মু খো মু খি

টিভি উপস্থাপকরা শিল্পীদের ঠিকভাবে সম্মান করতে জানেন না

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৫৩
বাংলাদেশের ব্যান্ড জগতের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী হাসান। দেশের সংগীতপ্রেমীদের উপহার দিয়েছেন অসংখ্য অসাধারণ গান। আজ এই কণ্ঠশিল্পী তার গান থেকে দীর্ঘদিনের বিরতি, সাম্প্রতিক সময়ের ব্যস্ততা, অডিও শিল্পসহ আনুষাঙ্গিক বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিন-এর সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন রবি হাসান, ছবি দীপঙ্কর দীপু দীর্ঘদিন ধরেই আপনার কোনো নতুন গান বা অ্যালবাম নেই। এ বিষয়ে কী বলবেন? বাজারে আমার নতুন গান নেই বলে যে আমি থেমে আছি তা কিন্তু নয়। আমি ও আমার দল নিয়মিতই গানের প্র্যাকটিস করছি। নতুন গান করছি। গানের মধ্যেই বেঁচে আছি, আর গানকেই সময় দিচ্ছি। তবে বাজারে নতুন গান না আসার পেছনে কারণ তো অনেক। অডিও ইন্ডাস্ট্রির নেতিবাচক কারণ সম্পর্কে অনেক বলেছি, আর কত বলব। অনেকটা হাঁপিয়ে গিয়েছি, কেউ শোনে না। তারপরও কিছুদিনের মধ্যে ব্যাপক আকারে পুরো মিডিয়াকে জানিয়ে হাজির হচ্ছি। একটু ভিন্নতা থাকছে। এই ভিন্নতাটা কী? শ্রোতাদের জন্য কোনো উপহার, না কি অডিও শিল্পের দুর্নীতি দূর করার কোনো আন্দোলন? এটা শ্রোতাদের জন্য উপহারই বলা চলে। অনেকগুলো গান নিয়ে একটি অ্যালবাম বের করতে যাচ্ছি। এখন আমার যা সময়, সব এর পেছনেই ব্যয় করছি। এই যে দীর্ঘ বিরতি, তার ফলস্বরূপও বলা যায় এই অ্যালবামটিকে। অ্যালবামটি প্রসঙ্গে একটু বিস্তারিত বলেন— আসলে আমি যে ধরনের গান গাই, যে ধরনের গানের জন্য আমার জন্ম হয়েছে, যে ধরনের গান গাইতে আমি পছন্দ করি, যেসব গানে মাটি ও শেকড়ের গন্ধ আছে, যেসব গান আমি আগে গেয়েছি—সেইসব গান থাকবে এই অ্যালবামে। কিন্তু আমার এসব মাটির গানে কেউ আমাকে চেনে না। মানুষ আমাকে চেনে ‘এত কষ্ট কেন ভালোবাসায়’-এর সিঙ্গার হাসান নামে। আসলে আমি এই ধরনের গানের শিল্পী নই। আমি আগেও মাটি ও শিকড়কে নিয়ে ভাবতাম, এখনও ভাবি। এবারের অ্যালবামে আমি শ্রোতাদের এসব গান উপহার দেবো। অ্যালবামে কিছু পুরোনো গানও থাকছে, যা আমি নতুন করে আবার তৈরি করেছি। আপনি তো বামবার একজন সদস্য। কিন্তু বামবার কোনো কনসার্টে আপনাকে দেখা যায় না কেন? আমি ঠিক জানি না, বামবা আমাকে কেন ডাকে না। শুধু কনসার্ট না, তাদের কোনো মিটিংয়েও আমাকে ডাকে না। এর কোনো কারণ আমার জানা নেই। কোনো টিভি লাইভেও তো আপনাকে দেখা যায় না। এর কারণ কী? আমি টিভি লাইভে ইন্টারেস্ট পাই না। বলতে পারেন এটা একটা জেদ। আবার কিছুই না। ইচ্ছে হয় না। তবে মাঝে মাঝে খুব বিরক্ত লাগে এসব লাইভের উপস্থাপকদের আচরণে। এমনসব লোক উপস্থাপনা করছে, যারা ওই অনুষ্ঠানের শিল্পী সম্বন্ধে একেবারেই জানে না। ন্যূনতম জ্ঞানটুকু রাখে না তারা। যেমন ধরুন, মাঝে মাঝে উপস্থাপক বলে উঠে ‘এত কষ্ট কেন ভালোবাসায়’ গানের শিল্পী হাসান আমাদের আজকের অতিথি। আরে, তুমি তো আগে জান, তারপর উপস্থাপনায় বস। এ শুধু আমার কথা বলছি না, আমি অনেক লাইভ দেখেছি। এসব টিভি উপস্থাপকরা ঠিকভাবে শিল্পীদের সম্মান করতে জানেন না। আপনার গান নিয়ে নতুন এই আয়োজন কবে নাগাদ শ্রোতাদের সামনে আসবে? খুব বেশি দিন না। প্রায় সবকিছুই গুছিয়ে ফেলেছি আমরা। এখন বলা যায় এটা প্রচার ও প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আগামী বছরের শুরুর দিকেই বিরাট আয়োজনের মধ্য দিয়ে সবাইকে জানানোর মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিকতা করব। তারপর পুরোপুরি সক্রিয় হবো মিডিয়াতে। আপনিতো কিছুদিন আগে একটি টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন। এ প্রসঙ্গে কিছু বলুন— আসলে টেলিফিল্মটি নিয়ে এখনই কিছু বলতে চাচ্ছি না। এই টেলিফিল্মটি পুরোই ব্যক্তিগত একটি টেলিফিল্ম। সম্পূর্ণ আমার উপরে ভিত্তি করেই এর গল্প ও নির্মাণ শৈলী। ওই যে, আগে বললাম না—আমি যে ধরনের গান করতে চাই তার উপরেই ডিপেন্ড করে গল্প তৈরি হয়েছে। গান নিয়েই তো আমার জীবন। আমার জীবন দর্শনই পাওয়া যাবে এই টেলিফিল্মে। এর বেশি আপাতত কিছু বলতে চাই না এই টেলিফিল্মের বিষয়ে। এখনকার তরুণ শিল্পীদের বিষয়ে কী বলবেন? তরুণ শিল্পীদের জন্য আমার শুভেচ্ছা। আমিও একটা সময় তরুণ ছিলাম। তবে এখনকার শিল্পীদের মধ্যে মূলধারার কোনো ব্যান্ড দেখছি না। ব্যান্ডের গানের উপরে কোনো গান হয় না। কিন্তু এখনকার বাজারে নতুন ব্যান্ডের দল আসতে দেখছি না। কাউকে একটি ব্যান্ডের গান দিয়ে বাজার মাতাতেও দেখছি না। এখন তো মিডিয়ার ব্যাপকতা অনেক বেশি। প্রচার ব্যবস্থাও অনেক সহজ। এখনই যদি তারা না পারে তাহলে আর কবে পারবে। আমরা যখন গান করেছি তখন চ্যানেল ছিল একটা। এখন চ্যানেল আছে প্রায় ত্রিশটা। এফএম স্টেশনও ভুরি ভুরি। তারপরও তেমন কাউকে বেরিয়ে আসতে দেখছি না। আগে আমাদের একটি গান তৈরির পর বিটিভিতে লাইন দিতে হতো। এখন তো সেই দিন নেই।