সিরাজগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:২৯
দীর্ঘ ২০ বছর পরে সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসের আওতাধীন মাঠপর্যায়ের ১৮৮টি বিভিন্ন পদের চাকরিতে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার রাতে সিভিল সার্জন অফিসের হিসাব রক্ষক রেজাউল করিমকে ১ লাখ টাকাসহ ডিবি পুলিশ আটক করেছে । গত ১০ ডিসেম্বর-২০১২ এই নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। পদায়নকৃতরা স্ব-স্ব কর্মস্থলের নিয়োগপত্র পেয়ে অধিকাংশই চাকরিতে যোগদান করেছেন। কিন্তু চাকরি হওয়ার পরও যারা নিয়োগপত্র পাননি তারা হতাশায় ভুগছেন এবং নিয়োগ বঞ্চিতরা ক্রমশ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন। ‘অসাধু নিয়োগ বাণিজ্য সিন্ডিকেট’ চাকরি দেবার নাম করে অগণিত প্রার্থীর কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডঃ কে, এম হোসেন আলী হাসান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ এনে দ্রুত এ নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের পরিচালক ডাঃ অধ্যাপক হাবিবে মিল্লাত মুন্না সিভিল সার্জন অফিসের নিয়োগ নিয়ে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। জেলার ৯টি উপজেলায় উপজেলা স্বাস্থ্য সহকারী, অফিস সহকারী, পরিসংখ্যান, ষ্টোর কীপার, ওয়ার্ড বয়, সুইপারসহ বিভিন্ন পদে ১৮৮ টি পদে লোক নিয়োগের জন্য চলতি বছরের মার্চ মাসে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এপ্রিল মাসে আবেদন জমা নেয়া হয়। পরবর্তীতে লিখিত পরীক্ষা শেষে গত ৫ নভেম্বর মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হয়। ২ ডিসেম্বর নিয়োগপত্রের রেজাল্ট শীট তৈরি ও ১০ ডিসেম্বর চূড়ান্ত নিয়োগপত্র দেয়া হয়। সিরাজগঞ্জ ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক রাকিবুল হাসান জানান, চাকরি বঞ্চিত শহরের স্টেডিয়াম রোডের গোবিন্দ কুমার দাসের স্ত্রী লক্ষ্মীরানী দাস বাদী হয়ে প্রতারণা মামলা দায়ের করায় শনিবার ভোরে অভিযান চালিয়ে সিভিল সার্জন অফিসের হিসাব রক্ষক রেজাউল করিমের বাড়ি থেকে নগদ ১ লাখ টাকা ও ১১টি পদের নিয়োগপত্রসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়। সরকারি দলীয় নেতাদের সুপারিশে অধিকাংশের চাকরি হয়েছে বলে অনেকেই অভিযোগ করেছে। এ বিষয়ে ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ আবুল ফায়েজ জানান, বিষয়টি নিয়োগ কমিটির দায়িত্ব। এখানে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। সিভিল সার্জন ডাঃ নাজিমউদ্দিন এই নিয়োগে তার অনিয়মের অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে নাকচ করে জানান, চাকরি দেবার নাম করে কারা কোথায় কি করছে তা দেখার দায়িত্ব আমার নয়। এ বিষয়ে গত শনিবার বিকেলে নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও স্বাস্থ্য বিভাগের রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক ডাঃ আশরাফুজ্জামানের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।