মু খো মু খি

ক্রাইমনির্ভর অনুষ্ঠানে উপস্থাপকের অনর্থক নাটকীয়তা করার প্রয়োজন নেই

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:২৪
এ ধরনের অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা কবে থেকে? এটা আমরা অন্য অনুষ্ঠানের মতোই গর্ব করে বলতে পারি যে, একুশে টিভিতেই এই ধরনের অনুষ্ঠান আমরা প্রথম প্রচার শুরু করি। এবং দ্বিতীয় মেয়াদ থেকে শুরু করে এই অনুষ্ঠান তার জনপ্রিয়তা অক্ষুণ্ন রেখে ২০০ পর্ব পার করে ফেলেছে। কেন জনপ্রিয় হচ্ছে, এই ধারার অনুষ্ঠান? এ প্রশ্নের উত্তরে আপনি কী বলবেন? দেখুন দর্শকেরা একই সময় একই অনুষ্ঠান ও একই নিউজ দেখে দেখে বিরক্ত। তাই এই ধারার অনুষ্ঠানে যেমন সমাজের অনেক অসঙ্গতি আমরা তুলে ধরতে পারছি, তেমনি দর্শকদের কাছে একটা বাস্তবধর্মী বিষয়ের ভিন্ন পরিবেশনা তাদের আকৃষ্ট করছে। এই ধরনের অনুষ্ঠান চ্যানেলের নিউজ টিমের সাথে একটা দ্বন্দ্বের তৈরি করে কি? আমার মতে আরও সহায়তা করে। কারণ চ্যানেলের নিউজ যেখানে গিয়ে শেষ হয়, সেখান থেকে আমাদের অনুষ্ঠানের সিক্যুয়েন্স শুরু। বরং এই ধারার অনুষ্ঠান থেকে নিউজ টিম আরও রশদ পেয়ে থাকে। কতটা ঝুঁকি বোধ করেন? এ ছাড়া মাঝে মাঝে লুকোনো ক্যামেরাও ব্যবহার করতে দেখা যায়। সেক্ষেত্রে এটা ব্যক্তি স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ হয় কি? না, আমরা কারও অমতে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত আক্রমন করি না। এখানে আমরা আমাদের নিজস্ব নীতিমালা মেনে চলার চেষ্টা করি। হয়তো কারও আত্মপক্ষ সমর্থন করে কোনো মন্তব্য দরকার, সে ক্ষেত্রে তার মন্তব্য ধরার জন্য কিছুটা ব্যবহার করা হয়। সে ক্ষেত্রেও আমরা উপস্থাপনায় তা বলে দিই। এখন তো অনেকগুলো চ্যানেলেই বেশ জমকালোভাবে এই ধরনের অনুষ্ঠান প্রচার হচ্ছে। আপনার মতামত কী? আমরা মতামত হলো, এই ধারার অনুষ্ঠান আরও বেশি করে হওয়া উচিত। তাহলে আমাদের দেশের সামাজিক দৈন্যতা কাটবে একই সাথে স্বচ্ছতাও বাড়বে। তবে এখানে আমার খানিক আপত্তি আছে—কিছু চ্যানেলের উপস্থাপনের ক্ষেত্রে অতি নাটকীয়তা করা হয়। অনেক সময় ঘটনার পাত্রপাত্রী সাজিয়ে অভিনয় করানো হয়। ক্রাইমনির্ভর অনুষ্ঠানে উপস্থাপকের অতি নাটকীয় হওয়ার প্রয়োজন দেখি না। এই যে নিউজের সাথে নাটক গুলিয়ে ফেললে তো বিষয়টা ধীরে ধীরে গ্রহণযোগ্যতা হারাবে। এ ছাড়া আয়োজনের দিক দিয়ে আরও ব্যাপকতার প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন কি? আমরা ডিসকভারি বা ন্যাশনাল জিওগ্রাফিতে যে ধরনের বাস্তব ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন দেখি, সেই ধরনের বড় আয়োজন আমাদের দেশে কেন হয় না? এটা সময় লাগবে। তবে যেহেতু এটা শুধু অনুষ্ঠান নয়। একটা সামাজিক দায়িত্ব। তাই এর পেছনে পৃষ্ঠপোষকতা আরও বাড়ানো উচিত। এবং আমি মনে করছি, সেই ইতিবাচক উদ্যোগটা নেওয়া শুরু হয়েছে। আগামী পরিকল্পনা কী? আমার একটি বিষয়ের ওপর সারাদিনের একটি ডকুমেন্টারি নির্ভর অনুষ্ঠান প্রচারের পরিকল্পনা আছে। অর্থাত্ একজন অসহায় মানুষের কোনো মামলা থানায় নিচ্ছে না বা সে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সারাদিন তার পেছনে ক্যামেরা থাকবে। পরে আমরা চুম্বক অংশ প্রচার করব।