শীত: বাড়ে হূদরোগের ঝুঁকি

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:২৬
ধীরে ধীরে বাংলাদেশে শীতের আগমন ঘটছে, এ সময় মজা করে পিঠা পুলি খাওয়ার সাথে সাথে কিছু অস্বস্থিকর ব্যাপারও ঘটে থাকে, যেমন চামড়ার সমস্যা, জ্বর সর্দি কাশি ইত্যাদি। কিন্তু সবচাইতে মারাত্মক ব্যাপার হলো শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের ব্যথা, হার্ট এ্যাটাক ও এর মৃত্যু ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়। হাসপাতালের জরুরী বিভাগের তথ্য থেকে জানা যায় প্রতিবার শীতকালে হার্ট এ্যাটাকে রোগী ৩০ % থেকে ৫০% বৃদ্ধি পায়। শীতের প্রভাবে রক্তচাপের পরিমাণ ১২ থেকে ১৮ মিলিমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে যা গবেষণায় প্রমাণিত। শীতের প্রভাবে রক্তনালী সংকোচিত হওয়ার ফলে রক্তচাপ বৃদ্ধি ঘটে থাকে। শীতের প্রভাবে রক্তের উপাদানে অনেক পরির্বতন পরিলক্ষিত হয়। রক্ত জমাট বাধার জন্য দায়ী রক্তকনিকা, (Platelets) লোহিত কনিকা, ফিব্রিনোজেন এবং কোলেষ্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, ফলে রক্ত জমাট বাধার প্রবণতা বৃদ্ধি পায় শতকরা ২০ ভাগ পর্যন্ত। রক্ত জমাট বাধার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য হার্ট এ্যাটার্ক ও ষ্ট্রোকের প্রবণতা অনেক গুণ বৃদ্ধি পায়। গবেষণায় দেখা গেছে যে, অত্যাধিক শীতের প্রকোপে হার্টের অনিয়মিত হূদস্পন্দন শুরু হতে পারে, যার ফলে তাত্ক্ষণিক মৃত্যু ঘটাও অস্বভাবিক নয়। পেট ভরে খেয়ে ঠান্ডা আবহাওয়ায় হাটাহাটি করলে খুব সহজেই এনজিনার ব্যথা শুরু হয়ে যায়। যার জন্য রক্তনালীর সংকোচনকেই দায়ী করা হয়। যারা সুস্থ সবল তারা খুব সহজে ঠান্ডা জনিত এসব পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন, কিন্তু যারা শারীরিক ভাবে দুর্বল, বয়সের ভারে নূয্য, যারা বিভিন্ন অসুখ বিসুখে আক্রান্ত তারা এসব পরির্বতনের ফলে খুব সহজেই আরো বেশী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে এ ধরনের সমস্যা থেকে মুক্ত থাকার জন্য আপনার প্রস্তুতি এবং সতর্কতা আপনাকে ঝুঁকিমুক্ত থাকতে সাহায্য করবে। মনে রাখবেন ধীরে ধীরে শীত আসার চেয়ে হঠাত্ শীত ঝেঁকে বসলে শরীর পরিবর্তীত অবস্থার সাথে খাপ খাওয়ানোর সুযোগ পায় না বলে এ মূহুর্তে তাত্ক্ষনিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাবনা খুব বেশী। সতর্কতা ও করনীয় ১.চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী হূদরোগীগণ নিয়মিত ওষুধ সেবন করবেন ২.শীতের শুরুতে আপনার চিকিত্সকের সাথে পরামর্শ করে সঠিক চিকিত্সা ও ওষুধ পত্রের মাত্রা ঠিক করে নিন ৩.ঠান্ডা আবহাওয়ায় বাহিরে যাওয়ার সময় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং কাপড় সঙ্গে রাখুন ৪.বাহিরে হাঁটাহাঁটি করতে যাওয়ার সময় গরম কাপড়, জুতা, ছাতা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে নিয়ে বের হবেন ৫.বয়ষ্ক হূদরোগীগণ প্রতিদিন গোসল না করে একদিন পর পর হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করবেন। মনে রাখবেন খুব বেশি গরম পানি দিয়ে গোসল আপনার স্বাস্থ্যের উপর বিরুপ প্রভাব ফেলবে ৬.পুষ্টিকর খাবার গ্রহনের পরিমাণ বিশেষ করে শর্করা জাতীয় খাবার ১৫% থেকে ২০% বৃদ্ধি করা উচিত্। বয়ষ্ক হূদরোগীর শীতকালীন বৃষ্টির সময় ঘরের বাইরে না যাওয়াই উত্তম। ৭.নিয়মিত আবহাওয়ার পুর্বাভাস জেনে নিবেন যাতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহন করতে পারেন ডা: এম, শমশের আলী হূদরোগ বিশেষজ্ঞ চেম্বার: মুন ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ২০/২২ খিলজী রোড/বাবর রোড কলেজ গেইট, শ্যামলী, ঢাকা