যে কোন মূল্যে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ করতে হবে

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৪৭
নারী আমাদের কাছে সম্মানের। নারী আমাদের মা-বোন ও প্রিয়তমা। কিন্তু পরিবার থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে নারীর প্রতি সহিংসতা বিদ্যমান। তাই যে কোন মূল্যে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ করতে হবে বলে মত প্রকাশ করেছেন বক্তারা। এক্ষেত্রে ব্যান্ড সঙ্গীতের জনপ্রিয়তা বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা। গতকাল দৈনিক ইত্তেফাক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘ইউএনএফপিএ-বামবা ইয়ুথ কনসার্ট পরবর্তী ‘‘নারীর প্রতি সহিংসতাকে না বলুন’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় তারা এ মত প্রকাশ করেন। ‘নারীর প্রতি সহিংসতাকে না বলুন’ এই ক্যাম্পেইনের মিডিয়া পার্টনার দৈনিক ইত্তেফাকের পরিচালক তারিন হোসেন গোলটেবিল আলোচনায় স্বাগত বক্তব্য দেন। আলোচনায় অংশ নেন, বাংলাদেশে ইউএনএফপিএ প্রতিনিধি আর্থার আরকেন, জাতীয় প্রোগ্রাম অফিসার আসমা আক্তার, হেড অফ কমিউনিকেশন আফসানা তাহের, ইভেন্ট প্রধান তানভির খান, বামবার সভাপতি মাইলসের হামিন আহমেদ, সহ-সভাপতি ফোয়াদ নাসের বাবু (ফিডব্যাক) ও মাকসুদুল হক, সাধারণ সম্পাদক শেখ মনিরুল আলম টিপু (ওয়ারফেইজ), টিভি মিডিয়া পার্টনার চ্যানেল নাইনের পক্ষে কাজী শহীদুর রহমান ও রেডিও পার্টনার রেডিও ফূর্তির রিলেশন ম্যানেজার নাবিলা মাহবুব এবং দৈনিক ইত্তেফাকের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আশিস সৈকতসহ বামবার সদস্যরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দৈনিক ইত্তেফাকের বিনোদন প্রতিদিনের বিভাগীয় সম্পাদক তানভীর তারেক। আর্থার আরকেন তার বক্তব্যে বলেন, প্রতিদিন আমরা খবরের কাগজে অসংখ্য নারী সহিংসতার খবর পাই। কোথাও নারীদের শরীরে এসিড নিক্ষেপ হচ্ছে, কোথাও নারীরা আত্মহত্যা করছেন, কোথাও আবার মানসিকভাবে তাদের নির্যাতন করা হচ্ছে। অথচ আমরা এটাও জানি কোনো সত্যিকারের পুরুষ কোন নারীর ওপর এমন সহিংস আচরণ করতে পারেন না। এটা কোনো দেশের সংস্কৃতিও নয়। ‘নারীর প্রতি সহিংসতাকে না বলুন’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে খুলনায় ৩য়বারের কনসার্টের সফল আয়োজন করেছি। কনসার্টের মাধ্যমে আমরা যুব সমাজে এই বার্তা পৌঁছে দিতে চাই। তারিন হোসেন বলেন, একজন নারী হয়ে দেশের নারীদের প্রতি প্রতিনিয়ত সহিংস আচরণ আমাকে কষ্ট দেয়। দৈনিক ইত্তেফাক সামাজিক কার্যক্রমের সঙ্গে বরাবরই জড়িত। নারীর প্রতি সহিংস আচরণ রোধ এবং নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইত্তেফাক সংবাদ, মহিলা অঙ্গন এবং পাক্ষিক অনন্যার মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। তিনি মনে করেন, নারীর প্রতি সদয় হওয়ার বার্তা তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে ব্যান্ড সঙ্গীত সময়োপযোগী উদ্যোগ। এই উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পেরে ইত্তেফাক এবং তিনি নিজেও গর্বিত। আফসানা তাহের বলেন, তরুণদের সচেতন করতে পারলে ভবিষ্যতে নারীর প্রতি সহিংস আচরণ অনেক কমে যাবে, কারণ তারা নিজেদের সমৃদ্ধ করতে পারে, শিখতে পারে। সে উদ্দেশ্যেই বামবাকে এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। কারণ তরুণদের কাছে ব্যান্ড সঙ্গীত যেমন জনপ্রিয় তেমন এই শিল্পীরা তাদের রোল মডেল। তাই তাদের কথাকে তরুণরা বিশ্বাস করবে এবং মেনে নিবে। হামিন আহমেদ বলেন, এই স্লোগানকে যদি আমরা অন্তরে ধারণ করি এবং তরুণদের কাছে উপস্থাপন করি তাহলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে তা পৌঁছে দেয়া যাবে। বামবা সব সময় সামাজিক অপরাধ রোধে ভূমিকা রাখে। যেহেতু গান তরুণ প্রজন্মের ক্রেইজ, তাই গান নিয়েই নারীর পাশে বামবা সবসময় থাকবে। ফোয়াদ নাসের বাবু বলেন, ইউএনএফপিএ’র সঙ্গে থেকে আমরা চেষ্টা করছি মিউজিকের মধ্য দিয়ে নারীর পারিবারিক সহিংসতা রোধ করতে। মাকসুদুল হক বলেন, আমরা গানে কথায় বেশিরভাগ সময় নারীকে দোষী করি। পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব নিয়ে গান লেখা বন্ধ করে নারীর প্রতি সহায়ক গান লিখতে হবে। শেখ মনিরুল আলম টিপু বলেন, এই স্লোগানটি খুবই শক্তিশালী, আমাদের এমন আরও স্লোগান নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। উল্লেখ্য, নারীর জন্য নিরাপদ সমাজের লক্ষ্যে ২০১০ সাল থেকে ‘ইউএনএফপিএ-বামবা ইয়ুথ কনসার্ট আয়োজন করছে। গত ৭ ডিসেম্বর খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে মেগা কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়। এবার ১২টি ব্যান্ড নিয়ে হয় এ কনসার্ট। এর মধ্যে রয়েছে নগরবাউল, ওয়ারফেইজ, মাকসুদ ও ঢাকা, ফিডব্যাক, প্রমিথিউস, দলছুট, লালন, শিরোনামহীন, নেমেসিস, মেকানিং, বেদুইন এবং দৃক। আলোচনার শুরুতে কনসার্টের অংশবিশেষ নিয়ে একটি তথ্যচিত্র দেখানো হয়।