বিপিএল জমে ওঠা নিয়ে নানা প্রশ্ন

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৩১
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) নিলাম শেষ হওয়ার পর এখন দেশের ক্রিকেটামোদীদের কৌতূহল দ্বিতীয় আসরটি কতটা জমজমাট হবে তা নিয়ে। বিশেষ করে মারকুটে ক্রিস গেইল ও লাসিত মালিঙ্গাসহ এই আসরে খেলছেন না ওয়েষ্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান ও শ্রীলংকার অনেক খেলোয়াড়ই। গতবারের বেশ কয়েকজন তারকা এবার নেই অনেকেরই সংশয় বিপিএল জমে ওঠা নিয়ে। যদিও আয়োজকরা গতবারের তুলনায় এ আসরটিকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। না আসা ক্রিকেটারদের ছাড়াই দ্বিতীয় বিপিএলকে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারবেন বলে মনে করেন আয়োজকরা। ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মনে করছেন শহিদ আফ্রিদি, ইমরান নাজির, মারলন স্যামুয়েলস অথবা শোয়েব মালিকরা বিপিএলের পুরো সময় জুড়ে না থাকলে আকর্ষণে ভাটা পড়তে পারে। তবে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ রকিবুল হাসান মনে করেন গতবারের তুলনায় এবারের বিপিএল অনেক বেশি গোছানো হবে। তিনি বলেন, ‘গতবার তাড়াতাড়ির কারণে একটু অগোছালো হয়েছিল। এবার আরো গোছালো এবং আকর্ষণীয় হবে। যদিও অনেক খেলোয়াড় নেই, তবু গতবারের তুলনায় জমজমাট হবে’। এবারের বিপিএলে দেশীয় খেলোয়াড়দের কদর বেড়েছে। বলা বাহুল্য সর্বোচ্চ দামও উঠেছে দেশি খেলোয়াড়ের। তবে যাদের উপর ভরসা করে এবার ফ্রাঞ্চাইজিরা মাঠে নামবে, তারা কি আস্থার প্রতিদান দিতে পারবে? গতবারের চ্যাম্পিয়ন ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস এবারো শক্তিশালী দল গড়েছে। সাকিব আল হাসান তো আছেন, সঙ্গে যোগ হয়েছে শহিদ আফ্রিদি, মাশরাফি বিন মুর্তজা, মোহাম্মদ আশরাফুল, তিলকরত্নে দিলশান, লুক রাইট, ওয়াইজ শাহ। এদের সাথে পাল্লা দিতে পিছিয়ে নেই দুরন্ত রাজশাহী এবং সিলেট রয়েলস। সিলেট রয়েলসের চেয়ারম্যান নাফীস কামাল তো উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলেছেন, ‘আমরা পাঁচ খেলোয়াড়কে টার্গেট করেছিলাম। কিন্তু তিনটি পেয়েছি। বাকি দুজনকে পাইনি, তবুও এবার যাদের পেয়েছি তারা সবাই তারকা খেলোয়াড়’। সিলেটের এবার চমক জাতীয় দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। আর ওয়েষ্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হোম সিরিজে দুই তরুণ বিস্ময় খেলোয়াড় সোহাগ গাজী ও মোমিনুল হকও রয়েছেন। সিলেটের ইচ্ছা ছিল অবশ্য নাসির হোসেন ও এনামুল হক বিজয়কে নেয়ার। সেই স্বপ্ন পূরণ করেছে দুরন্ত রাজশাহী। তামিম ইকবালকে টার্গেট ছিল, সেটা পূরণ হয়েছে। সঙ্গে পেয়েছে হার্ডহিটার জিয়াউর রহমান জিয়া, আব্দুল রাজ্জাক, মোহাম্মদ সামিকে। বিপিএলের প্রথম আসরে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক দিয়ে ফ্রাঞ্চাইজিগুলো খেলোয়াড় কিনলেও পরিশোধের সময় বিভিন্ন সময় টালবাহানা করেছে । এ নিয়ে দেশে-বিদেশে অনেক সমালোচনাও হয়েছে । শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) হস্তক্ষেপে তা এখন নিরসনের পথে। দ্বিতীয় আসরে খেলোয়াড়দের দর বেঁধে দেয়া হলেও সেটা ছাড়িয়ে গিয়ে নিয়ম অনুযায়ী ফ্রাঞ্চাইজিরা গোপন খামে সর্বোচ্চ দাম দিয়েই কিনেছে খেলোয়াড়দের। বিসিবি যদিও ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়ে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক পরিশোধের দায়িত্ব নিয়েছে। তবুও এ নিয়ে ঝামেলা হতে পারে বলে আশংকা করছেন বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলরের সাবেক সদস্য সচিব সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। তিনি বলেন, ‘প্রথম আসরে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক ফ্রাঞ্চাইজিরা সময়মত পরিশোধ করেনি বিধায় এবার ন্যূনতম দর কমিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু গোপন খামে ফ্রাঞ্চাইজিরা আবারো বেশি দামেই খেলোয়াড়দের কিনেছে। ফ্রাঞ্চাইজিরা এই টাকা পরিশোধ করতে পারলে তো ভালো নয়তো এবার যদি প্রথম আসরের মত সমস্যা হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিপিএলের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে’। বিপিএলের নিলামে নাম ওঠেনি ওয়েষ্ট ইন্ডিজের অনেক খেলোয়াড়ের। শিবনারায়ণ চন্দরপল, দিনেশ রামপাশ, ব্রেন্ডন ন্যাশ, রিকার্ডো পাওয়েলের পাশাপাশি আছেন পাকিস্তানের ইয়াসির আরাফাত, খুররাম মানজুর, আয়ারল্যান্ডের নেইল ও ব্রেইনরা। এদের কারো কিনতে না চাওয়াটা অনেকের কাছে বিস্ময়ের ব্যাপার। এতকিছুর পরও বিপিএলের দ্বিতীয় আসর আকর্ষণীয় হবে বলে মনে করেন জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড়রা। তবে দেশি খেলোয়াড়দের পাশাপাশি তরুণদেরও প্রাধান্য দেয়া উচিত বলে মনে করেন রকিবুল হাসান। তিনি বলেন, ‘অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দুই কিংবা একজন খেলোয়াড়কে দলে নেয়া উচিত। দেশি খেলোয়াড়দের প্রাধান্য দেয়া হয়েছে এটা ভালো লক্ষণ বটে তবে বিপিএলকে পেয়ে যেন আমরা ক্রিকেটের দীর্ঘ পরিসরের খেলাটির কথা না ভুলে যাই সেই দিকেও খেয়াল রাখতে হবে’। সাত ফ্রাঞ্চাইজির সাথে চুক্তি আজ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বিতীয় আসর ঘনিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত সাত ফ্রাঞ্চাইজির সাথে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলরের কোন চুক্তি হয়নি। প্রথম বছর চুক্তি ছাড়াই বিপিএল অনুষ্ঠিত হয়। এবার নতুন কমিটি আসলেও বেশ কয়েকবার চুক্তির তারিখ পেছানো হয়। জানা গেছে, অবশেষে আজ শনিবার সাত ফ্রাঞ্চাইজির সাথে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলরের সাথে বারো বছরের চুক্তি হতে পারে। এ তথ্য জানিয়েছেন গভর্নিং কাউন্সিলর সদস্য সচিব ডা: এ আই এইচ মল্লিক। ফ্রাঞ্চাইজিদের সাথে এবার ইভেন্ট ম্যানেজম্যান্ট প্রতিষ্ঠান গেম অন স্পোর্টস নয় চুক্তি হবে বিসিবির। গেম অনের সাথে বিসিবির চুক্তি হয় ছয় বছরের জন্য। আর ফ্রাঞ্চাইজিদের সাথে চুক্তি হবে বারো বছরের। ছয় বছর পর যদি ইভেন্ট ম্যানেজম্যান্ট প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন হয়ে যায় সেক্ষেত্রে ফ্রাঞ্চাইজিদের সাথে চুক্তির বিষয়টি নিয়ে ঝামেলায় পড়বে বিসিবি। তাই কোন মধ্যস্থতাকারী নয়, সরাসরি ফ্রাঞ্চাইজিদের সাথে বিসিবি চুক্তি করবে। ইতোমধ্যে চুক্তির কপিগুলো সাত ফ্রাঞ্চাইজি ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস, বরিশাল বার্নার্স, সিলেট রয়েলস, খুলনা রয়েল বেঙ্গল, রংপুর রাইডার্স, দুরন্ত রাজশাহী ও চিটাগাং কিংসের কাছে পাঠিয়েছে বিসিবি। চুক্তির শর্ত নিয়ে কারো কোন দ্বি-মত নেই বলেও জানিয়েছেন বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলর সদস্য সচিব। বিসিবির সাথে ফ্রাঞ্চাইজিদের সরাসরি চুক্তির ফলে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিকের ব্যাংক গ্যারান্টি হিসেবে বিসিবি থাকবে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে। কোন ফ্রাঞ্চাইজি যদি খেলোয়াড়দের পারিশ্রামিক পরিশোধ করতে গড়িমসি করে তবে চুক্তির ব্যাংক গ্যারান্টি হিসেবে বিসিবি খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক পরিশোধ করবে বলেও জানিয়েছেন গভর্নিং কাউন্সিলর সদস্য সচিব।