ঢাবি খেলার মাঠে বিজয় পার্বণে বর্ণাঢ্য আয়োজন

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:২৯
নবান্ন নৃত্য, বাউল গান, যাত্রা, আড্ডা, লাঠি খেলা, নাগরদোলা, পুতুল নাচ, দেশের গানসহ নানা ধরনের বর্ণাঢ্য আয়োজন নিয়ে শুরু হয়েছে বিজয় পার্বণে উত্সব। আবহমান বাংলার ঐতিহ্য, উত্সব এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ধারণাকে আশ্রয় করে ‘উেস বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে তিন দিনব্যাপী এ উত্সব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে শুরু হওয়া এ উত্সব আগামীকাল সোমবার শেষ হবে। খেলার মাঠে পৃথক মঞ্চ তৈরি করে আবহমান বাংলার ঐতিহ্য এবং মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন বিষয় ফুটিয়ে তোলা হয়। গতকাল উত্সবের প্রথম দিনে সকাল ১০টায় শুরু হয় নবান্নের ধাঁচে বিজয় অন্ন উত্সব। একই সময় মঞ্চে নবান্ন নৃত্য এবং অপর একটি মঞ্চে বাউল গানের হাট বসান দেশের প্রত্যন্ত এলাকার বাউল শিল্পীরা। এসময় ‘প্রত্যাশার বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিষয়ে মতামত প্রদানের দেয়াল উদ্বোধন করা হয়। এর আগে পৃথক এক মঞ্চে উত্সবে সকলকে স্বাগত জানান আয়োজকরা। ‘বিজয়ে পার্বণে’ উত্সব উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব বিভুরঞ্জন সরকার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, বাঙালি একদিকে ঐতিহ্যপ্রিয় জাতি, অন্যদিকে উত্সব প্রবণও। বিভিন্ন উত্সবের মধ্য দিয়ে বাঙালি তার ঐতিহ্য ধরে রাখতে চায়। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বেসিস’র সাবেক সভাপতি এবং ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব জামান, এটিএন নিউজ’র প্রধান নির্বাহী আবেদ খান, সাংবাদিক মুজাম্মেল হোসেন মঞ্জু, অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ, খেলাঘরের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক সহ-সভাপতি মাহফুজা খানম, সাবেক ছাত্রনেতা রঞ্জন কর্মকার, নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান। বিকালে অনুষ্ঠিত হয় যাত্রা ও আড্ডা। ঐতিহাসিক ঘটনা নির্ভর সিরাজউদ্দৌলা যাত্রাপালা মঞ্চায়িত হয়। আর আড্ডায় মেতে উঠেন ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেল, সাংবাদিক আবেদ খান, বিজ্ঞান লেখক ও কলামিস্ট ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, এভারেস্ট বিজয়ী এম এ মুহিত, নিশাত মজুমদার, প্যারা অলিম্পিক সাঁতার প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক বিজয়ী মোহাম্মদ মাসুদ। এছাড়া এভারেস্ট বিজয়ী এমএ মুহিতের দুঃসাহসিক অভিযানের আলোকচিত্র এবং খ্যাতিমান ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর ভাস্কর্য প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া উত্সবস্থলে বৃহত্ আকার থালার ভেতর ত্রিমাত্রিক বাংলাদেশের মানচিত্রে গতকাল প্রথম দিন বিভাগভিত্তিক খাবার প্রদর্শন করা হয়। আজ ২য় দিন থাকবে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও সেক্টর কমান্ডারদের পরিচিতি এবং ৩য় দিন বিভাগভিত্তিক পিঠার প্রদর্শনী। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় কবি গান, উপজাতীয় নৃত্য, অগ্নি নৃত্য, ঢোল বাদন। নানা আঙ্গিকের আড্ডা, লাঠি খেলা, নাগরদোলা, পুতুল নাচ অনুষ্ঠিত হয়। মূল মঞ্চে ভাওয়াইয়া ও ভাটিয়ালি, মাইজভান্ডারি, পালা গান, গম্ভীরাসহ নানা ধরনের সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পীরা। আজ রবিবার উত্সবে রয়েছে শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, শিশু-কিশোরদের মধ্যে বিজয় বাঁশি বিতরণ, মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র প্রদর্শনী এবং আগামীকাল রয়েছে পিঠা উত্সব ও যাত্রা। ঐ দিন সন্ধ্যায় ফানুস উড়িয়ে উত্সবের সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে।