গণনাকালে বিরোধীদের কার্যালয়ে হামলা

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:২৯
মিসরে ইসলামপন্থী সরকারের খসড়া সংবিধানের ভবিষ্যত নির্ধারণে গণভোটের ভোটগণণা চলাকালে এক বিরোধী দলের নিজস্ব সংবাদপত্র কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে সরকার সমর্থকরা। শনিবার কায়রোসহ কয়েকটি শহরে সকাল থেকে বেলা ১১টা (স্থানীয় সময়) পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে। এরপর ভোট গণণা শুরু হয়। এসময় বিরোধী দল ওয়াফ্দ পাটির্র সদর দপ্তরে অবস্থিত সংবাদপত্র কার্যালয়ে পেট্রোল বোমা ও গুলতি ছুড়ে হামলা চালানো হয়। হামলায় অন্তত দুইজন আহত হয়। ওয়াফ্দ সংবাদপত্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফা শাফিক জানান, হামলায় কার্যালয়ের জানালার কাঁচ ভেঙে যায় এবং কিছু অংশ পুড়ে যায়। কার্যালয় চত্বরে থাকা বেশকিছু গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওয়াফে্দর ফেইসবুক পাতায় এ হামলার জন্য সালাফিস্টদ নেতা হাজেম আবু ইসমাইলের অনুসারীদের দায়ী করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন আবু ইসমাইল। গণভোটকে কেন্দ্র করে কায়রোসহ মিসরের অন্যান্য শহরেও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট মুরসির দল মুসলিম ব্রাদারহুডের সমর্থক সংগঠন ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পাটির্র বেশকিছু কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। আগামী শনিবার আরো বেশকিছু এলাকায় গণভোটের দ্বিতীয় পবের্র ভোটগ্রহণ শেষ হলে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে। আগামী বছর অনুষ্ঠেয় পার্লামেন্ট নির্বাচনের আগেই মিসরের সংবিধান চূড়ান্ত করার আইনি বাধ্যবাধকতা আছে। প্রস্তাবিত সংবিধান গৃহীত হবে কিনা তা গণভোটেই চূড়ান্ত হবে। বিরোধী দলগুলো এই গণভোট প্রত্যাখ্যান করলেও এর মাধ্যমেই ভবিষ্যত্ মিসরের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গী নির্ধারিত হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। প্রস্তাবিত সংবিধানটি পাশ হবে বলেই সর্বসাধারনের ধারণা। ভোটে সংবিধানে বিপক্ষে রায় হলে নতুন আইন পরিষদ গঠন করে সংবিধানের একটি সংশোধিত সংস্করণ তৈরি করতে হবে। এতে প্রায় নয় মাসের মতো সময় লাগতে পারে বলে জানা গেছে। সংবিধানে প্রস্তাবিত আইনগুলো নিয়ে মিসরে ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক বিভক্তি দেখা দিয়েছে। ইসলামপন্থী প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুরসির সমর্থকরা সমর্থন করলেও বিরোধী উদারপন্থী, ধর্মনিরপেক্ষ, বামপন্থী ও খ্রিস্টান গোষ্ঠীগুলো এর বিরোধিতা করে গণভোট প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রস্তাবিত সংবিধানটিকে অতিরিক্ত ইসলামপন্থী বলে অভিযোগ করেছে বিরোধীরা। এতে মানুষের বাক স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে তারা। সংবিধান ও গণভোটের বিরোধিতায় রাজধানী কায়রো ও দেশটির অন্যান্য শহরে সরকারপন্থীদের সঙ্গে বিরোধীদের রক্তাক্ত সংঘষের্র ঘটনাও ঘটেছে। মুরসির সমর্থকরা প্রস্তাবিত সংবিধানকে গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রধান দলিল বলে উল্লেখ করেছে। দুই বছর পূর্বে গণআন্দোলনে সামরিক একনায়ক হোসনি মুবারকের পতনের আগে প্রায় তিনদশক সামরিক শাসনের অধীনে ছিল মিশর।