রমনায় বাংলাদেশ উত্সবে ঐতিহ্যের পরশ

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৩৩
বাংলালিংক বাংলাদেশ উত্সব সাড়ম্বরে উদযাপিত হলো গতকাল শুক্রবার। রমনা পার্কে সারাদিন ধরে চলে এ উত্সব। এ উত্সবে বাংলালিংক সারাদেশ জুড়ে যে লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানগুলোয় সহযোগিতা করে তার এক পরিপূর্ণ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। সঙ্গীত, নৃত্য, নাটক থেকে শুরু করে নানা স্বাদের রকমারি ঐতিহ্যবাহী খাবার-ছিল বাংলাদেশের ঐতিহ্যের ধারাকে উপভোগের জন্য। বাংলাদেশ উত্সবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও পূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান, প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সংগঠক কামাল লোহানী, বাংলাদেশ নজরুল সঙ্গীত শিল্পী সংস্থার সভাপতি সুজিত মোস্তফা, রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী পরিষদের সভাপতি তপন মাহমুদ, বাংলাদেশ নৌকাবাইচ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল আওয়াল মজনুসহ বাংলালিংকের কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়াও হাজারো মানুষ স্বত:স্ফূর্তভাবে উত্সবে অংশগ্রহণ করেন। উত্সবে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন মঞ্চে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ফকির লালন শাহ থেকে শুরু করে দেশজ ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন সঙ্গীত যেমন- ভাওয়াইয়া, গম্ভীরা ইত্যাদি পরিবেশন করা হয়। এই সর্ববৃহত্ উত্সবে বিশেষ আকর্ষণ ছিল শিল্পী এসএম সুলতানের প্রতি উত্সর্গীকৃত ১০০ ফুট দীর্ঘ ক্যানভাসের চিত্রকর্ম যা বাংলাদেশে এ যাবত্কালের একটি বৃহত্ ক্যানভাস। শুধু তাই নয়, উত্সবে ছিল ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলি খেলা। যেখানে কুস্তিগির ও কুস্তিপ্রেমীরা জড়ো হন। এই কুস্তি রিংয়ে বলি চ্যাম্পিয়নরা সাধারণ অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে লড়াইয়ে অংশ নেন। উত্সবে আরো ছিল ঐতিহ্যবাহী পুতুল নাচ, বায়োস্কোপ, পথের যাদুশিল্পী, চোখ ধাঁধানো লেজার শো ইত্যাদি। পার্শ্ববর্তী লেকে আয়োজিত নৌকা বাইচ অভ্যাগত দর্শনার্থীদের মধ্যে দারুণ সাড়া জাগায়। সত্যিকারের বাইচের নৌকা; যেগুলো বিভিন্ন বছর বাংলালিংক নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছিল। উত্সবে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য দেশ নাটকের বিশেষ পরিবেশনা ছিল। ছিল লালন, দলছুট ও মাকসুদ এবং ঢাকা-র ব্যান্ড সঙ্গীত পরিবেশনা। সাবিনা ইয়াসমিন, এন্ড্রু কিশোর, বারী সিদ্দিকী, মিলন মাহমুদ, সাদী মোহাম্মদ, পারভেজ, এস আই টুটুল ও ফাতেমা তু্জ্ জোহ্রা গানে গানে দর্শকদের হূদয় ভরিয়ে দেন। উত্সব প্রসঙ্গে বাংলালিংকের মার্কেটিং সিনিয়র ডিরেক্টর শিহাব আহমাদ বলেন, বাংলাদেশের একটি নিজস্ব ও স্বতন্ত্র পরিচয় ফুটিয়ে তোলার দিকে বিশেষভাবে মনোযোগী বাংলালিংক। এই উত্সব তারই একটি ধারাবাহিক আয়োজনের ফলাফল।