ক্রিকেটে আরও বড় আয়োজনের দাবি

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:০৭
বিজয় দিবস ক্রিকেট প্রতিবছরই হয়। তবে এবারের আয়োজনটা যেন একটু বেশি আকর্ষণীয় ছিল। কারণ, জাতীয় দলের কোনো খেলা না থাকায় দুই দলেই ছিল তারকার ছড়াছড়ি। আর এই তারকারাই ক্রিকেটের ঐতিহ্যবাহী এই আয়েজনে কাল মাতিয়ে তুললেন ধানমন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়াম। বিজয় দিবস উপলক্ষে শুধু ক্রিকেট ম্যাচ নয়, আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট করা উচিত বলে মনে করেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান। গতকাল রবিবার ধানমন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রীতি ম্যাচে তিনি এ কথা বলেন। শহীদ জুয়েল ও শহীদ মুস্তাকের মধ্যকার প্রীতি ম্যাচে মুস্তাক একাদশ ৪ উইকেটে হারিয়েছে জুয়েল একাদশকে। সেঞ্চুরি ও এক উইকেট পাওয়ায় দল হেরে যাওয়ার পরও ম্যাচ সেরা হয়েছেন শহীদ জুয়েল একাদশের ওপেনার শাহরিয়ার নাফীস। প্রতি বছর বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) শহীদ জুয়েল ও শহীদ মুস্তাককে স্মরণ করতে এক প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করে থাকে। এবারো ব্যতিক্রম হয়নি। ধানমন্ডি স্টেডিয়ামে এই ম্যাচ দেখতে সকাল থেকে মাঠের চারপাশে ভিড় জমায় দর্শকরা। ম্যাচ দেখতে উপস্থিত ছিলেন বিসিবির এডহক কমিটির সদস্যরাসহ জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটাররা। তবে শুধু ম্যাচ আয়োজন নয়, বিজয় দিবসকে সামনে রেখে জুয়েল ও মুস্তাককে স্মরণীয় করে রাখতে বিজয় দিবস টুর্নামেন্ট আয়োজন করার কথা জানিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক রকিবুল, ‘শহীদ জুয়েল ও শহীদ মুস্তাককে স্মরণ করতে শুধু একটি ম্যাচ নয়, বিসিবির উচিত একটি টুর্নামেন্ট করার। এটা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টও হতে পারে’। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান নির্বাচক কমিটির সদস্য মিনহাজুল আবেদিন নান্নুও শুধু এই ম্যাচটি স্মরণ করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয় বলে দাবি করেছেন, ‘আমি একজন শহীদ পরিবারের সদস্য হিসেবে মনে করছি, এই ম্যাচটি এই দুই শহীদকে স্মরণীয় করে রাখার ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। আরো ভালোভাবে আয়োজন করতে পারত বিসিবি’। জুয়েল ও মুস্তাককে স্মরণীয় করে রাখতে বিসিবিও মিরপুর স্টেডিয়ামের দুইটি গ্যালারির নামকরণ করেছে এই দুই শহীদের নামে। তবে এই নামকরণের সার্থকতা পেতে হলে দুইজনের পরিচিতি পর্ব বিসিবির অফিসে রাখা উচিত বলে মনে করেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান, ‘মিরপুর স্টেডিয়ামের দুইটি গ্যালারির নামকরণ করা হয়েছে এই দুই শহীদের নামে; কিন্তু এদের সম্বন্ধে অনেকে তেমন অবগত নন। এদের পরিচিতিটা যদি বিসিবি অফিসে রাখা হয়, তবে সবাই তাদের সম্বন্ধে জানবে’। বিজয় দিবস ক্রিকেটে নাফীসের সেঞ্চুরি সত্ত্বেও ম্যাচ জিততে পারেনি শহীদ জুয়েল একাদশ। টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে জুয়েল একাদশ নির্ধারিত ৪০ ওভারে ৬ উইকেটে ২২৯ রান করে। নাফীস ১০৭ রান, জুনায়েদ সিদ্দিকি ৪৭ ও মার্শাল আইয়ুব ৩০ রান করেন। সাব্বির আহমেদ ২৯ রানে ও সৌম্য সরকার ৩৮ রানে একটি করে উইকেট নেন। টার্গেট তাড়া করতে গিয়ে মুস্তাক একাদশের এনামুল হক বিজয় ৯৫, মোমিনুল হক ৪৪ ও মাইশুকুর রহমান ২২ রান করলে ২৫ বল বাকি থাকতে ৬ উইকেটে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। রবিউল ইসলাম ৩৩ রানে তিনটি উইকেট নিয়েছেন। পরাজিত দলের নাফীস হয়েছেন ম্যাচ সেরা। বিজয় দিবসের এই ম্যাচ দেখতে শহীদ জুয়েল পরিবারের পক্ষ থেকে তার তিন বোন মাঠে এসেছিলেন। সুলতানা আহমেদ, সুরাইয়া খান ও সালমা চৌধুরী।