পাকিস্তান সফর এখন সময়ের ব্যাপার!

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৪৪
সেই লাহোর হামলার পর থেকে পাকিস্তানে আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হয়নি। অবশেষে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বাংলাদেশই হতে যাচ্ছে ২০০৯ সালের পর পাকিস্তান সফর করা প্রথম আন্তর্জাতিক দল। যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এখনই আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। কিন্তু দৃশ্যত মনে হচ্ছে, পাকিস্তান সফর এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। বাংলাদেশের পাঠানো সফরসূচী চূড়ান্ত করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। আগামী ১১ থেকে ১৩ জানুয়ারির মধ্যে এই সফরটি হতে পারে বলে সফরের পরিকল্পনাটি হাতে পেয়েছে বিসিবি। তবে এখনি এই সফরের ব্যাপারে চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত দিতে নারাজ তারা। ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন সিরাজ জানিয়েছেন, এডহক কমিটির সভায় এই সফরের চূড়ান্ত অনুমোদন হবে। সফরসূচী চূড়ান্ত ছাড়াও একটি নিরাপত্তা পরিকল্পনাও বিসিবির কাছে পাঠিয়েছে পিসিবি। একটি ওয়ানডে ও একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দুটি অনুষ্ঠিত হবে পাকিস্তানের লাহোরে। তবে বিকল্প ভেন্যুও ঠিক করা হয়েছে। ১২ ও ১৩ জানুয়ারি দুটি ম্যাচের এই সফরে বাংলাদেশ দল ১১ জানুয়ারি পাকিস্তান যাবে বলে জানা গেছে। পিসিবির কাছে এর আগে সফরসূচী পরিকল্পনার জন্য একটি চিঠি পাঠিয়েছিল বিসিবি। কিন্তু এখন সফরসূচী হাতে পেলেও বিসিবি এই মুহূর্তে কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারছে না। ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা তাদের পরিকল্পনা হাতে পেয়েছি। এটি বোর্ডের কাছে পেশ করবো। এডহক কমিটির সভায় সেটি অনুমোদন হবে। এরপর আমরা খেলোয়াড়দের সাথে কথা বলবো’। বহুল আলোচিত এই সফরে যদি বাংলাদেশ যায় তবে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হবে। ২০০৯ সালের মার্চে লাহোরে শ্রীলংকান টিম বাসের উপর সন্ত্রাসীদের হামলার পর কোন বিদেশি দল পাকিস্তান সফর করেনি। সফর না হওয়ার কারণে আর্থিকভাবেও অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। আলোচিত বাংলাদেশের পাকিস্তান সফরের সূত্রপাত হয় গত বছর ১১ ডিসেম্বরে। তত্কালিন বিসিবি সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল এমপি ঘোষণা দেন ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে নিরাপত্তা দল পর্যবেক্ষণ করে নিশ্চয়তা দিলে বাংলাদেশ দল ২০১২ সালে পাকিস্তান সফর করবে। মোস্তফা কামাল এর আগে আইসিসির সভায় পিসিবির প্রধান জাকা আশরাফকে কথাও দিয়ে এসেছিলেন তারা পাকিস্তান সফর করবে। আইসিসির ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার ক্ষেত্রে সফরের বিনিময় হয়েছে বলেও আড়ালে আবডালে শোনা গেছে। এ বছর মার্চে যখন নিরাপত্তা দল পাকিস্তান সফর করে সন্তুষ্ট প্রকাশ করে তখন এক প্রকার বাংলাদেশ দলের পাকিস্তান সফরটি নিশ্চিত হয়ে যায়। কিন্তু ৭ মার্চ আইসিসি ঘোষণা দেয় পাকিস্তানে তারা কোন ম্যাচ অফিসিয়াল পাঠাবে না। এই খবর শোনার পরপরই বোর্ড সভাপতি ফের ঘোষণা দেন, আইসিসি ম্যাচ অফিসিয়াল না পাঠালে তারা পাকিস্তান সফর করবে না। বিসিবি সভাপতির এমন বক্তব্যের পর পিসিবি প্রধানও পাল্টা আক্রমণ ছুঁড়ে দেন বিসিবির প্রতি। বাংলাদেশ যদি এই সফর বাতিল করে তবে ভবিষ্যতে তাদের এর জন্য মাশুল গুণতে হবে। এপ্রিলে আইসিসি ঘোষণা দেয়, দুই দেশের সম্মতির ভিত্তিতে ২৯ ও ৩০ এপ্রিল দুটি ম্যাচ খেলা হবে লাহোরে। কিন্তু এরমধ্যে ১৯ এপ্রিল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক হাইকোর্টে রুল জারি করে এই সফরের উপর স্থগিত করে দেন। এরপর থেকে পিসিবির কাছ থেকে বিভিন্নভাবে চাপ পেয়ে আসছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। সর্বশেষ আইসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) সভায় অন্যান্য দেশের সিইওরা যখন বাংলাদেশকে চেপে ধরেছে, শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই ফের পাকিস্তান সফরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। বহুল আলোচিত এই সফর নিয়ে যখন আলোচনা চলছে সর্বত্র সেই মুহূর্তে পাকিস্তানের একটি প্রদেশ বেলুচিস্তানে স্বাধীনতা আন্দোলন চলছে। রাজনৈতিক এই পরিস্থিতি নিয়েও কম উদ্বিগ্ন নয় পাকিস্তান সরকার। প্রায় চার বছর ধরে আন্তর্জাতিক কোন ম্যাচ আয়োজন করতে পারছে না পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। এ অবস্থায় পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরাতে সনথ জয়াসুরিয়ার নেতৃত্বে একটি বিশ্ব একাদশ সেখানে সিরিজও খেলে এসেছে। এখন দেখার বিষয় বাংলাদেশের সফরের ভেতর দিয়ে আসলেই পাকিস্তানের দুয়ারটা খোলে কি না।