দীর্ঘ প্রতীক্ষা। কখন আসবে ১২.১২.১২! অবশেষে এলো বহু প্রতীক্ষিত সেই দিনটি। এ দিনটির জন্য অপেক্ষা করতে হবে অন্তত একশ বছর। ২১১২ সালের ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। সারাদেশের মানুষই চেয়েছিল এই দিনটিকে স্মৃতির মিনারে চিরঅম্লান করে রাখতে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারাবিশ্বের কোথাও এ নিয়ে আনন্দ আর উচ্ছ্বাসের কমতি ছিল না। তবে বয়স্কদের চেয়ে তরুণ-তরুণীদের মাঝেই এর উচ্ছ্বাস বেশি লক্ষ্য করা যায়। তাই কেউ বসেছে বিয়ের পিঁড়িতে। কেউবা ছুটে গেছে প্রিয়জনের কাছে। কেউবা পাড়ি জমিয়েছে কোন ঐতিহাসিক স্থানে কিংবা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর নয়নাভিরাম কোন পর্যটন কেন্দ্রে।
আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরাও এ দিনটিকে স্মৃতির ডায়েরিতে অম্লান করে রাখতে চেয়েছি। চেয়েছি মুক্ত আকাশে ডানা মেলে মেঘের সাথে ভেসে বেড়াতে। তাই সিদ্ধান্ত হল ‘আনন্দ ভ্রমণের’। স্থানঃ নীলগিরি, বান্দরবান। শ্লোগান ঠিক হলঃ ‘সীজ দ্যা ডেই, এ্যান আউটিং টু নীলগিরি অন ১২.১২.১২।’
কনকনে শীত। গাছের ডগা থেকে শিশিরকণা আছড়ে পড়ছে মাটিতে। বেরিয়ে পড়েছি আমরা। সবার গায়ে নেভি-ব্লু ‘টি-শার্ট’। যেন এক প্রভাত ফেরি। সকাল সাতটা। যাত্রা হল শুরু। কুয়াশার বুক চিরে বাস এগিয়ে চলছে বান্দরবানের দিকে। নটা দশ মিনিটে বাস পৌঁছে যায় বান্দরবানে। বাস থেকে নেমে সকালের নাস্তা। তারপর এদিক সেদিক ছুটাছুটি আর অবাক হয়ে পাহাড়ি আর বাঙালিদের মিলনমেলা দেখা। তারপর পাখির ঝাঁকের মত আবার সবাই একত্র হওয়া। যাত্রা এবার বান্দরবান শহর থেকে স্বপ্নের নীলগিরি। ভাড়া করা হলো ‘চান্দের গাড়ি’। বেলা পৌনে এগারটা। পাড়ি জমাল মেঘের দেশে চান্দের গাড়ি। আঁকাবাঁকা পাহাড়ের কোল ঘেঁষে এগিয়ে চলছে চান্দের গাড়ি। কখনো পাদদেশে, কখনও বা আবার হাজার ফুট উঁচুতে পাহাড়ের চূড়ায়। রাস্তার দুধারে পাহাড়ি বাচ্চারা মনের আনন্দে খেলা করছে। মনে হয় যেন প্রকৃতির সন্তান। আমাদের উচ্ছ্বাস দেখে কেউ কেউ হাত উচিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছিল। দেখতে দেখতে হঠাত্ চোখে পড়ে একটি সাইনবোর্ড ‘ক পেরোলেই নীলগিরি’। ক্ষণিক পরই গাড়ি থামল স্বপ্নের সেই নীলগিরিতে। এবার মেঘের দেশে হারিয়ে যাওয়া।
অবশেষে চলে আসতে হলো নীলগিরি থেকে। জলপ্রপাত, নীলাচল আর স্বর্ণমন্দির এখনো যে বাকি! অবশ্য সময় স্বল্পতার কারণে নীলাচল যাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে লুফে নিলাম সমুদ্রপৃষ্ট থেকে প্রায় ৩৬০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত চিম্বুক পাহাড়ে উঠা। এছাড়াও শৈল জলপ্রপাত ও স্বর্ণমন্দির আমাদের মাঝে বিলিয়ে দিয়েছে আনন্দের নতুন মাত্রা। পুরো ভ্রমণটা যারা আনন্দমুখর করে রেখেছিল তারা হলোঃ বুলবুল, আ. হাই জোসেফ, রাহাত, প্রবাল, ইব্রাহীম, মাহবুব, বাবর ও জাহাঙ্গীর। সারাদিন ঘুরে ফিরে পাখি যেমন নীড়ে ফিরে, আমরাও তেমনি সন্ধ্যার পরপর নীড়ের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাই। আস্তে আস্তে আঁকাবাঁকা আর উঁচু-নিচ পাহাড় এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য চোখের আড়াল হয়ে যায়। কিন্তু হূদয়ে যে দাগ কেটেছে তা অম্লান হয়ে থাকবে চিরকাল।
