বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) প্রথম আসরে সেরা পারফরমার, সেরা আকর্ষণ ছিলেন সাকিব আল হাসান। এবার বিপিএল দ্বিতীয় আসরের নিলামেও তাকে সবার থেকে আলাদা করে রাখলো ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস। পাকিস্তানের শহিদ আফ্রিদিকে সর্বোচ্চ দাম দিয়ে কিনে নিয়ে গতবারও আলোচিত হয়েছিল ঢাকা। এবার দেশি-বিদেশি সব খেলোয়াড় মিলে সাকিবকে সর্বোচ্চ দাম দিয়ে কিনে আরেকবার আলোচিত হল গতবারের চ্যাম্পিয়নরা।
সিলেট রয়েলস ছাড়া বাকি ছয় ফ্রাঞ্চাইজি সাকিবকে নেয়ার জন্য নিলামে সর্বোচ্চ দাম হাঁকে। শেষ পর্যন্ত গোপন খামে দর হাঁকিয়ে ঢাকা পরাস্ত করেছে দুরন্ত রাজশাহীকে। সাকিবকে কিনতে রাজশাহী দাম হাঁকিয়েছিল ২ লাখ ১৩ হাজার ডলার। অথচ, সবাইকে বিস্মিত করে ঢাকা দাম হাঁকে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ডলার। সেরা পাঁচের মধ্যে বাংলাদেশি খেলোয়াড় রয়েছে সাকিবসহ তিনজন। দুই লাখ ডলারের উপরে বিক্রি হয়েছেন মুশফিকুর রহিম ও নাসির হোসেন। গতবারের দেশিদের মধ্যে সর্বোচ্চ দাম পাওয়া নাসির এবার তৃতীয় সর্বোচ্চ দাম পেয়েছেন। বিপিএলের নতুন দল রংপুর রাইডার্স তাকে কিনেছে ২ লাখ ৮ হাজার ডলার দিয়ে। সর্বোচ্চ দামের তালিকায় পাকিস্তানের তিন তারকা রয়েছেন। ইমরান নাজির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পেয়েছেন ২ লাখ ৮০ হাজার ডলার। গতবার ঢাকার কাছ থেকে ৭ লাখ ডলার পাওয়া শহিদ আফ্রিদি তার পুরানো দলে খেলবেন ২ লাখ ৭৫ হাজার ডলারের বিনিময়। আর ‘এ’ ক্যাটাগরিতে থাকা আজহার মেহমুদ বরিশালের হয়ে খেলবেন ২ লাখ ৬ হাজার ডলারের বিনিময়ে। আফ্রিদি-নাজিরের মত বিপিএলের আরেক আকর্ষণীয় খেলোয়াড় শোয়েব মালিক। ৮৫ হাজার ডলার দিয়ে তাকে কিনেছে খুলনা রয়েল বেঙ্গল।
খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ দাম উঠার পর বাড়তি অর্থ থেকে বিপিএল ও ইভেন্ট ম্যানেজম্যান্ট প্রতিষ্ঠান গেম অন স্পোর্টসও ভাগ পাবেন। বাড়তি দামের শতকরা ৩০ শতাংশ পাবেন খেলোয়াড়রা, শতকরা ৬০ ভাগ পাবে বিপিএল কমিটি এবং বাকি ১০ শতাংশ পাবে গেম অন।
বিপিএলের প্রথম আসরে খেলোয়াড়দের বকেয়া পরিশোধে ফ্রাঞ্চাইজিদের গড়িমসির কারণে এবার বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলর খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ দাম কমিয়ে দেয়। দেশি খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে গোল্ডেন ক্যাটাগরির সর্বোচ্চ দাম ছিল ৪৫ থেকে ৭০ হাজার ডলার। ফ্লোর দামের তুলনায় সাকিব ও মুশফিকুরের মূল্য ছাড়িয়ে যায় দুই লাখের উপরে। আর বিদেশি গোল্ডেন ক্যাটাগরিতে আফ্রিদি ও নাজিরের মূল্য ছাড়িয়ে যায় দুই লাখের উপরে। আফ্রিদিকে ঢাকা কিনতে পারলেও নাজিরকে পেয়েছে চিটাগাং কিংস। তবে এই দলটির সবচেয়ে দুর্ভাগ্য হচ্ছে গতবারের আইকন খেলোয়াড় তামিম ইকবালকে এবার পায়নি। ১ লাখ ৬৫ হাজার ডলার দিয়ে দুরন্ত রাজশাহী কিনে নেয় এই তারকাকে। তবে তামিমকে না পেলেও অনেক ভালো দল গড়েছে বলে জানালেন চিটাগাং কিংসের চেয়ারম্যান সামির কাদির, ‘আমরা তামিমকে পাওয়ার অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্য, তবে আমাদের যে দল হয়েছে তা আগের তুলনায় অনেক ভালো দল করেছি’।
