পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির মতোই রহস্যে ঢাকা এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের পাকিস্তান সফর নিয়ে। খেলোয়াড়রা মুখে বলছেন, বিসিবি বললে তারা যেতে রাজী। আরেক দিকে খেলোয়াড়দের প্রতিনিধি সংস্থা জানাচ্ছে, খেলোয়াড়রা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পর্যায়ে অত্যন্ত দুশ্চিন্তার মধ্যে আছেন এই সফর নিয়ে।
তবে এর চেয়ে রহস্যময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সফরের অনুমোদন পাওয়া না পাওয়া নিয়ে। একদিকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান জাকা আশরাফ সংবাদ মাধ্যমকে বলছেন, তারা বিসিবির কাছ থেকে চূড়ান্ত সংকেত পেয়ে গেছেন এবং বিসিবির বোর্ড সভা এই সফর অনুমোদন করেছেন। আরেক দিকে বোর্ড পরিচালকরা বলছেন, তারা কিছু জানেন না। বোর্ডের মুখপাত্র হিসেবে কথা বলা আহবায়ক কমিটির সদস্য ডাক্তার এইচ মল্লিক গতকাল পরিষ্কার বললেন, ‘সভাপতি দেশের বাইরে। তিনি না ফেরা পর্যন্ত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে না।’
প্রশ্ন এখন এটাই—তাহলে জাকা আশরাফকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কে জানালো?
জাকা আশরাফের কথা সত্যি হলে, বোর্ডের যে পরিচালকরা এখানে ‘কিছু জানেন না’ বলছেন, তারাই পিসিবিকে সফরের চূড়ান্ত অনুমোদনের তথ্য জানিয়েছেন।
একটি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জাকা আশরাফ পরিষ্কার বলেছেন, ‘আমরা বিসিবির সঙ্গে এ ব্যাপারে প্রতিদিন যোগাযোগ রক্ষা করছিলাম। তারই ধারাবাহিকতায় তারা জানিয়ে, সফর এখন নিশ্চিত। একই সঙ্গে বিসিবি থেকে জানানো হয়েছে, সফরটা তাদের বোর্ড সভা অনুমোদনও করেছে।’
যদিও এটা এখন সর্বসাধারণে পরিষ্কার যে, আইসিসির প্রশ্ন এবং পাকিস্তানের চাপে সে দেশে বাংলাদেশ দলের সফরের ব্যাপারে বিসিবি রাজীই আছে। এটুকু বিসিবিও মানছে যে, তারা ‘নীতিগতভাবে’ এই সফর করতে ‘সম্মত’। কিন্তু নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও তারা নাকি নেননি।
অবশ্য বাইরের চাপের কথাটা কাল স্বীকার করে নিলেন ডাক্তার মল্লিক। তিনি বললেন, পাকিস্তানকে আগে লিখিতভাবে প্রতিশ্রুতি দেয়ায় বিসিবি এখন আন্তর্জাতিক মহলে একটা চাপের মুখে পড়েছে। পিসিবিও চাপ দিচ্ছে বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি। কিন্তু সর্বশেষ সিদ্ধান্ত দেয়ার ব্যাপারে তিনি বললেন, ‘আমি তার (জাকা আশরাফের) এই দাবির সত্যতা সম্পর্কে কথা বলার উপযুক্ত লোক নই।’
বিসিবি মুখে যাই বলুক, এখন পর্যন্ত আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বাংলাদেশ দলের পাকিস্তান যাত্রা একরকম নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছে। এই সফর অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় ক্রিকেটাররা অনেকেই এবং তাদের পরিবার বেশ দুশ্চিন্তিত হয়ে পড়েছেন বলে দাবি করছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পাল।
তিনি বলছেন, বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার এবং তাদের পরিবারের অনেকেই ফোন করে এ ব্যাপারে তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, ‘ক্রিকেটাররা প্রকাশ্যে কোড অফ কন্ডাক্টের কারণে অনেক কথাই বলতে পারছে না। তবে আমাদের কাছে তারা অনেকে এবং বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের পরিবার থেকে ফোন দিয়ে তারা উদ্বিগ্ন বলেই বলেছেন।’
একই সঙ্গে নিরাপদ বলে আন্তর্জাতিকভাবে ঘোষিত হওয়ার আগে পাকিস্তান সফরের ব্যাপারে নিজেদের আপত্তির কথাও জানিয়েছে কোয়াব। তাদের অবশ্য মূল অভিযোগের তীর বিসিবি বা পিসিবির দিকে নয়। তারা আইসিসির ভূমিকায় বিস্মিত বলেই বলছেন দেবব্রত, ‘আইসিসিই পাকিস্তানকে অনিরাপদ বলে সেখান থেকে বিশ্বকাপের ভেন্যু সরিয়ে নিল। তারাই বললো, এখানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিরাপদ নয়। তাহলে তাদেরই আবার দেশটি নিরাপদ বলে ঘোষণা করার দায়িত্ব রয়ে যায়। তারা কোনো মন্তব্য না করে এভাবে ‘দ্বিপাক্ষিক বিষয়’ বলে কিছু এড়িয়ে যেতে পারে না। আইসিসির এখানে অবশ্যই পরিষ্কার অবস্থান থাকা উচিত। তাদের ভূমিকা আসলেই বিস্ময়কর।’
