টিভি মুখ

নতুন দিনের নাইম

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০১২, ১৮:৪৭
পাঠকদের নিশ্চয়ই মুরগি মার্কা ঢেউটিনের আইনস্টাইনের কথা মনে আছে। ওই বিজ্ঞাপনে ‘নতুন দিনের নতুন সিদ্ধান্ত’ সংলাপটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়। আর গ্রামীণফোনের সাম্প্রতিক বন্ধু প্যাকেজের বিজ্ঞাপনে কাজ করার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে এখন অতিপ্রিয় মুখ ফারুক সোবহান নাইম। পুরোদস্তুর কর্পোরেট দুনিয়ায় বসবাস করছিল যে ছেলে সে-ই একদিন হুট করে চলে এল অভিনয়ে। নিজের যোগ্যতাতেই একের পর এক করে গেছেন বিজ্ঞাপন, নাটক এমনকি চলচ্চিত্রও। নতুন দিনের নতুন এই প্রতিভাকে নিয়ে লিখেছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র ও ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু ২০০৭ সালের কথা। রুমানা রশীদ ঈশিতা ‘এক নিঝুম অরণ্যে’ নামে একটি নাটক পরিচালনা করছেন। নাইম তখন চ্যানেল আইয়ের মিডিয়া এক্সিকিউটিভ, সেই সুবাদে ঈশিতাকে সহযোগিতার জন্য নাঈম ধামরাই শুটিং লোকেশনে গেলেন। জীবনে প্রথম তারকাদের সামনে থেকে দেখা, তারপর লাইট, ক্যামেরা, শট সবকিছু মিলে নাঈমের মনে তখন নতুন এক স্পন্দন শুরু হলো। যদিও ২০০৪ সালের দিকে চ্যানেল আইতে ‘আইস্পিড’ নামে একটা অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা দিয়ে তিনি শুরু করেছিলেন। যাই হোক, হঠাত্ ঈশিতা নাঈমকে ডেকে বললেন, ‘এই নাটকের প্রধান চরিত্রে তুমি অভিনয় করবে, এটা আমার সিদ্ধান্ত।’ নাইম তো রীতিমত অবাক । ‘কোনো পূর্ব প্রস্তুতি ছিল না, তারপর কোনো রকম কাপড়-চোপড় জোগার করে অভিনেতা হিসেবে জীবনে প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালাম।’ শুরুর গল্পটা এভাবেই বললেন নাইম। খুবই দুষ্টু আর চটপটে স্বভাবের নাইমের জন্ম মানিকগঞ্জের গোপালপুরে। বাবা আব্দুল ওয়াদুদ সরকারি কর্মকর্তা হওয়ার কারণে ঢাকায় পড়াশোনা। ছোটবেলা থেকে প্রাণবন্ত এই ছেলেটি সারাক্ষণ বন্ধুদের সাথে আড্ডায় মেতে থাকতেন। নাটক ও সিনেমাপাগল এই ছেলে এখন পুরো পাল্টে গেছেন, অনেক সময় মেনে চলতে হয় তাকে আজ। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীনই ২০০৪ সালে চ্যানেল আইয়ে মার্কেটিং অফিসার হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। চাকরি জীবনে শখের বসে অভিনয় শুরু করলেও নাঈম এখন মডেল ও অভিনেতা। ২০০৮ সালে অমিতাভ রেজার পরিচালনায় মেরিল পেট্রোলিয়াম জেলির বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিষেক ঘটে তার। বর্তমানে বিভিন্ন চ্যানেলে তার করা গ্রামীণ ফোনের বন্ধু প্যাকেজের বিজ্ঞাপনটি দারুণ প্রশংসিত হয়েছে। ২০১০ সালে খিজির হায়াত খানের পরিচালনায় ‘জাগো’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তার। আর সম্প্রতি শেষ করেছেন সৈয়দ নাবিল আশরাফের নতুন চলচ্চিত্র ‘ভালোবাসার রংধনু’র কাজ। এখন নাঈমের বেশ কিছু ধারাবাহিক নাটক প্রচারিত হচ্ছে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে। এনটিভিতে রাইয়ান খানের ‘অচেনা প্রতিবিম্ব’, বাংলাভিশনে অরণ্য আনোয়ারের ‘কর্তা কাহিনী’ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। তা ছাড়া বেশকিছু এক ঘণ্টার নাটকেও অভিনয় করেছেন তিনি। সেগুলোর মধ্যে কৌশিক শংকর দাসের ‘বন্ধুত্ব ভালোবাসা ইত্যাদি’, শিহাব শাহীনের ‘ইট কাঠের খাঁচা’, ইফতেখার আহমেদ ফাহমীর ‘পেন্ডুলাম’, রুমানা রশীদ ইশিতার ‘রবে নীরবে’ ও ‘বাতাস খুঁজে পেল কাশবন’ প্রভৃতি জনপ্রিয়তা পায়। নাইমের ব্যক্তিগত জীবনে বন্ধুর সংখ্যা একেবারেই হাতে গোনা হলেও এই মানুষটিই আজ দেশব্যাপী সবার বন্ধু, যেখানেই যাচ্ছেন সবাই ‘বন্ধু বন্ধু’ বলে ডাকাডাকি করছে। অভিনয়-দক্ষতায় পুরো দেশকে বন্ধু বানানো মামুলি কথা নয়। শুধু বিজ্ঞাপন নয়, নিয়মিত অভিনয় করছেন ধারাবাহিক ও একক নাটকে। তিনি মনে করেন, চরিত্রগুলো আসলে তার মাঝেই ছিল, যেগুলো অভিনয়ের মাধ্যমে বেরিয়ে আসছে। দর্শকের অপেক্ষা—মুক্তি প্রতীক্ষিত কাজগুলোতে নাঈম কী চমক আনছেন তাদের জন্য। আর নাঈমের অপেক্ষা—দর্শক তাকে আরও কতটা কাছের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে। ষোল কোটি মানুষের পর্দা বন্ধু হতে চান তিনি, সে জন্যই প্রতিদিন তার এক-পা দু-পা করে সামনে এগিয়ে যাওয়া।