জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসা ক্রীড়া সমিতির ৪২তম শীতকালীন ক্রীড়া আসরের চূড়ান্ত পর্ব সিলেট শহরে আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ১২ জানুয়ারি থেকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে স্কুল ও মাদ্রাসা ক্রীড়াঙ্গনের সর্ববৃহত্ এ ক্রীড়া আসর। অ্যাথলেটিক্স, ক্রিকেট, হকি, বাস্কেট বল ও ভলিবল, ব্যাডমিন্টন ও টেবিল টেনিস হলো শীতকালীন ক্রীড়ার বিষয়।
হকি ও বাস্কেট বল ছাড়া অবশিষ্ট ইভেন্টগুলোতে ছাত্রদের পাশাপাশি ছাত্রীরাও অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। টেবিল টেনিস এবারের জন্য নতুন বিষয়। উপ-মহাদেশের আধ্যাত্মিক সাধক হযরত শাহজালাল (র.)-এর পুণ্যভূমি এবং মরমী শিল্পী হাছন রাজার স্মৃতি বিজড়িত শহর সিলেটে শীতকালীন ক্রীড়ার এটি দ্বিতীয় আসর। এর আগে ২০০৪ সালে এখানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল শীতকালীন ক্রীড়ার ৩৪তম আসর।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় এ জাতীয় আসর অনুষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে সারাদেশে একই সাথে প্রাথমিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শুরুর দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী চলতি সালের ১৮ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত উপজেলা/থানা পর্যায়ে, ২৯ ডিসেম্বর থেকে নতুন সালের ২ জানুয়ারি পর্যন্ত জেলা পর্যায়ে, ৪ জানুয়ারি থেকে ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত উপ-অঞ্চল এবং ৮ জানুয়ারি থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত অঞ্চল পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। প্রত্যেক অঞ্চল হতে প্রত্যেক বিষয়ে একটি করে চ্যাম্পিয়ন দল চূড়ান্ত পর্বে খেলবে লিগ পদ্ধতিতে। উপজেলা থেকে অঞ্চল পর্যন্ত দলগুলো খেলবে নক-আউট পদ্ধতিতে। উপজেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতা শুরুর সময় হতে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের জেএসসি ও পিএসসি রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্র খেলোয়াড় তালিকার সাথে সংযুক্ত থাকতে হবে। বিধি মোতাবেক খেলোয়াড়দের সকল ধরনের ডকুমেন্ট সাথে রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই বহিরাগত খেলোয়াড়দের দলে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। যে কোনো দলের খেলোয়াড়দের ব্যাপারে কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে ঐ প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও ক্রীড়া শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সভাকক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসা ক্রীড়া সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় উপরোক্ত সিদ্ধান্তগুলো নেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মাউশির মহাপরিচালক ও ক্রীড়া সমিতির সভাপতি প্রফেসর মো. নোমান উর রশীদ, সমিতির যুগ্ম-সম্পাদক মো. আবুল কালাম আজাদের সঞ্চালনায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও মাউশির উপ-পরিচালক (শা.শি.) ফারহানা হক বার্ষিক প্রতিবেদন পাঠ করেন।
সভায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ফাহিমা খাতুন, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর কুণ্ডু গোপি দাস, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. তানবিরুল আলম, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুন নূর, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আলাউদ্দিন মিয়া, মাউশির পরিচালক প্রফেসর তসলিমা বেগম, প্রফেসর মো. শফিকুর রহমান, প্রফেসর মো. আবুল কাশেম মিয়া, প্রফেসর ড. মো. সিরাজুল হকসহ বিভিন্ন অঞ্চলের উপ-পরিচালক, জেলা ক্রীড়া অফিসার ও জেলা শিক্ষা অফিসারবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
