রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প কারখানায় অগ্নি-দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিতকরণ এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের জন্য গঠিত টাস্কফোর্সের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন গার্মেন্টসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১১১ জন নিহত হবার পর তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ এই টাস্কফোর্স গঠন করে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), বিজিএমইএ, শ্রম মন্ত্রণালয় ও ফায়ার ব্রিগেডের সমন্বয়ে গঠিত এ দলটি তাদের পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করে। আশুলিয়ার বান্দো ডিজাইনিং লিমিটেডের মাধ্যমে পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু হয়। পরিদর্শন দলে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ছিলেন বুয়েটের অধ্যাপক একে এম মাসুদ, আর্কিটেক্ট প্রফেসর শাহ আলম জহির উদ্দিন, আর্কিটেক্ট খন্দকার তাজউদ্দিন। ফায়ার ব্রিগেডের পাঁচ সদস্য ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা, বিজিএমইএ’র সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ও সাবেক সহ-সভাপতি আতিকুল ইসলাম। আশুলিয়ার রোজ ড্রেসেস লিমিটেড কারখানা পরিদর্শন শেষে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ১০টি কারখানা পরিদর্শন করে বিশেষজ্ঞরা একটি গাইডলাইন তৈরি করে দিবেন। এর পর শ্রমিক নেতা, বায়ারদের প্রতিনিধি, শ্রম মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কিভাবে দ্রুত কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা যায় সে পদক্ষেপ নেয়া হবে।
অধিক রফতানি আদেশ পেতে বায়ারদের সন্তুষ্ট করতে এ উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এতোদিন আমরা উন্নতির জন্য কাজ করেছি। এখন বায়ারদের সন্তুষ্ট করতে যে রকম কমপ্লায়েন্স দরকার সেরকমই করার চেষ্টা করা হবে। এজন্য সকল কারখানা মালিকদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
বিজিএমইএ’র বাইরে থাকা কারখানাগুলোর বিষয়ে কি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা আমাদের শ্রমিকদের বাঁচাতে চাই। আশা করবো সরকার এ বিষয়ে এগিয়ে আসবে। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে পুরো দেশের গার্মেন্টস কারখানাগুলো পরিদর্শন করা হবে। পরিদর্শনের সময় যেসব কারখানায় খুব বেশি সমস্যা পাওয়া যাবে সেগুলোতে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২৪ নভেম্বর আশুলিয়ার তাজরীন ফ্যাশনসে আগুন লাগার পর ২৯ নভেম্বর জরুরি সাধারণ সভা ডেকে টাস্কফোর্স গঠনের কথা জানায় বিজিএমইএ। এ যাবত্ কালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তাজরীন গার্মেন্টেসের ১১১ জন শ্রমিক প্রাণ হারান। এতে শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিষয়ে দেশে-বিদেশে সর্বত্রই পোশাক মালিকদের উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়। বিদেশি বায়ারদের মধ্যে দেখা দেয় বিরূপ প্রতিক্রিয়া। অবশেষে এ খাতের উদ্যোক্তা ও সরকারের যৌথ উদ্যোগে এক ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নেয়া হয়। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তৈরি পোশাক খাত হারানো ইমেজ ফিরে পেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
