এসএমই ঋণ বিতরণে এগিয়ে বেসরকারি ব্যাংক

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:১৭
চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে ৪৯ হাজার ৬০৪ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ হয়েছে। যা পুরো বছরের লক্ষ্যমাত্রার ৮৪ শতাংশ। বিতরণ করা এসব ঋণের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিতরণ করেছে দেশিয় বেসরকারী ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের সামপ্রতিক এক পর্যালোচনায় এ তথ্য পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই ও স্পেশাল প্রোগ্রাম্স বিভাগের হিসাবে দেখা গেছে, গত বছরের প্রথম নয় মাসের তুলনায় এবছরের একই সময়ে ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয় হাজার ৬৬৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকার বেশি ঋণ বিতরণ করেছে। আগের বছরের একই সময়ে এ খাতে বিতরণ হয়েছিল ৩৯ হাজার ৯৪০ কোটি ৬২ লাখ টাকা। অর্থাত্ আগের বছরের একই সময়ে তুলনায় ২৪ দশমিক ১৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব মতে, চলতি ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সময়ে এসএমই খাতে বিতরণ করা ঋণের বেশিরভাগই তফসীলি ব্যাংকের মাধ্যমে বিতরণ হয়েছে। এ সময় ব্যাংকগুলো ৪৮ হাজার ৪৫০ কোটি ও ব্যাংক বহির্ভুত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এক হাজার ১৫৪ কোটি টাকার এসএমই ঋণ বিতরণ করেছে। আলোচ্য সময়ে এসএমই খাতে ব্যাংক খাতের মাধ্যমে বিতরণ হওয়া ঋণের বেশির ভাগই বিতরণ করেছে বেসরকারিখাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। যার পরিমাণ ৪১ হাজার ৯৩৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা। আর রাষ্ট্রায়াত্ত্ব চার বাণিজ্যিক ব্যাংক বিতরণ করেছে দুই হাজার ৮৪২ কোটি ৩১ লাখ টাকা। বিশেষায়িত ব্যাংকসমূহের বিতরণকরা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৬৩৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং বিদেশী মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে এক হাজার ৩২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই এন্ড স্পেশাল প্রোগ্রাম্্স মহাব্যবস্থাপক সুকোমল সিংহ চৌধুরী গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই বিভাগের তত্পরতার জন্যই এ খাতের ঋণ বিতরণ বেড়েছে। এছাড়া এসব ঋণ যাতে সঠিকভাবে কাজে লাগে সেজন্যও এসএমই বিভাগ বিভিন্নধরণের উদ্যোগ নিয়েছে এবং ইতোমধ্যে সে অনুযায়ী কাজও শুরু করেছে। ফলে এসএমই খাতে বিতরণ করা ঋণের গুণগত মানও বেড়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শমত বানিজ্যিক ব্যাংকগুলো বড় উদ্যোক্তাদের তুলনায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের উদ্যোক্তদের বেশি করে ঋণ দিচ্ছে। এসএমই ঋণ দিতে আগ্রহী করার জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করা হচ্ছে। বিশেষ করে ক্লাস্টারভিত্তিক শিল্পে বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকগুলোকে উত্সাহিত করা হচ্ছে। এদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংকগুলো মাঠ পর্যায়ে তত্পরতা বাড়ানো প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। চলতি বছর এসএমই খাতে ৫৯ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে বছর শেষে তা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। উত্পাদনশীল খাতের মাধ্যমে যেহেতু নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ হয় সেজন্য এ খাতে ঋণ বিতরণ বাড়াতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্রিয় ব্যাংক উত্সাহিত করছে বলে জানান সুকোমল সিংহ চৌধুরী। এর ইতিবাচক ফলও পাওয়া শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান। তথ্যমতে, আলোচ্য সময়ে উত্পাদনশীল খাতে ১৫ হাজার ৬৪৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বিতরণ হয়েছে। যা এসএমই খাতের মোট ঋণের ৩১ দশমিক ৫৫ শতাংশ। গতবছরের একই সময়ে বিতরণ হয়েছিল ১১ হাজার ৬৫১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। যা ছিল ওই বছরের মোট এসএমই ঋণের ২৯ দশমিক ১৭ শতাংশ। এদিকে এ খাতে আগের বছরের তুলনায় বিতরণ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বছরের প্রথম নয় মাসে ব্যবসা খাতে ৩১ হাজার ৫৬৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বিতরণ হয়েছে, যা এ খাতের মোট ঋণের ৬৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ। আগের বছরের একই সময় এটি ছিল ২৫ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা, যা ছিল ওই বছর বিতরণ করা ঋণের ৬৪ দশমিক ১১ শতাংশ। এ ছাড়া সেবা খাতে বিতরণ হয়েছে দুই হাজার ৩৯৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা যা মোট এসএমই ঋণের চার দশমিক শূন্য ৮১ শতাংশ। আগের বছর বিতরণ হয়েছিল দুই হাজার কোটি টাকার ঋণ।