পূর্ণ নিরাপত্তা পেলে পাকিস্তান সফরে যেতে সমস্যা নেই। অন্তত তেমনই বললেন জাতীয় দলের স্পিনার, দলের অন্যতম সিনিয়র আব্দুর রাজ্জাক। পাকিস্তান সফর নিয়ে খেলোয়াড়দের মনে যে ভীতি ছিল তার বিন্দুমাত্র রেশ ছিল না রাজ্জাকের কণ্ঠে। শুধু তিনি নন, পূর্ণ নিরাপত্তা পেলে জাতীয় দলের সবাই পাকিস্তানে যেতে ইচ্ছুক কাল টেলিফোনে এমন কথাই জানালেন তিনি।
গতকাল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) সফরসূচী চূড়ান্ত করে একটি পরিকল্পনা পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে। বিসিবির এডহক কমিটির সভায় অনুমোদন হলে আগামী ১১ জানুয়ারি পাকিস্তানে যাবে বাংলাদেশ। ১২ ও ১৩ জানুয়ারি একটি ওয়ানডে ও একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে তারা। ১৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ দল দেশে ফিরে আসবে।
বহুল প্রতীক্ষিত পাকিস্তান সফর নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। নিরাপত্তার কারণে প্রায় চার বছর ধরে কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয় না সেখানে। বাংলাদেশ সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে প্রস্তুত। তারাও ইতিহাসের সাক্ষী হতে চায়, যদি পূর্ণ নিরাপত্তা থাকে। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মত সাবেক খেলোয়াড়রাও পাকিস্তান সফরটি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান বলেছেন, ‘খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা যদি নিশ্চিত হয় তবে এই সফরটি হওয়া উচিত। তবে মাত্র তিনদিনের সফরে গেলে ক্রিকেটের কোন লাভ হবে না। যদি এই সফরটি ‘টেস্ট’ সফর হয়, তাহলে ভবিষ্যতে যেন আরো বড় সফর হতে পারে। ক্রিকেটীয় ইমোশনাল দিক থেকে এই সফরে যাবে বাংলাদেশ। তারাও বাংলাদেশে আসবে’।
রকিবুলের মত জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক নির্বাচক প্রধান ফারুক আহমেদও একই কথা বললেন, ‘আমি এই সফরটিতে দুটি দিক চিন্তা করছি। প্রথমত পাকিস্তান আমাদের অনেক হেল্প করেছে। আইসিসির ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার ক্ষেত্রে তারা ছাড় দিয়েছে। ক্রিকেটের বন্ধুর কথা বললে ওরা অনেক এগিয়ে আছে। ক্রিকেটীয় অর্থে শ্রীলংকার তুলনায় ওরা এগিয়ে আছে। দ্বিতীয়ত, নিরাপত্তা। যদি নিরাপত্তা ঠিক থাকে তাহলে এই সফরে না যাওয়ার কোন কারণ নেই’।
বহুল আলোচিত পাকিস্তান সফরে বাংলাদেশ জাতীয় দলের অনেকে যেতে ইচ্ছুুক নয় এমন কথাও শোনা গেছে। কিন্তু দৃশ্যত জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা সেখানে যেতে রাজি। অন্তত রাজ্জাকের কথাতে সেরকম ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, ‘ওরা সরকারি পর্যায়ে নিরাপত্তা দিবে। এমন নিরাপত্তা দিলে যেতে কোন সমস্যা নেই। তাছাড়া এই সফরে কোন ঝামেলা হলে ওদের দেশেও তো কেউ কোন দিন যাবে না; এটা মাথায় রেখেই নিশ্চয়ই নিরাপত্তা ব্যবস্থা করবে তারা। আমার মনে হয়, নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে সবাই যেতে চাইবে। সরকার ও বিসিবি যদি রাজি থাকে, তাহলে আমাদের কোন সমস্যা নেই’।
সাবেক অধিনায়ক ফারুক আহমেদ অবশ্য খেলোয়াড়দের সিদ্ধান্তের উপরই ছেড়ে দেয়ার কথা জানালেন, ‘আমি মনে করি প্রত্যেককে স্বাধীনতা দেয়া উচিত। তারা যদি পাকিস্তানে না যেতে চায় তাহলে জোর করা উচিত নয়’।
