কথাটা আবেগে ভেসে যাওয়া কোনো সমর্থক বললে সমস্যা ছিল না। এমনকি এই সময়ের কোনো বিশেষজ্ঞ বললেও কথাটা খুব গুরুত্ব পেত না। কিন্তু সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হানিফ মোহাম্মদ স্বয়ং বলছেন, স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের চেয়ে ভালো ব্যাটসম্যান শচীন টেন্ডুলকার! একসময়ের বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যান হানিফ মোহাম্মদ স্যার ডন ও শচীন; দু’ জনকেই খেলতে দেখার অভিজ্ঞতা থেকেই বলছেন, শচীন টেন্ডুলকার বিনাতর্কে সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান!
হানিফ মোহাম্মদের এই প্রতিক্রিয়ার মতো আলোড়ন তৈরি করা প্রতিক্রিয়া না হলেও ক্রিকেটীয় দেশগুলো এখন ভেসে যাচ্ছে আরেকবার শচীন বন্দনায়। আর এই বন্দনা দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন খোদ টেন্ডুলকার। তিনি বলছেন, ভক্তদের কথাবার্তা ও ভালোবাসায় তিনি অভিভূত।
বাকি ভক্তদের কথা যেমন, তেমন; হানিফ মোহাম্মদের কথা বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হয়। তিনি ছিলেন আসল ‘লিটল মাস্টার’। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের দুনিয়া কাঁপানো এই ব্যাটসম্যানের উপাধিই পরে পেয়েছিলেন টেন্ডুলকার। পাকিস্তানের বিখ্যাত মোহাম্মদ পরিবারের সবচেয়ে বিখ্যাত মানুষ হানিফ সবসময়ই টেন্ডুলকারের ব্যাটিংয়ের ভক্ত। তবে এভাবে আগে কখনো রায় দেননি।
এবার হানিফ মোহাম্মদ পরিষ্কার বলে দিলেন, ‘আমি সেই সৌভাগ্যবান লোকেদের একজন যারা নিজের চোখে ব্র্যাডম্যান ও টেন্ডুলকারকে ব্যাট করতে দেখেছি। আমি শুনে তুলনা করছি না। দেখেই বলছি, আমার জীবনে দেখা সেরা ব্যাটসম্যান টেন্ডুলকার। ও সর্বকালের সেরা।’
শুধু এটুকু বলেই থেমে থাকছেন না হানিফ। তিনি বলছেন, টেন্ডুলকারের আরো বছর দুই ওয়ানডেও খেলা উচিত ছিল। এখনই তার এই ফরম্যাট থেকে সরে যাওয়ায় খুবই দুঃখ পেয়েছেন হানিফ, ‘আমি শুনে খুব কষ্ট পেয়েছি যে, টেন্ডুলকার ওয়ানডে থেকে অবসর নিয়েছে। আমি আশা করছি যে, ও অনেকদিন অন্তত টেস্টটা খেলে যাবে। আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়েছিল, যে যাই বলুক, ওর আরো দু’ বছর ওয়ানডে খেলা উচিত ছিল। তারপর এসব বিষয় নিয়ে ভাবা উচিত ছিল।’তবে এসব অবসর বা অন্য কোনো আলোচনায় হানিফ তার মূল বক্তব্য থেকে সরতে চান না। আবার মনে করিয়ে দিতে চাইলে, ‘আমার কাছে ওই সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান। আমি টেন্ডুলকারের চেয়ে কমপ্লিট ব্যাটসম্যান কখনো দেখিনি। আমি চিরকালই ওর ব্যাটিংয়ের ভক্ত।’
এই যে এক লিটল মাস্টার সম্পর্কে আরেক লিটল মাস্টারের যে প্রশংসা, তা যে কাউকে ছুঁয়ে যাওয়ার মতো ব্যাপার। সদ্যই দুই লিটল মাস্টারের মাধ্যমে আরো হূদয় ছুঁয়ে যাওয়া একটা ব্যাপার দেখতে পারে ক্রিকেট বিশ্ব। ভারতে দেখা হয়ে যেতে পারে দু’ জনের। পাকিস্তানের শুভেচ্ছাদূত হয়ে ভারত সফরে আসছেন হানিফ। আর তিনি চাইছেন, এই সফরেই টেন্ডুলকারের সঙ্গে দেখা করতে, ‘সম্ভব হলে আমি এই সফরে টেন্ডুলকারের সঙ্গে দেখা করতে চাই। ওর সঙ্গে কথা বলতে চাই। ওর ব্যাটিং দেখার অসাধারণ অভিজ্ঞতা হয়েছে বছরের পর বছর। এবার ওর সঙ্গে কথা বলার অভিজ্ঞতা পেতে চাই।’
একদিকে হানিফ যখন তার প্রিয় ব্যাটসম্যানের সঙ্গে দেখা করতে আসছেন; আরেকদিকে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব মেতে আছে টেন্ডুলকারের বন্দনায়। এসব বন্দনা ছুঁয়ে গেছে টেন্ডুলকারকেও। নিজের টুইটার পেজে সারা পৃথিবীর সমস্ত ভক্তকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘বছরের পর বছর যে ভালোবাসা এবং সমর্থন পেয়েছি, গত কয়েক দিন ধরে আপনাদের যে ভালোবাসা পাচ্ছি; তার জবাবে ধন্যবাদ দেয়ার মতো ভাষা আমার জানা নেই। আপনাদের প্রতিক্রিয়ায় আমার হূদয় উদ্বেলিত এবং আমার চোখ ভিজে যাচ্ছে।’
