদাস’ করেছি। পাত্র-পাত্রীর পরিবর্তন হয়েছে এবং নির্মাণশৈলীতে তো অবশ্যই। পরিপূর্ণ বাংলা সংস্কৃতির ছবি।