বার মাসে তের পার্বন নিয়ে বাংলার সংস্কৃতি। সেই সংস্কৃতিকে ধারণ ও লালন করতে শীত আসার সাথে সাথে শীতের পিঠা খাবার ধুম পড়ে যায়। শীত বাড়ার সঙ্গে এই চাওয়া যেন আরো জেঁকে বসে বাঙালির মনে। আধুনিক জীবনে সেই গ্রামীণ আবহের স্মৃতিচারণ করতে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালির ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে ধানমন্ডির ‘জয়িতা’য় শুরু হয়েছে বিজয় মেলা ও পিঠা উত্সব।
গতকাল শুক্রবার বিকালে আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেড-এর সহযোগিতায় ধানমন্ডির রাপা প্লাজার এই পিঠা উত্সবের উদ্বোধন করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। নয় দিনব্যাপী এই বিজয় মেলা ও পিঠা উত্সব প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। দেশের বিভিন্ন জেলার প্রসিদ্ধ শীতের পিঠা নিয়ে সাজানো হয়েছে জয়িতার ৫ম তলা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, পিঠা বাঙালির একটি শিল্প। সেই শত বছরের ঐতিহ্য সমৃদ্ধ পিঠাশিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। এই শিল্পকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং নাগরিক জীবনের সঙ্গে গ্রাম-বাংলার পিঠা-পুলির একটি সেতুবন্ধন তৈরি করাও আমাদের উদ্দেশ্য। তাছাড়া বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা আমাদের কর্তব্য। বিদেশি বিভিন্ন ফাস্টফুডের ভিড়ে এখন গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী শীতের পিঠা এবং অন্যান্য পিঠাগুলো প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। তিনি বলেন, সকলে পরিবার পরিজন নিয়ে এই উত্সবে এলেই উত্সবের সত্যিকারের সার্থকতা আসবে। নয় দিনব্যাপী বিজয় মেলা ও পিঠা উত্সবকে ঘিরে প্রতিদিন বিকাল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত থাকছে বুলবুল একাডেমী অব ফাইন আর্টস-এর পরিবেশনায় দলীয় সংগীত, একক সংগীত, দলীয় নৃত্য, একক নৃত্য, যন্ত্র সংগীত, লোকসংগীত, রবীন্দ্র সংগীত, হারানো দিনের গান ও নৃত্যানুষ্ঠানের আয়োজন।
পিঠা উত্সবে পাওয়া যাচ্ছে, নকশি পিঠা, ভাপা পিঠা, নারকেল পুলি, ফুল পিঠা, পাটিশাপটা পিঠা, পাকন পিঠা, মুগ ডালের পিঠা, রস পিটা, ঝালর পিঠা, ফুলঝুরি পিঠা, আলুপিঠা ইত্যাদি। এ ছাড়াও থাকছে বাঁধাকপির খির, খেজুরের রসের খির ও ফিরনি-পায়েশ।
