আমরা দীর্ঘ মেয়াদে চিন্তা করছি। শুরুতেই লাভ নিয়ে ভাবছি না। আমরা সবদিক ভেবেই ক্রিকেটে বিনিয়োগ করছি। শুরুতে আমাদের চাওয়া কিছু ভাল ক্রিকেট খেলা
রফিকুল ইসলাম, চেয়ারম্যান, আই স্পোর্টস
এই মালিক পক্ষের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছি। তাদের বলেছি, প্রতি বছর অন্তত ১৫ কোটি টাকা ব্যয় করার প্রস্তুতি থাকতে হবে। সেই সঙ্গে তাদের সলভেন্সি, বিশ্বস্ততার খোঁজও নিয়েছি
ডা. এইচ মল্লিক, সদস্যসচিব, বিপিএল
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের সপ্তম দল হিসেবে রংপুরে আবির্ভাব হচ্ছে আগামী মৌসুমে; এটা জানা কথাই ছিল। বাকী ছিল দলটির মালিকানা বিক্রি। খানিকটা গোপনীয়তার ভেতরে গতকাল ঢাকা ক্লাবে অনুষ্ঠিত নিলামে বিক্রি হয়ে গেল রংপুর রাইডার্স নামের দলটির মালিকানা। আর নতুন এই দলের মালিকানা কিনতে পেরেছে আই স্পোর্টস লিমিটেড। ফ্র্যাঞ্চাইজি নিলামে গেম অন স্পোর্টস ম্যানেজমেন্টের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে আট কোটি (১.০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) টাকায় রংপুরের মালিকানা নেয় আই স্পোর্টস।
আই স্পোর্টস লিমিডেট মূলত বিপিএলকেই সামনে রেখে তৈরি হওয়া একটি প্রতিষ্ঠান। এর মূল মালিকানা রয়েছে কম্পিউটার যন্ত্রাংশ বাজারজাতকরণ প্রতিষ্ঠান ফোরা টেলিকম লিমিটেডর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল ইসলাম এবং তাঁর বন্ধু রানা আবুল বাশারের হাতে। রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, আই স্পোর্টসের বেশির ভাগ শেয়ার তাঁর নামে। সেজন্য চেয়ারম্যানের পদটিও পেয়েছেন তিনি।
আই স্পোর্টসের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বিপিএলে সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়ে বলেছেন, ‘রানা বাশার ক্রিকেট খেলতেন, তিনি আমাকে অনেক উত্সাহ দিয়েছেন। সুনীল গাভাস্কারের সঙ্গেও আমার ভালো পরিচয় আছে। তিনিও বিপিএলে আসার জন্য বলছিলেন। সেজন্যই রানা সাহেব এবং আমি আই স্পোর্টস গড়ে তুলি। স্পোর্টস সংক্রান্ত সমস্ত কার্যক্রম আমরা এই কোম্পানির মাধ্যমে করব। যেহেতু রংপুর ফ্র্যাঞ্চাইজি কিনেছি, এটাকে ভালোভাবে চালানোই এখন আমাদের লক্ষ্য।’
শনিবার ঢাকা ক্লাবের এই নিলামে অংশগ্রহণ করে তিনটি কোম্পানি এএসএন স্পোর্টস, হক ব্রাদার্স এবং আই স্পোর্টস। এএসএন স্পোর্টস ‘ডিসকোয়ালিফাই’ হওয়ায় হক ব্রাদার্স এবং আই স্পোর্টস প্রতিদ্বন্দ্ব্বিতায় থাকে। হক ব্রাদার্সের চেয়ে দশমিক ০১ মিলিয়ন ডলার বেশি দিয়ে মালিকানা পায় আই স্পোর্টস।
