আইপিওতে আগ্রহ বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:১৭
সেকেন্ডারি মার্কেটে অব্যাহত দরপতনে বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়ে পড়লেও প্রাইমারি মার্কেটের দিকে ধীরে ধীরে আগ্রহ বাড়ছে। প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) লাভজনক বিবেচিত হওয়ায় অনেকেই এদিকে বিনিয়োগে ফিরে আসছেন। ফলে বেনিফিশিয়ারি অ্যাকাউন্ট (বিও) খোলার প্রবণতাও বেড়েছে। তবে আইপিও’র ক্ষেত্রে উচ্চ প্রিমিয়াম নেয়ার প্রবণতা বন্ধ করা গেলে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আরও বাড়বে বলে মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। কয়েক মাস আগেও আইপিওতে শেয়ার পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা আইপিও থেকে অনেকটা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আবেদনও জমা পড়েনি। তবে সামপ্রতিক সময়ে আইপিওগুলো লাভজনক বিবেচিত হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা প্রাইমারি মার্কেটের দিকে আবার ফিরে আসছেন। যেহেতু প্রাইমারি মার্কেটে আইপিও আবেদনের জন্য প্রত্যেকের একটি বিও অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। তাই প্রাইমারি মার্কেটের প্রতি আগ্রহ বাড়ায় বিও অ্যাকাউন্ট খোলার প্রবণতাও বেড়েছে। জানা গেছে, গত এক মাসে প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার বিও অ্যাকাউন্ট বেড়েছে। নভেম্বরের শুরুর দিকে বিও অ্যাকাউন্ট ছিল ২৪ লাখ ৪০ হাজার ৮৩৩টি। আর ডিসেম্বরের শুরুর দিকে ১৮ হাজার ৬২০টি বেড়ে বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে ২৪ লাখ ৫৯ হাজার ৪৫৩টিতে। প্রাইমারি মার্কেটের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়লেও কিছু কিছু কারণে এক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে। বাজারে কয়েকটি আইপিও উচ্চ প্রিমিয়ামে এসেছে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। তারা বলছেন, কিছু কিছু আইপিও উচ্চ প্রিমিয়ামে বাজারে এসেছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা প্রাইমারি মার্কেটের প্রতি এখনও পুরোপুরি আস্থা পাচ্ছেন না। প্রিমিয়াম নির্ধারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বা এসইসি যদি আরও হিসেবি হয় তবে ভালো মুনাফা পাওয়া যাবে। ফলে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া আইপিওগুলো অল্প সময়ের ব্যবধানে বাজারে আসায় টাকার সঙ্কটে অনেকে ঠিকমতো আবেদন করতে পারছেন না। অনেকেই আইপিও আবেদনের জন্য ঋণও করছেন। এ অবস্থায় তাদের দাবি, আইপিওগুলো বাজারে আসার ক্ষেত্রে কিছুটা সময়ের ব্যবধান থাকা প্রয়োজন। প্রাইমারি মার্কেটের দিকে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ধীরে ধীরে বাড়াকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, বাজারে বিনিয়োগকারীদের ফিরিয়ে আনার জন্য এটি একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। তাই প্রাথমিকভাবে সেকেন্ডারি মার্কেট থেকে টাকা তুলে প্রাইমারি মার্কেটে বিনিয়োগ করায় সেকেন্ডারি মার্কেটে কিছুটা প্রভাব পড়লেও এটা বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না। উপরন্তু বিনিয়োগকারীরা বাজারে ফিরতে শুরু করলে সেকেন্ডারি মার্কেটের জন্যও এটি ইতিবাচক হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, আইপিওতে বিনিয়োগের জন্য সেকেন্ডারি মার্কেটে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এটা খুব একটা ঠিক নয়। কারণ সেকেন্ডারি মার্কেটের শেয়ার বিক্রি করে আইপিওতে আবেদন করেন খুব কম বিনিয়োগকারী। তবে কোনো আইপিও যেন উচ্চ প্রিমিয়ামে আসতে না পারে তা অবশ্যই এসইসিকে নজরে রাখতে হবে। এতে বিনিয়োগকারীরা লাভবান হতে পারবেন। পাশাপাশি বাজারের প্রতি তাদের আগ্রহও বাড়বে। যদি কোনো ভালো কোম্পানি বাজারে আসে সে ক্ষেত্রে প্রিমিয়াম দেয়া যেতে পারে তবে তা যেন অতিরিক্ত না হয়। এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।