অভিষেকেই দলকে জিতিয়ে তাক লাগালেন বসনিয়ান ডিফেন্ডার বোজান পেত্রিক।
লিগের প্রথম তিন ম্যাচে মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। ওই সময় মোহামেডানের বিরুদ্ধে হারতে দেখেছেন দলকে। শেখ রাসেলের কোচ মারুফুল হক শেষ পর্যন্ত ডিফেন্ডার রেজাউল করিমের হলুদ কার্ড থাকায় বোজান পেত্রিককে মাঠে নামান। এই বসনিয়ানও দলের রক্ষণভাগকে সামাল দিয়ে উপরে উঠে আবাহনীর বিরুদ্ধে পেশাদার ফুটবলে শেখ রাসেলের ১১ বারের মুখোমুখিতায় দ্বিতীয় জয় এনে দিয়ে কোচের পছন্দের প্রতিদান দেন।
পেত্রিক ৪০ মিনিটের সময় গোলটি করেন। মামুনুল ইসলাম ফ্রিকিক করে বল ফেলেন আবাহনীর গোল মুখে। সেখানে জটলা থেকে লাফিয়ে উঠে যেভাবে মাথা ছুঁয়েছেন তা হালের বিবর্ণ ফুটবলে খুব একটা দেখেনি কেউ। তার এই গোলটির উপর ভর করেই গতকাল শুক্রবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র ১-০ গোলে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনীকে হারিয়েছে। তবে ম্যাচ শেষে আবাহনীর কোচ বলেছেন তার দল ভয়ে হেরে গেছে।
শেখ রাসেল ও আবাহনীর মধ্যকার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচটা ছিল শিরোপা লড়াইয়ের বিচারে গুরুত্বপূর্ণ এক লড়াই। আবাহনীর জন্য সামনে এগিয়ে যাওয়ার আর শেখ রাসেলের কাছে ছিল শিরোপার স্বপ্ন টিকিয়ে রাখার লড়াই। না জিততে পারলে অনেক পিছিয়ে যেতে হবে। হারা যাবে না এমন এক শপথ নিয়ে মাঠে নেমেছিল কোচ মারুফুল হকের শেখ রাসেল। কিন্তু শক্তিশালি আক্রমণ ভাগ থাকা সত্ত্বেও এমিলি, মিঠুন, জাহিদরা জালে বল ঠেলতে ব্যর্থ হয়েছেন।
অচেনা পরিবেশে প্রথম খেলতে নামা ডিফেন্ডার বোজান পেত্রিককে মনে হচ্ছিল যেন অনেক দিনের চেনা কোনো ফুটবলার। শারীরিক গড়ন, রক্ষণভাগ সামাল দেয়ার চটপটে খেলা সহজেই নজর কেড়ে নিল সবার। কথা ছিল ডিফেন্স সামাল দেবেন। কিন্তু যখনই ফ্রিকিক পেয়েছে শেখ রাসেল তখনই তিনি দৌড়ে গিয়ে আবাহনীর গোল মুখে দাঁড়ালেন। আবাহনীর ডিফেন্ডার সুজন, ওয়ালী ফয়সাল, গানাইয়ান সামাদ ইউসুফরা বুঝতেই পারেননি সামনে বিপদ দাঁড়িয়ে রয়েছে। এক ঝটকায় লাফিয়ে উঠে হেড করে আবাহনীর জালে বল পাঠিয়ে দিলেন ১-০। এই গোলটি আর শোধ করতে পারেনি আবাহনী। অথচ এই গোলের আগেই ১২ মিনিটে শেখ রাসেলের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগটা হেলায় নষ্ট হয়েছে এমিলির কারণে। হাইতির ফরোয়ার্ড সনি নরডের দারুণ পাস থেকে পাওয়া বল গোল লাইনের মাত্র কয়েক গজ দূর থেকে ফাঁকা নেটে পাঠাতে পারেননি তিনি। বাইরে মারলেন এমিলি।
লিগে আগের চার ম্যাচে আবাহনী এতো বাজে খেলেনি। গতকাল হতাশ করেছেন ফ্রাঙ্ক, মিশু, থমাস ইয়োকো, প্রাণতোষ, ব্রাজিলীয় সিলভা, সুজনরা। সবচেয়ে ব্যর্থতা ছিল ফরোয়ার্ডদের। তারা শেখ রাসেলের ডিফেন্স ভাঙ্গতে পারেননি। পুরো ম্যাচে একবার সুযোগ পেয়েছিল আবাহনী। ৮৭ মিনিটে গোলটা শোধ হয়েই গিয়েছিল। ফ্রাঙ্ক পারেননি সুযোগটা কাজে লাগাতে। লিংকনকে কাটিয়ে শট নেয়ার মুহূর্তে দৌড়ে আসেন শেখ রাসেলের অধিনায়ক গোলকিপার বিপ্লব। ফ্রাঙ্ক শট করলে তা বিপ্লবের গায়ে লাগে। আবাহনী গোলের জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণ করে, শেখ রাসেলের বক্সে ঢুকে ফ্রাঙ্ক সরাসরি বসনিয়ান ডিফেন্ডার বোজান পেত্রিককে বুকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিলে এড়িয়ে যান রেফারি আব্দুল হান্নান মিরন।
শেখ রাসেলের মারুফুল হক খেলা শেষে বলেন, ‘আমরা শুরুতে প্রেসিং ফুটবল খেলেছি। গোল পেয়ে যাওয়ায় দ্বিতীয়ার্ধে কাউন্টার অ্যাটাকে খেলেছি। কারণ একটাই, দলটার নাম আবাহনী।’ তিনি আরো বলেন, ‘আগামী ম্যাচেও আমি এই দলটাকে নামাতে চাই।’ পেশাদার ফুটবলে এবারই প্রথম কোচ মারুফুল হক রেফারির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলেন। তিনি বলেন, ‘রেফারি আমাদের অনেকগুলো আক্রমণ নষ্ট করে দিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী যে কোনো দলের মূল্যবান খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার দায়িত্ব তার। কিন্তু সেটা ভুলে গিয়ে আমাদের ক্ষতি করেছেন।’
ম্যাচ হেরে আবাহনীর ইরানী কোচ আরদেশীর পরণামাথ জানালেন তার খেলোয়াড়রা সমর্থকদের ভয়ে খেলতে পারেনি। সব সময় খেলোয়াড়দের ভয়ের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এই ম্যাচ যদি অন্য কোনো শহরে হতো তাহলে আমরাই জয় পেতাম।’
তার অভিযোগ- সমর্থকরা স্বাভাবিক খেলা খেলতে দিচ্ছে না। যাই হোক ম্যাচ শেষে সব দোষ আমারই। কাউকে দোষ দেবে না। চেষ্টা করব সমস্যা সমাধান করার জন্য। না পারলে চলে যাবো।’
কয়েক বছর আগে আবাহনীর আর্জেন্টাইন কোচ আন্দ্রেস ক্রুসিয়ানিও দৃশ্যত সমর্থকদের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে চলে গিয়েছিলেন।
লিগের বড় এ লড়াইটির পর পাঁচ খেলায় আবাহনী ১০, শেখ জামাল ৪ খেলায় ১০ এবং শেখ রাসেল চার খেলায় ৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
আজকের খেলা
মোহামেডান ঃ আরামবাগ
(বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম, ৪টা ৩০)
মুক্তিযোদ্ধা ঃ বিজেএমসি
(গোপালগঞ্জ স্টেডিয়াম, ২টা ৪৫)
সকার ক্লাব ঃ ব্রাদার্স
(ফেনী স্টেডিয়াম, ২টা ৪৫)
