আমরা সকলে হেপাটাইটিস এ ও হেপাটাইটিস বি সম্পর্কে মোটামোটি জানি। এ দু’টি সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ভ্যাকসিন বা টিকা পাওয়া যায়। হেপাটাইটিস বি এর মত মারাত্মক সংক্রামক হেপাটাইটিস সি ভাইরাসেরও শরীরে বাসা বেধে ধীরে ধীরে লিভার আক্রমণ করার অপরিসীম ক্ষমতা রয়েছে। হেপাটাইটিস সি ভাইরাস শুধু লিভারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তাই নয়, মারাত্মক ঘাতক ব্যাধি লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু সবচাইতে উদ্বেগজনক তথ্য হচ্ছে এখনো পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা এই ঘাতক ভাইরাসের বিরুদ্ধে কোন প্রকার ভ্যাকসিন বা প্রতিশেধক আবিষ্কার করতে পারেননি। এই ভাইরাসে একবার আক্রান্ত হলে আর রক্ষা নেই। তবে আশার কথা প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত হলে অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সুস্থভাবে জীবন যাপন করতে পারেন। হেপাটাইটিস সি ভাইরাসজনিত হেপাটাইটিস প্রতিরোধ ও করণীয় সম্পর্কে অভিমত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞগণ। হেপাটাইটিস সি প্রতিরোধ করতে হলে সর্বক্ষেত্রে জীবানুমুক্তি ডিসপোজেবল ইনজেকশনের সূচ ব্যবহার, রক্ত সঞ্চালণের পূর্বে রক্ত পরীক্ষা, সেলুন, বিউটি পারলারে দাড়ি সেভিং ও নাক ফুটাতে জীবানুমুক্ত সরঞ্জাম ব্যবহার এবং দাঁতের ডাক্তারসহ চেম্বারে ব্যবহূত যন্ত্রপাতি জীবানুমুক্ত রাখা এবং বহুগামিতা পরিহার এই ভাইরাস প্রতিরোধ করতে পারে। আর যাদের ইতিমধ্যেই ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করেছে অর্থাত্ হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এখন দেশেই উন্নতমানের ওষুধ পাওয়া যায়। যথাযথ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানে চিকিত্সা নেয়া গেলে শতকরা ৯৯ ভাগ পর্যন্ত হেপাটাইটিস সি আক্রান্ত ব্যক্তিরা স্বাভাবিক হতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে হেপাটাইটিস বি এবং হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিত্সা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এছাড়া সকল চেষ্টা এবং আধুনিক চিকিত্সা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বিপদ এড়ানো যায় না। তাই ঝুঁকি নয়, হেপাটাইটিস সি প্রতিরোধ করুন, বিপদমুক্ত থাকুন। আর একটা কথা মনে রাখতে হবে হেপাটাইটিস সি ভাইরাসের বিরুদ্ধে কোন ভ্যাকসিন নেই। তাই সাবধানতাই একমাত্র উপায়।
