বেনিন শান্তিসেনা দিবসে বক্তারা শান্তি রক্ষায় নিহত সেনাকর্মকর্তাদের শ্রদ্ধা জানাতে স্মৃতিস্তম্ভ র্নিমাণের দাবি করেছে । গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে দিবসটির নবম বর্ষপূর্ত উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তরা এ দাবি জানান। কোয়ালিসন অব লোকাল এনজিও, বাংলাদেশ আয়োজিত সভায় বক্তারা আরও বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিজ দেশের সুনাম-সম্মান সমুন্নত করে শান্তি রক্ষায় সেনা প্রেরণে বাংলাদেশ শীর্ষে অবস্থান করছে এবং এক্ষেত্রে আমাদের নারীরাও শীর্ষ অবস্থানে আছে।
সংগঠনের চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী লেঃ কর্নেল(অব) এম ফারুক খান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, সংযুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মোসাদদেক হোসেন স্বপন, কানাডা-বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি শাহ্ আলম, আর্মি হেড কোয়ার্টার থেকে মেজর মোঃ মোস্তফা ইকবাল পিএসসি, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রর পরিচালক আকলিমা খাতুন প্রমুখ। এম ফারুক খান শহীদদের সম্মান জানিয়ে বলেন, সিয়েরা লিয়নে বাংলাদেশের শান্তি রক্ষীরা পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তাদের কাজে খুশি হয়ে সেদেশে ২য় রাষ্ট্রভাষা করা হয় বাংলা ভাষাকে। মোজাম্বিকে একই কারণে একটি রাস্তার নাম বাংলাদেশের নামে নামকরণ করা হয়।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বীরসেনাদের এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে বাঙালি ভীরু, কাপুরুষ নয়। অল্পদিনের ব্যবধানে আমারা ৪জন এভারেস্টজয়ী পেয়েছি, তার মধ্যে দুজন নারী, এরা জানে তাদের অভিযানে মৃত্যু হতে পারে, তারপরও তারা সাহসি হতে এভারেস্ট যাত্রা করেছে। একইভাবে শান্তি মিশনের সেনারাও তাদের মৃত্যুর পরওয়ানা নিয়ে দেশ ছাড়ে। নিজেদের দক্ষতা, পরিশ্রম আর মেধা দিয়ে দিনের পর দিন শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে, দেশে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠায়, দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে। কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশকে পিছিয়ে দিচ্ছে। দেশের গামেন্টস সেক্টর অন্যতম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের খাত হলেও সেখানে নেই কর্মীদের নিরাপত্তা।
মেজর মোঃ মোস্তফা ইকবাল বলেন, আমরা যখন কোন শান্তি মিশনে যাই তখন আমরা যে কোন দুর্ঘটনার জন্য প্রস্তুত হয়েই যাই। আমাদের পরিবারও সব জেনেশুনে দেশের সুনাম ও সম্মান রক্ষার্থে আমাদের শান্তি রক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনে বিদায় দেয়। তাই শান্তি মিশনে অংশগ্রহণে অন্যরকম এক আবেগ মিশে থাকে ।
বক্তারা আরও বলেন, ১৯৮৮সাল থেকে বিশ্বমানবতার কল্যাণে জাতিসংঘের আহ্বানে শান্তি রক্ষা মিশনে যোগ দেয় বাংলাদেশ। আজ অবধি ৪০টি দেশে ৫২টি শান্তি রক্ষা মিশনে যোগ দিয়ে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। উল্লেখ্য, ২০০৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর মধ্যরাতে জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশন শেষ করে দেশে ফেরার পথে আফ্রিকার বেনিনে এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় ১৫ জন সেনা কর্মর্কতা নিহত হন। তারা হলেন লে. কর্নেল আরেফিন, মেজর রওনক, মেজর রহিম, মেজর মুস্তাফিজ, মেজর মোশাররফ, মেজর ইমতিয়াজ, মেজর বাতেন, ক্যাপ্টেন মাবুদ, ক্যাপ্টন রফিক, ক্যাপ্টেন আরিফ, ক্যাপ্টেন জাহিদ, ক্যাপ্টেন আলাউদ্দিন ও ওয়ারেন্ট অফিসার শফিক। ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহের আগে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর এত বেশিসংখ্যক সেনার্কমর্কতা এক সঙ্গে মৃত্যুর ঘটনা আর ঘটেনি।