সর্বোচ্চ দাম দিয়ে সাকিবকে দলে ভেড়ানো ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসে এবারো দলে তারকার ছড়াছড়ি। সাকিব ছাড়াও রয়েছে মোহাম্মদ আশরাফুল, মাশরাফি বিন মুর্তজা, এনামুল হক বিজয়, তিলকরত্নে দিলশানসহ আরো অনেকে। আগের বিপিএলে খেলোয়াড়দের বকেয়া পরিশোধে গড়িমসির অভিযোগ ছিল দুরন্ত রাজশাহী ও ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের। কিন্তু এবারো অন্য দলগুলোর তুলনায় ঢাকাই সবচেয়ে বেশি টাকা দিয়ে খেলোয়াড় কিনেছে। এ প্রসংগে কথা বলতে গিয়ে ঢাকার চেয়ারম্যান সেলিম চৌধুরি কিছুটা বিরক্তি সহকারে বলেছেন, ‘আমরা প্রায় সব টাকাই পরিশোধ করেছি। আমরা যেহেতু বেশি দাম দিয়ে খেলোয়াড় কিনেছি, সেটা পরিশোধও করতে পারবো’। দল সম্বন্ধে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস চেয়ারম্যানের মন্তব্য, ‘আমরা এবারো চ্যাম্পিয়নের জন্য দল গড়েছি’।
খেলোয়াড়দের দাম কমিয়ে দেয়ার পরও বিপিএলের নিলামে ফ্রাঞ্চাইজিদের দর হাঁকানোর প্রতিযোগিতার কারণে তা কমেনি। বরং গতবারের মতই দেশি খেলোয়াড়রা দাম পেয়েছে। গোল্ডেন ক্যাটাগরির দাম যেমন বেড়েছে, তেমনি ‘বি’ ক্যাটাগরির দেশীয় খেলোয়াড়রাও এবার গতবারের চেয়ে দাম বেশি পেয়েছেন। মোহাম্মদ আশরাফুলকে খুলনা রয়েল বেঙ্গল ৬০ হাজার ডলার দিয়ে কিনলেও বি ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ দাম উঠেছে তরুণ খেলোয়াড় মোমিনুল হক সৌরভের। সিলেট রয়েলস তাকে কিনেছে ১ লাখ ২৭ হাজার ডলার দিয়ে। বিস্ময় হচ্ছে সর্বোচ্চ ফ্লোর দাম ছিল তার ৩০ হাজার ডলার। অথচ সর্বোচ্চ দাম হেঁকেছে পাঁচটি ফ্রাঞ্চাইজি। পরে লটারির মাধ্যমে সিলেট পেয়েছে তাকে। এবারের জাতীয় লিগে অসাধারণ বোলিং করা এনামুল হক জুনিয়রও বি ক্যাটাগরি থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দাম পেয়েছেন। চিটাগাং কিংস তাকে কিনেছে ১ লাখ ২১ হাজার ডলার দিয়ে।
দেশি খেলোয়াড়দের এ ক্যাটাগরি থেকে মাশরাফি বিন মুর্তজাও ভালো দাম পেয়েছেন। লটারির মাধ্যমে তাকে কিনেছে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস। তাকে ১ লাখ ৪১ হাজার ডলার দিয়ে কিনেছে ঢাকা। তরুণ অফ স্পিনার সোহাগ গাজীও ছিলেন সবার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। সিলেট রয়েলস তাকে কিনেছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ডলার দিয়ে। আর উদীয়মান খেলোয়াড় এনামুল হক বিজয়ের দাম উঠেছে ১ লাখ ২১ হাজার ডলার। ঢাকাই তাকে লটারির মাধ্যমে কিনেছে। ‘এ’ ক্যাটাগরির বিদেশিদের মধ্যে আব্দুল রাজ্জাকও ছিলেন সবার আকর্ষণ। রংপুর রাইডার্সকে পেছনে ফেলে রাজশাহী তাকে কিনেছে ৯১ হাজার ডলার দিয়ে।
