মহাসড়কে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৫৮
গৌরনদী হাইওয়ে থানা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কারণে মহাসড়কে অপরাধ প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ: হাইওয়ে পুলিশ অপরাধ দমনের পরিবর্তে নিজে জড়িয়ে পড়েছে সড়কে চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মের সাথে। একাধিক সূত্র জানায়, ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরে গত ২৬ নভেম্বর রাত সাড়ে আটটার দিকে হাইওয়ে থানার সামনে একটি গ্রুপ নির্দয়ভাবে কুপিয়ে আহত করে প্রতিপক্ষ গ্রুপের রুমান (২২), ফেরদৌস (২০) ও হীরা (২২) নামক ৩ জন ছাত্রলীগ কর্মীকে। তাদের রক্তাক্ত দেহ দীর্ঘ সময় পড়ে থাকে হাইওয়ে থানার সন্মুখস্থ মহাসড়কের পাশে। পরেরদিন সকালে রুমান মারা যায়। ফেরদৌসের অবস্থাও আশংকাজনক, সে পঙ্গু হয়ে গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হামলাকারীরা ওই সময় হাইওয়ে থানার সামনে দিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ছুটাছুটি করে। গুলি ও বোমার শব্দে গোটা এলাকা প্রকম্পিত হয়। অথচ গৌরনদী হাইওয়ে থানায় ১ জন সহকারী পুলিশ সুপার, ১ জন ইন্সপেক্টর, ১ জন এসআই, ১ জন এএসআই, ২ জন হাবিলদার, ১ জন নায়েক ও ২০ জন কনস্টেবল থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তখন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। এ ঘটনায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও শংকা বিরাজ করছে। গত ১৮ নভেম্বর দুপুরে হাইওয়ে থানার সামনের একটি সেলুনের দোকানের পিছনে একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। ্ওইদিন বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সড়কপথে বরিশাল যাচ্ছিলেন। বোমার বিকট শব্দে আতংকিত হয়ে পড়েছিল পথচারী ও বাসস্ট্যান্ডের ব্যবসায়ীরা। গত ৯ ডিসেম্বর ভোর ৪টার দিকে ঢাকা বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদীর বার্থী, খাঞ্জাপুর ও ভুরঘাটা নামক স্থানে মহাসড়কের গাছ কেটে ও টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটাররা মহাসড়কে অবরোধ সৃষ্টি করে এবং কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে। ১১ ডিসেম্বর ভোর রাতে হাইওয়ে থানা থেকে মাত্র কয়েকশ’ গজ দুরে বাসস্ট্যান্ড মসজিদের দক্ষিণ পাশে গাছ ফেলে একটি চালবাহী ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করে কতিপয় দুষ্কৃতকারী। তারা ড্রাইভারের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। সড়কের গাছ কাটা, অবরোধ সৃষ্টি ও চালবাহী ট্রাকে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গৌরনদী থানা পুলিশ বাদী হয়ে পৃথকভাবে ২টি মামলা দায়ের করেছে। গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড সুপার মার্কেটের মা ও মনি জুয়েলার্সের মালিক সোহেল গোমস্তা ১৭ ডিসেম্বর রাত সাড়ে আটটার দিকে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে মোটর সাইকেলযোগে নিজ বাড়ি পতিহার যাচ্ছিল। গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডের দক্ষিণ পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সম্মুখে পৌঁছালে একটি মাইক্রোবাস দিয়ে মহাসড়ক ব্যারিকেড দিয়ে ব্যবসায়ী সোহেলের পথ রোধ করে। ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে সোহেলের হাতে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে মাইক্রোবাসে তোলে। এসময় অপহরণকারীরা সোহেলের ব্যবহূত মোটর সাইকেলটি মাইক্রোবাসে তোলার সময় সে ডাক-চিত্কার দিলে পথচারীরা এগিয়ে এলে অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়। এসময় স্থানীয়রা ধাওয়া করে মাইক্রোবাসসহ ড্রাইভারকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। গত ২০ দিনে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী এলাকায় পরপর কয়েকটি আইন-শৃংখলা বিরোধী কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে এলাকার লোকজনদের ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গৌরনদীতে একটি পূর্ণাঙ্গ হাইওয়ে থানা থাকা সত্ত্বেও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কারণে মহাসড়কে অপরাধ প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। পুলিশ মহাসড়ক পাহারা দেয়ার পরিবর্তে অবৈধ যানবাহনের চালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের কাজে সর্বদা ব্যস্ত থাকে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। মহাসড়কে ভটভটি, নসিমন, করিমন, চলাচলে সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তা সত্ত্বেও মাসিক নির্দিষ্টহারে মাসোহারার বিনিময়ে পুলিশ অবৈধ যানবাহন চলাচলে বাধা না দিয়ে অবৈধ কাজে সহায়তা করছে। এ কারণে মহাসড়কে দুর্ঘটনা বাড়ছে, ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে জান-মালের। গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদীর বাটাজোর নামক স্থানে একটি নছিমনের ধাক্কায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাঙামাটি জেলার পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ইলিয়াছ কবিরের ব্যবহূত একটি প্রাইভেট কার। পুলিশ কর্মকর্তাও এতে আহত হন। গৌরনদী হাইওয়ে থানা পুলিশ নসিমন ড্রাইভার অহিদের বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তার গাড়ির ক্ষতিপূরণ বাবদ ৯ হাজার টাকা আদায় করে তাকে নসিমনসহ ছেড়ে দেয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন টেম্পো, ভটভটি, নছিমন ও ট্রলিচালক জানান, তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রতিমাসে হাইওয়ে থানা পুলিশ ৩০০ টাকা করে আদায় করছে। মাস শেষে পুলিশের ক্যাশিয়ার আলাউদ্দিন এসে টাকা নিয়ে যায়। এছাড়া পুলিশ মহাসড়কের বিভিন্নস্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন চালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ইকবাল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, মহাসড়কে সংঘটিত দুর্ঘটন্ার বাইরে আমাদের কোন কিছু দেখার এখতিয়ার নেই।