বলিউড

আবার চুলবুল সালমান

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০১২, ১৮:৪৪
আবার চুলবুল পান্ডে রূপে দর্শকদের সামনে আসছেন সালমান খান। ২৩ বছরের ক্যারিয়ারে তার প্রথম সিক্যুয়েল মুভি ‘দাবাঙ টু’ মুক্তি পাচ্ছে এ সপ্তাহে। বছরের শেষ প্রান্তে মুক্তিপ্রাপ্ত এ ছবিটি নিয়ে হিন্দি সিনেমার দর্শকদের কৌতূহলের শুরু আরও অনেক আগেই। ২০১০-এর ব্লক বাস্টার মুভি দাবাঙের বিরাট সাফল্যের পর পরই এর সিক্যুয়াল তৈরির ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রযোজক আরবাজ খান। প্রথম ছবিতে ঝড়তোলা নায়ক চুলবুল পান্ডে মানে সালমান খান সিক্যুয়ালে আবার নতুন কোন চমক নিয়ে আসছেন, নতুন ছবির গল্পে কী থাকছে, ‘দাবাঙ টু’ বক্স অফিসে আগের সাফল্যের রেকর্ড ভাঙতে পারবে কি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে অনেক জল্পনা-কল্পনা চলছে বেশ অনেক দিন ধরেই। সালমান খান নিজেও তার অভিনীত চুলবুল পান্ডে চরিত্রটির ব্যাপারে বিশেষভাবে মনোযোগী। সালমান খানের নতুন ছবি ‘দাবাঙ টু’ এবং তার ক্যারিয়ার সাম্প্রতিক নানা বিষয় নিয়ে লিখেছেন রেজাউল করিম খোকন বলিউডের ট্রেড সার্কিটে গত বেশ কিছুদিন ধরে একটি গুজব চাউর হয়েছে। গুজবটি হলো, সালমান খান অভিনীত মুক্তি প্রতীক্ষিত ৪০ কোটি রূপি বাজেটে নির্মিত ‘দাবাঙ টু’ ছবির পরিবেশনা স্বত্ব ইউটিভির কাছে ১৪০ কোটি রুপিতে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এর আগে কোনো বলিউডি সিনেমার পরিবেশনা স্বত্ব। এত উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়নি। যদিও ‘দাবাঙ টু’ ছবির প্রযোজক সালমান খানের ছোট ভাই আরবাজ খান এ কথা অস্বীকার করে বলেছেন এসবের কোনো ভিত্তি নেই, সবই ভিত্তিহীন খবর, গুজব। গুজবই হোক কিংবা সত্যি হোক সালমান খান অভিনীত ‘দাবাঙ টু’ বক্স অফিস কাঁপানো ব্যবসা করবে এটা সবাই ধরে নিয়েছেন। এ বছর তার অভিনীত ‘এক থা টাইগার’ ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল গত রোজার ঈদ উত্সবে। প্রায় ৪ মাসের ব্যবধানে সালমান টাইগারের পর চুলবুল পান্ডে হয়ে আবার আসছেন দর্শকদের সামনে। ‘দাবাঙ’-এর চুলবুল পান্ডে চরিত্রটিকে বিপুলভাবে জনপ্রিয় করে তোলার ব্যাপারে তার সযত্ন প্রচেষ্টা ও বিশেষ মনোযোগ সবার চোখে পড়েছে। চুলবুল পান্ডের গেট আপ, লুক, সাজ পোশাক, ম্যানারিজম, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ—সব কিছুতেই সালমান খান আলাদা চমক আনতে সচেষ্ট ছিলেন। এ কাজে তিনি দারুণ সফল হয়েছেন। ‘দাবাঙ’-এর বিপুল সংখ্যক দর্শকের কাছে চরিত্রটি জনপ্রিয় করে তোলাটা ছিল সালমান খানের ক্যারিয়ারে উল্লেখযোগ্য একটি ব্যাপার। আর এ কারণেই ‘দাবাঙ’ ছবির সিক্যুয়াল নির্মাণে উদ্যোগী হন সালমান নিজেই। আগের ছবিটির মতো ‘দাবাঙ টু’ প্রযোজনা করেছেন সালমান খানের ছোট ভাই আরবাজ খান। আরবাজ এ ছবির পরিচালকও বটে। ‘দাবাঙ’ পরিচালনা করেছিলেন নবীন পরিচালক অভিনব কাশ্যপ। ওই ছবির নির্মাণকালে পরিচালক অভিনয়ের সঙ্গে নায়ক সালমানের মতবিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় ‘দাবাঙ টু’ পরিচালনায় অভিনবকে আর সুযোগ দেওয়া হয়নি। প্রযোজক-অভিনেতা আরবাজ খানই পরিচালকরূপে আত্মপ্রকাশ করেছেন এ ছবির মাধ্যমে। বলিউডে গুজব রয়েছে ‘দাবাঙ টু’ পরিচালনায় সালমান খানই প্রায় ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তবে আরবাজ খান তেমন কথা মানতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘সালমান ভাই এ ছবির নায়ক, পরিচালক নন, পরিচালনার কাজে তিনি মোটেও নাক গলাননি।’ ‘দাবাঙ টু’র গল্প নিয়ে দর্শকদের অনেক কৌতূহল। কিন্তু এ ছবির নির্মাতাগোষ্ঠী কাহিনী সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে কিছু ধারণা দেননি এখনও পর্যন্ত। তাদের বক্তব্য হলো আগের ছবির গল্প যেখানে শেষ হয়েছিল সেখান থেকেই ‘দাবাঙ টু’ শুরু হবে। ছবির প্রধান চরিত্র চুলবুল পান্ডের সঙ্গে গ্রামের সহজ সরল পিতৃমাতৃহীন তরুণী রাজ্জোর বিয়ে দেখানো হয়েছে আগেই। এবার তাদের দাম্পত্য জীবনের নানা ঘটনা দেখানো হবে। ‘দাবাঙ’ ছবির দুর্ধর্ষ ভিলেন ছিদি সিংয়ের মৃত্যুর ঘটনার মধ্য দিয়ে দুষ্টের দমন দেখানো হলেও ‘দাবাঙ টু’ ছবিতে মন্দ মানুষ ছেদি সিংয়ের বড় ভাই বাচ্চা ভাইকে দেখানো হবে। যে কানপুর শহরের অপরাধ চক্রের মূল হোতা। তার দোর্দণ্ড দাপট পুরো শহর জুড়ে। প্রভাবশালী বাচ্চা ভাইয়ের লোকজন সারা শহরে হত্যা, খুন, ডাকাতি, জবরদখল, মারামারি, ধর্ষণ ইত্যাদির মাধ্যমে নারকীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে রেখেছে। আগামী নির্বাচনে একজন প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাচ্চা ভাই। চুলবুল পাণ্ডে বাচ্চা ভাইয়ের আসল রূপ প্রকাশ করে দেয় জনগণের কাছে। তাকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠায়। ওদিকে বাচ্চা ভাইয়ের লোকজন চুলবুল পাণ্ডের পরিবারের লোকজনদের উপর হামলা চালায়। চুলবুল তার প্রিয়তমা স্ত্রী রাজ্জো, সন্তান, ভাইকে রক্ষা করতে সর্বশক্তি দিয়ে বাচ্চা ভাইয়ের বাহিনীর মোকাবেলা করে। শুরু হয় দু’পক্ষের লড়াই। ‘দাবাঙ টু’ ছবিতেও চুলবুলরূপী সালমান খানকে প্রচুর অ্যাকশন দৃশ্যে দেখা যাবে। ‘এক থা টাইগার’ ছবিতে একজন দুর্ধর্ষ ভারতীয় স্পাইয়ের চরিত্রে দুর্দান্ত অ্যাকশন দেখিয়েছেন তিনি। ‘দাবাঙ টু’ ছবিতেও সালমানের স্ট্যান্ট দৃশ্যগুলো দর্শকদের চমকে দেবে বলে জানা গেছে। আগের ছবিতে আইটেম সং ‘মুন্নী বদনাম হুয়ি’র মাধ্যমে দর্শক হূদয়ে ঝড় তুলেছিলেন মালাইকা অরোরা খান। এবার ‘দাবাঙ টু’তে মালাইকাকে আইটেম গার্ল হিসেবে দেখা যাবে না। তার জায়গায় কারিনা কাপুর নতুন আইটেম সং ‘ফেভিকল সে’ পারফর্ম করেছেন। ইতোমধ্যে কারিনার আইটেম সংটি সবার মুখে মুখে ফিরতে শুরু করলেও তা মালাইকার ‘মুন্নী বদনাম’কে ছাড়িয়ে যেতে পারবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। উল্লেখ্য ‘মুন্নী বদনাম’ এবং ‘ফেভিকল সে’ গান দুটির প্লেব্যাক শিল্পী একজনই। তিনি মমতা শর্মা। বলিউডে এ যাবত যতগুলো সিক্যুয়াল মুভি তৈরি হয়েছে তাতে প্রথম ছবির কোনো নায়িকা দ্বিতীয়টিতে আর নায়িকা হওয়ার সুযোগ পাননি। ‘দাবাঙ টু’তে সোনাক্ষী সিনহাই সর্বপ্রথম দ্বিতীয়বার সিক্যুয়াল মুভির নায়িকা হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এখানেও সোনাক্ষী আগের ছবির লুক, গেটআপ, হেয়ার স্টাইল নিয়ে উপস্থিত হচ্ছেন। ‘দাবাঙ টু’ ছবিটি ছোট-বড় সব বয়সী দর্শক যাতে একসঙ্গে বসে উপভোগ করতে পারে, অশালীনতা কিংবা আপত্তিকর কোনো দৃশ্যের কারণে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে না পড়ে সে ব্যাপারে সালমান খান নিজে যেমন সচেতন ছিলেন, তেমনিভাবে পরিচালক আরবাজ খানও মনোযোগী ছিলেন। এ ছবিতে অশালীন, আপত্তিকর, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য বিশেষ দৃশ্যের অবতারণা করা হয়নি। কারিনা কাপুরের আইটেম সং ‘ফেভিকল সে’ দেখেই এটা উপলদ্ধি করা যায়। ৪৬ বছর বয়সী সালমান খান এ বছর ‘এক থা টাইগার’ ছবির বিরাট ব্যবসায়িক সাফল্যের সুবাদে এমনিতেই তার অন্য দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শাহরুখ খান ও আমির খানের চেয়ে অনেকটা ভালো অবস্থানে রয়েছেন। অনেকে শাহরুখের বদলে সালমানকে নতুন বলিউড কিং হিসেবে আখ্যায়িত করতে চাইছেন। তার ‘এক থা টাইগার’ চলতি বছরে এ পর্যন্ত ২০৭ কোটি রুপি ব্যবসা করে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। সে তুলনায় শাহরুখ খানের ‘জাব তাক হ্যায় জান’ এবং আমির খানের ‘তালাশ’ বেশ কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। এবার ‘দাবাঙ টু’ ছবির দিকে তাকিয়ে আছে উত্সাহী দর্শক। এ ছবিতে চুলবুল পান্ডেরূপে দ্বিতীয়বার পর্দায় উপস্থিত হয়ে সালমান খান কত বড় সাফল্যের চমক সৃষ্টি করেন—তা দেখার জন্য।