পাখির অভয়ারণ্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। সবুজ এ ক্যাম্পাসে সংসার পেতেছে প্রায় ১৭৬ প্রজাতির পাখি! তবে পাখির নিরাপদ আবাস হয়ে উঠতে পারেনি এই ক্যাম্পাস। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকা, সচেতনতার অভাব আর বিদেশি গাছ রোপণের ফলে ক্যাম্পাস এলাকা পাখি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
পাখি গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলমগীর হোসেনের দেয়া তথ্যমতে, ১৭৬ প্রজাতির পাখির অভয়ারণ্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট না হলে এই সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে বলেও জানান তিনি। জানা যায়, বাংলাদেশে পাখির প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ৭০০। এর মাঝে ৩৬০টি স্থায়ী এবং ৩৪০টি পরিযায়ী। এরমধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রায় ১৭৬ প্রজাতির পাখির দেখা মেলে। পাখি প্রজাতির এ সংখ্যাই জানিয়ে দেয় এ ক্যাম্পাস পাখির কত প্রিয়!
প্রাণিবিদ্যা বিভাগের এক জরিপ মতে, এই ক্যাম্পাসে মোট একশত ৫০ প্রজাতির পাখির বসতি! যার অন্তত আশি প্রজাতি দেশীয়। বর্তমানে এই সংখ্যাটি কত জানতে চাইলে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. গাজী সৈয়দ আসমত বলেন, দেশীয় পাখিদের নিয়ে কোন জরিপ না হওয়ায় সংখ্যাটা বলা মুশকিল। তবে পাখির সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক কমেছে। অথচ তিন পার্বত্যাঞ্চল কিংবা সুন্দরবনেও এত প্রজাতির পাখি ছিল না।
প্রাণিবিদ্যা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর আগেও ক্যাম্পাসের কাটা পাহাড়ে ছিল ৫০ প্রজাতির পাখি। সবুজ পাহাড়ের গায়ে ছোট ছোট খোপ করে বাসা বুনতো ‘সাদামাটানাকুটি’। আর ‘সুঁইচোরা’র ঝাঁক চোখে পড়তো ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারের পেছনের এলাকা, উদ্ভিদ উদ্যান ও ফরেস্ট্রি ইনস্টিটিউট এলাকায়। সারা ক্যাম্পাস জুড়ে ছিল মথুরা, মাছরাঙ্গা, জংলি মুরগী, চড়ই, শালিক আর ময়নার কলকাকলি। কিন্তু এখন এই পাখিগুলো খুব একটা চোখে পড়ে না।
সরেজমিন পরির্দশনে দেখা গেছে, ক্যাম্পাসের কাটাপাহাড়, ফরেস্ট্রি ইনস্টিটিউটের সংরক্ষিত এলাকা, ছাত্র হল সংলগ্ন এলাকায় গত কয়েক বছর ধরে লাগানো হয়েছে এ্যাকাশিয়া আর ইউকেলিপটাস প্রজাতির গাছ। দ্রুত বর্ধনশীল হলেও এসব গাছ অধিক পানি শোষণ করে। ফলে অন্য কোন গাছ এর পাশে বেড়ে উঠতে পারে না। দেশীয় পাখিরাও এসব গাছে বাসা বাঁধে না।
অধ্যাপক সৈয়দ আসমত বলেন, ক্যাম্পাস ‘ইন্দো বার্মা হট স্পট’ এলাকায় হওয়ায় প্রাণীবৈচিত্র্যের সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু বিদেশি প্রজাতির গাছের কারণে পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে। বেশি করে দেশি গাছ লাগানোর মাধ্যমে পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল গড়ে তুলতে হবে। পাখি সপ্তাহ এবং পাখি উত্সব করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রাণিবিদ্যা বিভাগকে দায়িত্ব দিলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তা আন্তরিকতার সাথেই পালন করবে।
প্রাণিবিজ্ঞানী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক ছাত্র সাজিদ আলী হাওলাদার বলেন, সর্বশেষ ১৯৯৯ সালে হওয়া পাখি শুমারির পর আর কোন শুমারি হয়নি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। এছাড়া ২০০৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয় বার্ড ক্লাব গঠিত হয়েছিল। পাখি সংরক্ষণে গণসচেতনতা গড়ে উঠা দূরে থাক এখন তারই অস্তিত্ব নেই।
