ভারত-ইংল্যান্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজ

ভারতের লক্ষ্য হোয়াইটওয়াশ

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:২৭
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ হেরে যাওয়ার পর দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ানো মহেন্দ্র সিং ধোনির ভারত আজ শনিবার মুম্বাইয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ (টি-টোয়েন্টি) ম্যাচটিও জিতে নিতে চায়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার পুনেতে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতে ভারত পাঁচ উইকেটের সহজ জয় তুলে নিয়েছিল। ভারতের পরবর্তী পরীক্ষা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সাথে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের ধারা ধরে রেখে তারা মোকাবিলা করতে চাইবে পড়শিদের। তাই ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে নিজেদের ভালভাবে উপস্থাপন করতে চাইবে ভারত। ভারত ও পাকিস্তান দুটি টি-টোয়েন্টি এবং তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে। প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি ২৫ ডিসেম্বর ব্যাঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত হবে। শ্রীলংকায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল। ইংল্যান্ড চাইবে বড় দিন এবং নতুন বছরকে বরণ করে নেয়ার আগে জয় নিয়ে দেশে ফিরতে। সিরিজ ২-০ করতে চাইলে ভারতকে অবশ্যই ব্যাটিং ও বোলিংয়ে জ্বলে উঠতে হবে। বোলিংয়ে শুরু এবং শেষের দিকে ভারতকে নজর দিতে হবে। অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা পারবিন্দার আওয়ানার শুরুটা ভাল হলো না। পেসার অশোক ডিন্ডার ওপর চড়াও হয়েছিলেন হার্ড হিটার অ্যালেক্স হেলস। ইংল্যান্ডের ডান-হাতি ওপেনার ৫৬ রান করেন সাত চার ও দুই ছয়ে। ডিন্ডা পরে ফিরেছেন ভালভাবেই। দুই উইকেট শিকার করেন তিনি। আর আওয়ানা নার্ভাস হয়ে পড়েন। দুই ওভারে ২৯ রান দেন তিনি। আজ তাই ভুবেনেশ্বর কুমার এবং অভিনব মিথুনকে দেখা যেতে পারে। রবিচন্দ্রন অশ্বিনের শুরুটা ভাল ছিল। একটি মেডেন ওভার করেন। বাঁ-হাতি ওপেনার মাইকেল ল্যাম্বের উইকেটটি তুলে নেন এই অফ স্পিনার। অশ্বিন ৩৩ রান দিয়ে একটি উইকেট পান। স্পিনার রবিন্দ্র জাদেজা ও পীযূষ চাওলা উইকেটশূন্য ছিলেন তিন ওভার বল করে যথাক্রমে ২২ ও ২৪ রান দিয়ে। ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন অলরাউন্ডার যুবরাজ সিং। বাঁ-হাতি এই স্পিনার ১৯ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন। হেলস ও লুক রাইটের গতি থামিয়ে দেন তিনি। ইংল্যান্ডের লড়াকু অধিনায়ক এউইন মরগ্যান দ্রুতই প্যাভিলিয়নে না ফিরলে রান আরো হতে পারতো। তিনি ম্যাচ শেষে বলেন, ‘আমাদের শুরুটা চমত্কার ছিল। অ্যালেক্স ও লুক জুটিবদ্ধ হয়ে তা করেছেন। আর এরপর আমরা এই গতিকে তরান্বিত করতে পারিনি।’ভারতীয় বোলারদের পাত্তা না দিয়ে হেলস ও রাইট দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৬৮ রান তুলে নেয় দ্রুত। যুবরাজ এই দুইজন এবং মরগ্যানকে আউট করে ইংল্যান্ডের রানের চাকার গতি রোধ করেন। ভারতের শুরুটা দারুণ করেন ওপেনার গৌতম গম্ভীর ও অজিনকা রাহানে। বোলিংয়ের মত ব্যাটিংয়েও দুর্দান্ত যুবরাজ। ২১ বলে ৩৮ রান করেন তিনি দুটি চার ও তিনটি ছয়ে। ফলে ভারত ১৩ বল বাকি থাকতেই সহজ জয় তুলে নেয়। যুবরাজের মত বিরাট কোহলিও (২১) দলকে ভাল সহায়তা করেন। সুরেশ রায়না ২৬ রানে রান আউট হন। তবে অধিনায়ক ধোনি (২৪ নটআউট) জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন। ইংল্যান্ডের কিছু সমস্যা ছিল ম্যাচের মাঝে। কার্যকরী হয়ে উঠতে পারেননি স্পিনার ড্যানি ব্রিগস। আবার আরেক অফ স্পিনার জেমস ট্রেডওয়েলের ক্ষুরধার বোলিং দেখা যায়নি। পেসার স্টুয়ার্ট মিকারের অতিরিক্ত বাউন্স বিপাকে ফেলে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের। পেসার টিম ব্রেসনান ও লুক রাইট ভাল করেছেন। যুবরাজ ম্যাচ সেরা হয়েছেন। ভারতের বিপক্ষে আগের তিন ম্যাচে ফ্লপ ছিলেন হেলস। অবশেষে এই ম্যাচে জ্বলে উঠলেন তিনি। ইংল্যান্ড আশা করছে ঝলসে উঠবে আবারো হেলসের ব্যাট ।