ভুঞাপুরে সংস্কারের অভাবে জর্জরিত স্মৃতিসৌধ

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:২৬
টাঙ্গাইলের ভুঞাপুর পৌর এলাকায় পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১৯৭১ সালের ২৩ অক্টোবর যুদ্ধে শহীদ আব্দুল কুদ্দুসের স্মৃতি রক্ষার জন্য একটি স্মৃতিসৌধের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তত্কালীন কাদেরিয়া বাহিনীর প্রধান আব্দুল কাদের সিদ্দিকী। পরে এটি ফ্লাগ মানচিত্রসহ ১৯৭১ সালের ২৩ ডিসেম্বর স্মৃতিসৌধ তৈরি হয়েছিল। ওই স্মৃতিসৌধটি বাংলাদেশের প্রথম ফ্লাগ মানচিত্রসহ স্মৃতিসৌধ বলে দাবি করেন ভুঞাপুরের মুক্তিযুদ্ধ গবেষক মামুন তরফদার। তিনি জানান, স্মৃতিসৌধটিতে মুক্তিযুদ্ধে মানচিত্রের রঙের ফ্লাগের জমিনে গাঢ় সবুজ রং করা হয়। মানচিত্রের রঙ দেন হলুদ আর মানচিত্রের মধ্যে খোদাই করা আঁকাবাঁকা নদীতে মানচিত্র ঘিরে সূর্যাকৃতি বৃত্ত করে লাল রং করেছিলেন। কিন্তু স্মৃতিসৌধটিতে প্লাস্টারের কাজ করতে পারেননি। কারণ ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সানিসং বাবাজী ১৯৭১ সালের ২৫ ডিসেম্বর ভুঞাপুর মুক্তাঞ্চলটি দেখতে চান। তাঁর সম্মানার্থে ফ্লাগ মানচিত্রটি নির্মাণ করা হয়। সানিসং বাবাজীকে আব্দুল কুদ্দুস ফ্লাগ মানচিত্র স্মৃতিসৌধের কাছে পতাকা উত্তোলনের পর আব্দুল হাকিম কোম্পানীর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের দ্বারা প্রথম গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। সাথে ছিলেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীসহ এলাকার মুক্তিযোদ্ধারা। এ বিষয়ে তত্কালীন কাদেরিয়া বাহিনীর বেসামরিক প্রধান আনোয়ার-উল-আলম শহীদ বলেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের অনেক ইতিহাস বিলুপ্তির পথে। স্বাধীনতা যুদ্ধে তৈরি আব্দুল কুদ্দুসের নামের স্মৃতিসৌধটি ভুঞাপুর ও টাঙ্গাইলে নয় সারা বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম স্বাধীনতার স্মৃতিসৌধ তা আজ গবেষণার বিষয়। ১৯৭২ সালে ২৪ জানুয়ারি টাঙ্গাইল পুলিশ প্যারেড ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে একটি স্বাধীনতার স্মৃতিসৌধের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। ভুঞাপুরে স্থাপিত শহীদ আব্দুল কুদ্দুসের নামের স্মৃতিসৌধটিই দেশের প্রথম স্মৃতিসৌধ হবে। আর স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন ফ্লাগ মানচিত্র তো কোথায়ও দেখা যায় না। তাই এই স্মৃতিসৌধটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনেক।