স্তব্ধ-স্তম্ভিত বার্সেলোনা

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৩৫
মাঠে ইতিহাসের সফলতম সময়টা কাটাচ্ছে তাদের ক্লাব। মৌসুমের শুরুর ১৬ ম্যাচের ১৫টিতেই জয় নিয়ে স্প্যানিশ ফুটবলের নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করে চলেছে তারা। তাদের লিওনেল মেসি একটার পর একটা বিশ্বরেকর্ড করে চলেছেন। মাত্র আগের দিনই সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ক্যান্সারজয়ী এরিক আবিদাল। আগের দিনই মেসি-পুওল-জাভি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন ক্লাবের সঙ্গে। সময়টা কাতালানদের জন্য আনন্দ আর আনন্দের হয়ে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু নিয়তির কী অদ্ভুুত পরিহাস! এমন আনন্দের সময়েই শোকের সমুদ্রে ভাসতে হচ্ছে আজ বার্সেলোনা সমর্থকদের, কাতালানদের। বার্সেলোনাকে এই শোকের চাদরে ঢেকে দিয়েছেন তাদের কোচ টিটো ভিলানোভা। পেপ গার্দিওলার বিদায়ের দায়িত্ব নেয়া এই কোচ দীর্ঘদিন ধরেই লড়ছিলেন ক্যান্সারের বিপক্ষে। এবার জানা গেল, মুখের এই ক্যান্সারটা খুবই ভয়ানক হয়ে ফিরে এসেছে এবং ছড়িয়ে পড়েছে শরীরের অনেক জায়গাতেই। বুধবার সকালে আকস্মিকভাবেই সংবাদ মাধ্যমে খবর আসে, টিটোর হাতে সময় খুব কম। মাত্র দু’দিনের মধ্যে অস্ত্রোপচার করাতে হবে টিটো ভিলানোভাকে এবং তারপরই শুরু করে কেমোথেরাপি এবং রেডিও থেরাপি শুরু হবে। বুধবারই ছিল বার্সেলোনার ক্রিসমাস পার্টির ঘোষণা আসার কথা। সাংবাদিক সমর্থকদের নিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই পার্টির ঘোষণা দিয়ে থাকেন ক্লাব সভাপতি। সেই ক্লাব সভাপতি দিনের শেষ দিকে সংবাদ সম্মেলনে এলেন ঠিকই; ক্রিসপার্টি বাতিলের খবর জানাতে! এই সংবাদ সম্মেলনেই তিনি নিশ্চিত করলেন, ক্যান্সারে আক্রান্ত টিটোকে অন্তত ছয় সপ্তাহ হাসপাতালে কাটাতে হবে। আপাতত কোনো অন্তর্বর্তীকালীন কোচ নিয়োগ দিচ্ছে না বার্সেলোনা। একেবারে মুখের সামনে থাকা ম্যাচগুলোতে এই দায়িত্ব সামলাবেন টিটোর সহকারী হিসেবে কাজ করা, বার্সা অ্যাকাডেমির আরেক ছাত্র জর্ডি রৌরা। টিটোর শরীরে প্রথম ক্যান্সার ধরা পড়ে ২০০৯ সালে। ২০১১ সালে একবার সফল অস্ত্রোপচারের পর ক্যান্সার নির্মূল হয়ে গিয়েছিল বলেই মনে করা হয়েছিল। কিন্তু কার্যত দেখা গেল, সে ক্যান্সার বিপুল বিক্রমে ফিরে এসেছে। মাত্র আগের ম্যাচেই বড় ব্যবধানে বার্সার জয়ের সময়ও সাইডলাইনে থাকা টিটোকে দেখে বোঝা যায়নি; বড় কিছু হতে চলেছে। অসুস্থতার নতুন এই খবর আসার আগেই অবশ্য তিনি সামপ্রতিক এক সাক্ষাত্কারে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, কিছু একটা সমস্যা আছে। বার্সেলোনাকে নিয়ে ভবিষ্যত্ পরিকল্পনার কথা জিজ্ঞেস করায় টিটো বলছিলেন, ‘লোকে মুখে বলে, একটা করে ম্যাচ নিয়ে ভাবার কথা। আমার আসলে একটা করে দিন নিয়েই ভাবতে হয়। আমি পরের দিন নিয়ে ভাবি না। আমি ভাবি শুধু আমার বাচ্চা দুটোর কথা।’ ঠিক এই কথাটাই সংবাদ সম্মেলনে বলছিলেন বার্সেলোনা সভাপতি আন্দ্রে রোসেল। সকালেই একটা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ‘গুরুতর কিছু’ ঘটেছে জানানোর পর বাংলাদেশ সময় ভোর রাতের দিকে সংবাদ সম্মেলনে আসেন ক্লাব সভাপতি। সেখানে অন্ধকার মুখ নিয়ে ক্লাবের খেলোয়াড়রাও উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে রোসেল বললেন, ‘টিটো মানসিকভাবে খুবই শক্ত আছে। আমি ওকে দেখে এসেছি। সে খুব শক্ত মানুষ। হাসছে। শুধু পরিবার নিয়ে একটু চিন্তায় আছে। আমি বলেছি, বার্সেলোনা এবং পৃথিবীর সব ফুটবল ভক্ত ওর পাশে আছে।’ টিটোর এই মারাত্মক অসুস্থতার খবরে সারা পৃথিবীর ক্রীড়াঙ্গনেই শোকের ছায়া দেখা গেছে। বার্সেলোনার পাশাপাশি স্পেনের আরও কিছু ক্লাব ক্রিসমাস পার্টি বর্জন করবে বলে খবর আসছে। তবে সবার কথা একটাই-এই লড়াইয়ে টিটোকে হারতে দেয়া চলবে না।