কী মনে হয়—তুলনামূলকভাবে সময়টা পজেটিভ না নেগেটিভ?
আমার জন্য বললে অবশ্যই পজেটিভ। কেননা আগের চেয়ে খুব ভালো কাজ করছি এবং সামনের এপ্রিলের মাঝেই আমার অনার্স শেষ হয়ে যাবে, তখন হয়তো আরও বেশি কাজ করতে পারব। সময়ের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া মানুষের ধর্ম। সময়ই মানুষকে বলে দেয়, পথিক পথ ওদিকে নয় পথ এদিকে। সুতরাং যে অবস্থায়ই হোক বা যে কারণেই হোক নিজেকে মানিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে বড় ব্যাপার। এ ক্ষেত্রে আমি বরাবরই নিজেকে ভালো রাখার চেষ্টা করি। মিডিয়াতে আমার পথচলা সব সময়ই অনেক বেশি সহজ ছিল। খুব বেশি ঝামেলা আমাকে পোহাতে হয়নি।
বর্তমানে ব্যস্ততা কী নিয়ে?
বর্তমানে কাজের ব্যস্ততা একটু বেশি। এই মুহূর্তে সিরাজগঞ্জে শুটিং করছি জাহিদ হাসানের একটি নাটকে, তারই বিপরীতে অভিনয় করছি। দেবাশিষ বড়ুয়ার একটি একক নাটক করছি এবং মোহন খানের একটি ধারাবাহিকে নাম ভূমিকায় অভিনয় করার কথা রয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়টি নাটকের কাজ চলছে এই মুহূর্তে মনে আসছে না। মিডিয়ায় কাজ করতে এসেছিলাম ভালোলাগা থেকে সেই ভালোলাগার কাছে সত্ থাকতে চাই এবং পরিশ্রম করতে চাই নিজেকে আরও প্রমাণ করার জন্য। কেননা দর্শকদের ভালোবাসাই আমাকে এতটা পথ পারি দিতে সহায়তা করেছে।
কোন ধরনের নাটকে কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?
বর্তমানে আমাদের স্ক্রিপ্টের মধ্যে অনেক বৈচিত্র্য এসেছে। এখন আর নির্দিষ্ট প্রেম-ভালোবাসার মধ্যে আমাদের নাটক আটকে নেই। দৈনন্দিনের নানা ধরনের ঘটনাগুলোই উঠে আসছে আমাদের নাটকগুলোতে, সে ক্ষেত্রে আমাদের নাটকগুলোও অনেকবেশি জীবনঘনিষ্ঠ। আমি সব সময়ই ধারাবাহিক নাটক থেকে এক ঘণ্টার নাটকে অভিনয় করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি নাটকের পরিসমাপ্তি ঘটে, তাই আমার মতে অনেক অভিনয়শিল্পীরই এক ঘণ্টার নাটক বেশি পছন্দের। আর এক ঘণ্টার নাটকে চরিত্রের মাঝে ভিন্নতা থাকে, এতে অভিনয়ের দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব। তবে আমি বরাবরই নাটকের চরিত্রকে বেশি গুরুত্ব দিই। যেকোনো চরিত্রের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়াই একজন অভিনেত্রীর মূল কাজ।
ব্যক্তিগত জীবন এবং মিডিয়া দুটি সামাল দেন কীভাবে?
ব্যক্তিগত জীবন এবং মিডিয়া দুটোকেই আমি আলাদা রাখি, কিন্তু তারপরও মাঝে মাঝে তা চলে আসেই, কেননা আমার ব্যক্তিগত জীবন এবং মিডিয়া দুটোর সাথেই আমিই জড়িত। দেখা যায় একটা ভালো কাজ করার জন্য আমাকে আউটডোরে বেশি থাকতে হচ্ছে তখন কিছু সমস্যা তো হয়-ই। কিন্তু তারপরও দুটো ক্ষেত্রকেই আমি সমানভাবে মিলিয়ে রাখার চেষ্টা বরাবরই করি, এ ক্ষেত্রে আমার পরিবারেরও একটি বিশাল সাপোর্ট রয়েছে। পরিবারের সহযোগিতা না থাকলে হয়তো আমার এতটা পথ পারি দেওয়া সম্ভব হতো না কখনও।
আপনার নাগরিক আনন্দ-বেদনা কতটুকু?
নাগরিক আনন্দ খুঁজে নিতে হয়, তবে নাগরিক বেদনা খুঁজে নেওয়া লাগে না, তা স্বাভাবিকভাবেই চলে আসছে। দেশের নাগরিক হিসেবে অবশ্যই দেশের কাছে আমার কৃতজ্ঞতা ও দায়বদ্ধতা আছে। নানা প্রতিকূলতার মাঝেও আমাদের দেশ কিন্তু ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে উন্নতির দিকে। কারও জন্য অপেক্ষা না করে নিজেরা নিজেদের দায়িত্ব যদি সত্ ও সঠিকভাবে পালন করি তাহলে সমাজে কোনো সমস্যাই থাকবে না। সবশেষে আমার দেশকে আমি একটি দুর্নীতিমুক্ত দেশ হিসেবে দেখতে চাই।
