ভারত-ইংল্যান্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজ

ভারতের শীর্ষে ওঠার লড়াই

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৫৬
ভারত এ বছরেই অনুষ্ঠেয় ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চারটি ম্যাচ জিততে পারলে আইসিসির টি-টোয়েন্টি টেবিলের শীর্ষে ওঠার সুযোগ পাবে। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম ঘরানার বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ভারত বর্তমানে ১২০ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটি আজ বৃহস্পতিবার পুনেতে অনুষ্ঠিত হবে। পুনের সুব্রত রায় সাহারা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শুরু হবে ম্যাচটি। পরেরটি হবে দুই সন্ধ্যা পর মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড় স্টেডিয়ামে। এরপর তারা মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের। পড়শিদের বিরুদ্ধে তাদের প্রথম খেলাটি হবে ২৫ ডিসেম্বর বাঙ্গালোরে। চারটি ম্যাচেই জিতলে ভারত ১২ পয়েন্ট পাওয়ার সুবাদে কেবল এক নম্বরেই উঠে আসবে না, বর্তমানে শীর্ষে থাকা শ্রীলংকার সাথে পাঁচ পয়েন্টের ব্যবধান গড়ে নিতে পারবে। ২০১১’র অক্টোবরে প্রথমবারের মতো র্যাংকিং চালু হবার পর এই প্রথমবারের মতো ভারতের সামনে টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের টেবিলের শীর্ষে উঠার সুযোগ এসেছে। কিন্তু ভারত যদি এই চারটির মধ্যে এক ম্যাচেও হারে সেক্ষেত্রে তারা বড়জোর দ্বিতীয় স্থানে থেকে বছর শেষ করতে পারে। আর যদি চার ম্যাচেই হারে তাহলে ১০৬ পয়েন্ট নিয়ে ভারত গড়িয়ে পড়তে পারে সপ্তম স্থানে। ইংল্যান্ড ও পাকিস্তান উভয়ই ভারতের বিরুদ্ধে খেলাগুলোয় জিতলে এক ধাপ উপরে উঠে আসবে। এদিকে র্যাংকিংয়ে দুইয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে দর্িক্ষণ আফ্রিকার। নিউজিল্যান্ডকে ৩-০ ম্যাচে হারাতে পারলে এই অগ্রগতি হবে তাদের। তবে বছর শেষে প্রোটিয়াসদের অবস্থান কি হবে তা নিশ্চিত হবে ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের সিরিজ দুটির ফলাফলের উপর। এরকম পরিস্থিতিতেই টেস্ট সিরিজ হারের ক্ষত ভুলে টি-টুয়েন্টি খেলতে নামছে ভারত। অ্যালিস্টার কুকের দল দীর্ঘ ২৮ বছর পর ভারতের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব দেখায়। তাই টেস্ট হারের ক্ষত ভুলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আবারো নিজেদের সেরারূপে ফিরতে মরিয়া ভারত। অবশ্য টেস্ট সিরিজ হারের প্রভাব ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে পড়বে না বলে ধারণা করা যায়। কেননা টেস্ট হারের স্বাদ পাওয়া বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই নেই এই ঘরানার ক্রিকেটে। কারণ টি-টোয়েন্টিতে বেশ কয়েকজন তরুণ খেলোয়াড় ভারতীয় দলে এসেছেন যারা টেস্ট সিরিজে ছিলেন না। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য নামগুলো হলো:সুরেশ রায়না, রোহিত শর্মা, আম্বাতি রাইদু ও আজিংকা রাহানে। সম্প্রতি ভারতের ঘরোয়া রঞ্জি ট্রফিতে নিজেদের বেশ ভালোভাবেই ঝালিয়ে নিয়েছেন তারা। এদের সাথে আছেন যুবরাজ সিং, ধোনি, গম্ভীর, ভিরাট কোহলি ও রবিন্দ্র জাদেজা। স্পিনের দায়িত্বে আছেন পযূষ চাওলা ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তবে পেস আক্রমণ মোটেও শক্তিশালী নয় ভারতের। ইনজুরির কারণে শেষ মুহূর্তে বিনয় কুমার ও লক্ষ্মীপতি বালাজি দল থেকে সরে দাঁড়ালে আক্রমণের গুরুদায়িত্ব পড়েছে অশোক দিন্দা, ভুবনেশ্বর কুমার, অভিমন্যু মিথুন ও পারবিন্দার আওয়ানার উপর। ইনজুরি সমস্যার সাথে পরিচিত হয়েছে ইংল্যান্ডও। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে টি-টোয়েন্টির নিয়মিত অধিনায়ক স্টুয়ার্ট ব্রড সিরিজ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলে দায়িত্ব পান মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ইয়ন মরগান। ব্রডের পরিবর্তে দলে সুযোগ পেয়েছেন জেমস হ্যারিস। ব্রড ছাড়াও দলে নেই কেভিন পিটারসেন, জেমস এন্ডারসন ও জনাথন ট্রট। ভারতের মতই তারুণ্যে ভরসা রেখেছে ইংল্যান্ডও। তবে টেস্ট সিরিজ জিতে ভারতের চাইতে মানসিকভাবে বেশ এগিয়ে আছে ইংলিশরা। সঙ্গত কারণেই জয় নিয়ে দেশে ফিরে বড় দিন উদযাপন করতে চায় ইংল্যান্ড। পরিসংখ্যানের বিচারে ভারতের চেয়ে এগিয়ে আছে ইংল্যান্ড। এখন পর্যন্ত পাঁচবার মুখোমুখিতায় তিনবার ইংল্যান্ড ও দুবার জয় পেয়েছে ভারত। গত সেপ্টেম্বরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও ইংল্যান্ড। গ্রুপ পর্বের ওই ম্যাচে ব্যাটসম্যান ও বোলারদের দুর্দাণ্ড নৈপুণ্যে ৯০ রানের বড় ব্যবধানে জিতেছিল ভারত।