ইনিংসের শেষ বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সেঞ্চুরি পূরণের পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডকে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে সমতায় ফেরালেন ওপেনার মার্টিন গাপটিল। গত রবিবার ইস্ট লন্ডনের বাফেলো পার্কে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে আট উইকেটে জয়ী হয় সফরকারীরা।
রোমাঞ্চকর ও নাটকীয় ভঙ্গিতে ডান-হাতি এই ব্যাটসম্যান টি-টোয়েন্টিতে প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পেলেন। দলের জয় ও ব্যক্তিগত অর্জন—দুইটিই এক সাথে পেলেন ২৬ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়। গাপটিল ৬৯ বলে ১০১ রানে উইকেটে অপরাজিত ছিলেন। ফ্লাডলাইট জটিলতায় ম্যাচটি ১৯ ওভারে নামিয়ে আনা হয়েছিল। স্বাগতিকরা ১৯ ওভারে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ১৬৫ রান সংগ্রহ করে। দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার ররি ক্লেইনভেল্ডের শেষ বলে বাউন্ডারি হাঁকান গাপটিল। ১৯ ওভারে সফরকারী নিউজিল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ডাক ওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ১৬৯ রানের (১৬৯/২)। শেষ বলে নিউজিল্যান্ডের জয়ের জন্য চার এবং সেঞ্চুরির জন্য গাপটিলের দরকার ছিল তিন রানের।
এই জয়ে নিউজিল্যান্ড সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতা আনল। আগামী বুধবার পোর্ট এলিজাবেথে তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। ডারবানে গত শুক্রবার প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি আট উইকেটে জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।
গাপটিল প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ছিলেন না। পাকস্থলি সমস্যার জন্য তিনি খেলতে পারেননি; কিন্তু এই ওপেনার ছয়টি ছয় এবং নয়টি চার হাঁকিয়ে বুঝিয়ে দিলেন নিজের সামর্থ্য। নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে সেঞ্চুরি করলেন। প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে এই কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন বর্তমান অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম।
গাপটিল অবশ্য এই ম্যাচে ভাগ্যদেবির সহায়তা পেয়েছেন। ৮৭ রানে নতুন জীবন পেয়েছেন। রায়ান ম্যাকলরেনের হাতে ধরা পড়েছিলেন; কিন্তু নো বলে বেঁচে যান। ৮৯ রানে তিনি আরো একবার জীবন পেয়েছেন। মরনে মরকেল বল করছিলেন; কিন্তু রবিন পিটারসন তালুবন্দী করতে পারেননি বলটি। ফ্লাড লাইট জটিলতার জন্য ৫০ মিনিট নষ্ট হয়। স্বাগতিকরা ১৬.১ ওভারে ১২৮ রান তুলেছে দুই উইকেটে। এই সময় চার ফ্লাড লাইটের একটির সমস্যা দেখা দেয়। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে হেনরি ডেভিস ৫৫ ও অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস ৬৩ রান করেন। নিউজিল্যান্ডের পেসার ডুগ ব্রেসওয়েল তিন উইকেট নেন ৩৩ রান দিয়ে। তবে এই তিনটি উইকেট এসেছে তার শেষ ওভারের চার বলের মধ্যে।
প্লেসিস ৪৩ বলে ৬৩ রান করেন আটটি চার ও একটি ছয়ে। দ্বিতীয় উইকেটে প্লেসিস ৬৮ রান তুলে নেন ডেভিসের সাথে জুটিবদ্ধ হয়ে। তৃতীয় উইকেটে তিনি ৭৯ রান সংগ্রহ করেন ডেভিড মিলারের সাথে। মিলার ১৮ বলে ৩৩ রান করেন।
