জেন্ডার সংবেদনশীল নীতিমালা বাস্তবায়ন জরুরি

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৪৯
সংবাদপত্রে নারীর উপস্থাপন: একটি আধেয় বিশ্লেষণ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেছেন, জেন্ডার সংবেদনশীল এবং নারীর অংশগ্রহণভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে জাতীয় প্রত্যেকটি সংবাদ মাধ্যমের নিজস্ব নীতিমালা থাকা ও বাস্তবায়ন জরুরি। পাশাপাশি চিন্তা চেতনায় পরিবর্তন আনতে হবে। তবেই নারী-পুরুষের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। গতকাল শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র ও বারসিকের যৌথভাবে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বারসিক ও বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের করা এক গবেষণায় দেখা গেছে গণমাধ্যমে রাজনৈতিক সংবাদে নারীর সংবাদ প্রচার হয় শতকরা ৯ দশমিক ৯৫ ভাগ, রাজনীতিতে নারীর ছবি প্রকাশিত হয় ১০ দশমিক ৯০ ভাগ। অর্থনীতি বিষয়ক নারী সংবাদ ৯ দশমিক ৯১ ভাগ প্রকাশ করলেও অর্থনীতি বিষয়ক নারীর ছবি ছাপা হয় ১৫ দশমিক ১৪ ভাগ। বিনোদন ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সংবাদে নারীর উপস্থিতি ৩৩ দশমিক ৯২ ভাগ হলে ছবিতে ৫৬ দশমিক ৪৭ ভাগ। ক্রীড়া বিষয়ক সংবাদে ৫ দশমিক ১৭ ভাগ এবং ছবিতে ১০ দশমিক ৪৭ ভাগ। এই তথ্য থেকে সহজে অনুমান করা যায় যে, গণমাধ্যমে নারীর উপস্থিতি কিছুটা সৌন্দর্যবন্ধনের বিষয়। কারণ তাদের সংবাদ যতটা না প্রকাশিত হয় তার চেয়ে বেশি প্রকাশিত হয় তাদের ছবি। বক্তারা বলেন, বাজার অর্থনীতির যুগে ভাবনার পরিবর্তন করতে হবে এবং তর্ক বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠতে হবে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এর গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১০ জন শিক্ষার্থী এ সংক্রান্ত একটি জরিপ পরিচালনা করেন। এতে দেশের ৭টি বিভাগের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও ক্রীড়া সংবাদে নারী বিষয়ক সংবাদ স্থান পায়। ১৫ দিনের সংবাদ বিশ্লেষণে রাজনীতির সংবাদ ছিলো মোট ৪ হাজার ৫৪২টি। যার মধ্যে সংবাদে নারীর অংশগ্রহণ দেখা যায় মাত্র ৪৪০টিতে (শতকরা ৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ), অর্থনীতি বিষয়ক সংবাদ ছিল মোট ১ হাজার ৮১৮টি, যার মধ্যে সংবাদে নারীর অংশগ্রহণ মাত্র ১৮৫টিতে (শতকরা ১০ দশমিক ১৭ শতাংশ), সাংস্কৃতিক সংবাদ ছিল মোট ১ হাজার ১৫৩টি, যার মধ্যে সংবাদে নারীর অংশগ্রহণ ৩৭৭টিতে (শতকরা ৩২ দশমিক ৬৯ শতাংশ) এবং ক্রীড়া সংবাদ ছিলো মোট ৩ হাজার ৬৫৭টি, যার মধ্যে সংবাদে নারীর অংশগ্রহণ মাত্র ১৮২টিতে (শতকরা ৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ)। বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনুর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক পারভীন সুলতানা ঝুমা, কোষাধ্যক্ষ আখতার জাহান মালিক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাজীব মীর, মানবাধিকার কর্মী সুলতানা বেগম, বারসিক এর সমন্বয়ক রোমাইসা সামাদ প্রমুখ।