বিপিএলের আগের ছয়টি দল-ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস, বরিশাল বার্নার্স, চিটাগং কিংস, দুরন্ত রাজশাহী, খুলনা রয়েল বেঙ্গলস এবং সিলেট রয়্যালস। এবার রংপুর অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ম্যাচ সংখ্যাও বেড়ে যাবে। ভেন্যুও বাড়ছে একটি, ঢাকা এবং চিটাগংয়ের সঙ্গে খুলনাতেও খেলা হবে।
বিপিএলের প্রথম আসর থেকে বিসিবি ৩২ কোটি টাকা উপার্জন করলেও এবার আয় হয় প্রায় ৪০ কোটি টাকা। আর এই পুরো টাকাই দেবে গেম অন স্পোর্টস।
যথারীতি চুক্তি অনুযায়ী এই নিলামের দায়িত্বে ছিল গেম অন স্পোর্টস। নতুন দল হিসেবে রংপুরের সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে বলতে গিয়ে গেম অন স্পোর্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন গাঙ্গুলি বললেন, ‘বিপিএলের সঙ্গে যেহেতু প্রতিটি দলের বাত্সরিক চুক্তি হওয়ার কথা; তাই রংপুরের মালিকদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কিছু করতে হবে না। বাকীদের মতো তারাও বারো বছর ধরে বিসিবিকে টাকা দিয়ে যাবেন। যার প্রথম বছরেই প্রায় সাড়ে আট কোটি টাকা দেবে মালিকরা। আর খেলোয়াড় নিলামেও সমস্যা নেই। কারণ, দলগুলোর সঙ্গে বিপিএলের খেলোয়াড়দের এক বছরেরই চুক্তি হয়। ফলে এবারও আমাদের ১২০ জন বিদেশি খেলোয়াড় এবং শতাধিক দেশি খেলোয়াড়ের ফ্রেশ নিলাম হবে। এখান থেকে বাকীদের মতোই খেলোয়াড় কেনায় সমান অধিকার ভোগ করবে রংপুর।’
খেলোয়াড় কেনা পর্যন্ত ঠিক আছে। কিন্তু বিপিএলের প্রথম আসরের অভিজ্ঞতা বলছে, দলগুলো খেলোয়াড়দের ও বিসিবির পাওনা পরিশোধের ক্ষেত্রে দারুণ অনিয়ম করেছে। বিসিবির বার বার নোটিসের জবাবেও সঠিক পদক্ষেপ নেয়নি দলগুলো। পরে বিসিবির তদন্তে এমনও বেরিয়েছে যে, অনেক দলই যথেষ্ট টাকা ব্যয়ের যোগ্যতা না থাকার পরও দল কিনে ফেলেছে।
রংপুরের ক্ষেত্রে যাতে এমন না হয় সে ব্যাপারে বিসিবির বিপিএল কমিটি সতর্ক ছিল বলেই দাবি করছেন কমিটির সদস্য সচিব ডা. এইচ মল্লিক। তিনি বলছিলেন, ‘গেম অন স্পোর্টস একটি দলকে বললো, আর আমরা রাজী হয়ে গেলাম; সেভাবে হয়নি ব্যাপারটা। আমি আর সিনহা ভাই গিয়েছিলাম ওখানে। এই মালিক পক্ষের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছি। তাদের বলেছি, প্রতি বছর অন্তত ১৫ কোটি টাকা ব্যয় করার প্রস্তুতি থাকতে হবে। সেই সঙ্গে তাদের সলভেন্সি, বিশ্বস্ততার খোঁজও নিয়েছি। যতোদূর জানা গেছে, এদের বাণিজ্যিক সুনাম আছে। ফলে আমরা তাদের ওপর বিশ্বাস রাখতে পারি।’
তবে একই সঙ্গে ডা. মল্লিক একটু আফসোসও করলেন, বিনিয়োগকারীদের যথেষ্ট উত্সাহ না থাকায়। তিনি কড়াকড়ি করার ব্যাপারেই বলছিলেন, ‘নিলামে মাত্র তিনটি পক্ষ এলো। এর মধ্যে একটি পক্ষ নিলামের টাকাই জমা দিল না। তাহলে আমরা যথেষ্ট উদ্যোক্তা না পেলে সেরা উদ্যোক্তা কিভাবে বেছে নেব?’
এই প্রশ্নের জবাবও নিশ্চয়ই বিপিএল কমিটিকে খুঁজে বের করতে হবে।
